৪১ বছরেও ভাগ্যোন্নয়ন হয়নি গ্রামপুলিশের

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:২৯
দেশের বৃহত্ উপজেলা রায়পুরার ২৪টি ইউনিয়নে কর্মরত গ্রামপুলিশের জীবনযাত্রা চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। যারা রাতের ঘুম হারাম করে গ্রামবাংলার মানুষ ও জানমালের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে, তাদেরই আজ জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। গ্রামপুলিশের পদবির পরিবর্তন হলেও আজো তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাদের বেতন দু’ভাগে বিভক্ত। অর্ধেক অংশ পান সরকার থেকে, বাকি অংশ পান ইউনিয়ন পরিষদ থেকে। বেতনের সরকারি অংশ মোটামুটি পেলেও ইউনিয়ন পরিষদের অংশ পেতে পোহাতে হয় নানা ঝামেলা। জানা যায়, দেশ স্বাধীনের পর গ্রামপুলিশের জন্য ২২০ টাকা বেতন ধার্য হয়। পরে ১৯৯৫ সালে বাড়িয়ে দফাদার পদের জন্য ১ হাজার ও চৌকিদার পদের জন্য ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো সারাদেশে দু’ঈদে বেতনের সমপরিমাণ বোনাস চালু করা হয়। বর্তমানে একজন দফাদারের বেতন ২১০০ টাকা যার মধ্যে স্থানীয় সরকার দেয় ৮০০ টাকা এবং কেন্দ্রীয় সরকার দেয় ১৩০০ টাকা। অন্যদিকে একজন গ্রামপুলিশের বর্তমান বেতন ১৯০০ টাকা যার মধ্যে স্থানীয় দেয় ৮০০ টাকা এবং কেন্দ্রীয় সরকার দেয় ১১০০ টাকা। উল্লেখ্য এই উপজেলার ২৪টি ইউনিয়নে দফাদারসহ মোট ২৪০ জন গ্রামপুলিশ নিয়োজিত। এর মধ্যে প্রতি ইউনিয়নে একজন করে দফাদার রয়েছে। কিন্তু জীবনধারণের ন্যূনতম মজুরি পাচ্ছেন না তারা। একজন দিনমজুর বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে পাচ্ছে ২০০-২৫০ টাকা। আর সেখানে একজন গ্রামপুলিশ গড়ে প্রতিদিনের মজুরি পড়ে মাত্র ৬৩ টাকা। গ্রামপুলিশের জন্য বরাদ্দ জ্যাকেট, জুতা, ক্যাপ, হারিকেনও সঠিকভাবে তারা পাচ্ছে না।