বিসিআইএম-এর সেমিনার

মন্দা সত্ত্বেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:২৫
আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নে গঠিত বিসিআইএম (বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার) ফোরামের দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সেমিনার গতকাল শুরু হয়েছে। রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার-ইন এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক। ঢাকায় এ সেমিনারের আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সিপিডি’র ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ সরণ, চীনা রাষ্ট্রদূত লী জুন, মায়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিয়ো মিন্ট থান। ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ সরণ তার বক্তব্যে বলেন, বিসিআইএসভুক্ত দেশগুলোতে বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর ৪০ শতাংশ বাস করে। দক্ষিণ এশিয়ার স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বাণিজ্যসুবিধা বাড়াতে ভারত ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শুল্ক মুক্ত সুবিধা দিয়েছে। বাংলাদেশের সাথে সীমান্ত বাণিজ্যের অনেক উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সীমান্তে কয়েকটি স্থল বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য নীতি গ্রহণ এবং বাস্তবতার মধ্যে ফারাক রয়েছে। এদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। চীনা রাষ্ট্রদূত লী জুন বলেন, বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো তাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধরে রাখতে পেরেছে। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ, চীন, ভারত এবং মিয়ানমারের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। চীনা সরকার এ দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, চারটি দেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে বিসিআইএম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রধান অতিথি পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশগুলোর মোট জিডিপির আকার প্রায় ৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সুযোগ বাড়ানো সম্ভব হলে এ দেশগুলো বিশ্বের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করতে পারবে। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান মূল উপস্থাপনায় উল্লেখ করেন, ভারত ও চীন অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশ। এ দু’টি দেশের মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশেরও সম্ভাবনার দিক রয়েছে। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পাশপাশি প্রায় ২৮০ কোটি মানুষের আবাসস্থল হওয়ায় এ অঞ্চলের গুরুত্ব আরো বেশি। তিনি জানান, ফোরামে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে দেশগুলোর মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হবে। যেখানে চার দেশের বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। কার র্যালি: বাংলাদেশ, ভারত, চীন, মায়ানমারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কার র্যালি শনিবার মাগুরা অতিক্রম করেছে। বাসস জানায়, ভারতের কোলকাতা থেকে শুরু হওয়া এ র্যালি যশোর জেলা হয়ে মাগুরা থেকে এশিয়ান হাইওয়ে দিয়ে ফরিদপুর রাজবাড়ি হয়ে ঢাকা আসবে। সকাল ৯টায় শহরের ভায়না মোড়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, এনডিসি আশরাফুল ইসলাম, বিআরটিএ পরিচালক বিলাস সরকারসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে র্যালিকে স্বাগত জানান। মাগুরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত আনোয়ার জানান, এই কার র্যালি এ চার দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি, এশিয়ান হাইওয়েকে পরিচিত করা এবং অংশগ্রহণকারী অন্যদেশের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এদেশের পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব বাড়াবে।