গোলাপী বলের প্রথম হ্যাটট্রিক মোহাম্মদ আশরাফুলের। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ফাইনালে এ কৃতিত্ব দেখান তিনি। জাতীয় দলের প্রাথমিক তালিকায় ঠাঁই না পাওয়া ওয়ালটন মধ্যাঞ্চলের এই লেগ স্পিনারের নৈপুণ্যে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে যেতে পারেনি উত্তরাঞ্চল। মধ্যাঞ্চলের প্রথম ইনিংসে তোলা ২৭৭ রানের জবাবে দলটি ২১.৫ ওভার বাকি থাকতে গুটিয়ে যায় ২৭৪ রানে। অবশিষ্ট ১৬ ওভারে মধ্যাঞ্চল দুই উইকেটে ৫৯ রান তোলে।
আশরাফুলের ঘূর্ণী বলে উত্তরাঞ্চলের শেষ চার উইকেট পড়েছে কোন রান যোগ না করেই। তার হ্যাটট্রিকের পর মোশাররফ হোসেনের ২৫তম ওভারের প্রথম বলে সাঞ্জামুল বিদায় নিলে উত্তরাঞ্চলের প্রথম ইনিংস শেষ হয়ে যায়। মোশাররফ পান চার উইকেট। প্রথমবারের মতো আয়োজিত বিসিএলে এটিই প্রথম হ্যাটট্রিক। ৭৯তম ওভার করতে এসে প্রথম তিন বলে আশরাফুল চার রান দেন। এরপর চতুর্থ বলে ফরহাদ রেজাকে ডিপ মিডউইকেটে, সাজিদুল ইসলামকে এলবিডব্লিউ এবং সাকলাইন সজিবকে কিপারের তালুবন্দী করে গোলাপী বলের প্রথম হ্যাটট্রিক শিকারী হন তিনি।
গতকাল শনিবার পাঁচদিনের এ ফাইনালের দ্বিতীয় দিনে তৃতীয় সেশনে আশরাফুলের সাথে পেরে না উঠলেও বাকি সময়টা ছিল উত্তরাঞ্চল ব্যাটসম্যানদের। মূলত নাসির হোসেন ও জহুরুল ইসলামের ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিল দলটি। জহুরুল ১৭৫ মিনিট ক্রীজে থেকে ৪৭ রানে আউট হয়ে গেলেও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ভালো খেলা নাসির কালও ধারাবাহিকতার প্রমাণ দেন। ১১৪ মিনিট ক্রীজে থেকে ৮৮ বলের মোকাবিলায় চারটি ছয় ও আট চারের মারে করেছেন ৭৪ রান। উত্তরাঞ্চল কাল দুই উইকেটে ১০৬ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় এবং দ্বিতীয় সেশনে ১১৫ রান তোলে আরো তিন উইকেট হারিয়ে।
দ্বিতীয় ইনিংস ব্যাট করতে নেমে মধ্যাঞ্চল মাত্র তিন রানে ইলিয়াস সানিকে হারায়। এরপর আউট হন শামছুর রহমান শুভ। ক্রীজে আছেন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান রকিবুল হাসান (২০) ও মোশারফ (২)।
ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল প্রথম ইনিংস- ২৭৭/১০ (রকিবুল ১২৫, নূরুল ৩১, মেহরাব ২৫, ফরহাদ ৪/১৮, সাঞ্জামুল ৩/৭১) ও দ্বিতীয় ইনিংস ৫৯/২।
বিসিবি উত্তরাঞ্চল প্রথম ইনিংস- ৭৯.১ ওভারে ২৭৪/১০ (নাসির ৭৪, মাশুকুর ৩৫, নাঈম ৩৫, ফরহাদ ৩০, জহরুল ৪৭, সাব্বির ১৮, মোশাররফ ৪/৬৫, আশরাফুল ৩/৪, তাসকিন ৩/৫০)।
