মালিকের শোষণের প্রবণতা প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:১৭
দৈনিক ইত্তেফাক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেছেন, আমি ইউনিয়নে বিশ্বাস করি। শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল ইউনিয়ন যে কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউনিয়ন দায়িত্বশীল না হলে কোন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যেতে পারে না। তিনি বলেন, শ্রমিক ও মালিক এক হয়ে কাজ করবে। তবে মালিকের মধ্যে শোষণের প্রবণতা থাকলে তা ওই প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর। গতকাল শনিবার দৈনিক ইত্তেফাক (এন.এন.পি.পি) ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ ও অভিষেক অনুষ্ঠান-২০১৩ এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক শাহীন রেজা নূর। আনোয়ার হোসেন বলেন, অনেকেই আছেন যারা ইত্তেফাককে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন। সকলেই চান এই প্রতিষ্ঠান সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকুক। এজন্য আপনাদেরকে কাজ করে যেতে হবে। কাজের কোন বিকল্প নেই। সাংবাদিক, শ্রমিক ও কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন ও পরিশ্রম করুন। পরিশ্রমের বিকল্প নেই। আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘পরিশ্রম কর। এর ফল আমি তোমাদেরকে দেব।’ আপনারা ভালো ও সুখে-শান্তিতে থাকুন এটাই প্রত্যাশা করি। তিনি বলেন, যে পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ আপনাদের হক বঞ্চিত না করে ততদিন আমাদেরই জয় হবে। কিভাবে ইত্তেফাককে আরো আধুনিক করা যায় তা নিয়ে সবাইকে ভাবতে হবে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য পাঠকরা ইত্তেফাক কেনেন ও পড়েন। তিনি বলেন, ইত্তেফাক ৬৫ বছর যাবত্ টিকে আছে। এটি একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এখানে ব্যক্তি আসবে ও ব্যক্তি যাবে কিন্তু প্রতিষ্ঠান টিকে থাকবে। ৬৫ বছর যাবত্ যে প্রতিষ্ঠানটি টিকে আছে শেয়ার বাজারে তার মূল্য হাজার হাজার কোটি টাকার চাইতে বেশি। শ্রমিকরা যদি সন্তুষ্ট না থাকে, খুশি না থাকে তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের মঙ্গল হতে পারে না। অনুষ্ঠানে দৈনিক ইত্তেফাকের কার্যনির্বাহী পরিচালক ও মুদ্রাকর মুহিবুল আহসান শাওন বলেন, আপনাদেরকে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে ইত্তেফাককে এগিয়ে নিতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে শাহীন রেজা নূর বলেন, ইত্তেফাক অনেক কিছু জাতিকে দিয়েছে, আরো দেবে। কেননা এদেশের হতদরিদ্র মানুষের আশা-ভরসা ইত্তেফাক। এই পত্রিকাটি এদেশের মানুষের মনের আকুতিকে ভাবনায় পুরে দিয়ে মানুষকে তাদের প্রত্যাশার বীজই শুধু বপন করে দেয়নি, তা বাস্তবায়নেরও পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করছে। দৈনিক ইত্তেফাকের সহকারী সম্পাদক ফাইজুস সালেহীন বলেন, ইত্তেফাকের ইউনিয়নগুলো বৃহত্। ইত্তেফাকের ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার চ্যালেঞ্জের সৈনিক আমরা সবাই। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, ইত্তেফাক সম্পাদক ন্যায় কথা বলতে দ্বিধাবোধ করেন না। অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপোষ করেননি। ১/১১-এর সময় তাকে নানাভাবে হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়েছে। তখন তাকে ছাড়া ইত্তেফাক স্বাভাবিকভাবে চলতে পারেনি। ওই সময় যাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিলো তাদেরকে ইত্তেফাক সম্পাদক বেতন দিয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। অতীতের মত আজকেও তার নেতৃত্বে ইত্তেফাক এগিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা করি। ডিইউজের দৈনিক ইত্তেফাকের ইউনিটের ইউনিট চীফ ও এন.এন.পি.পি নির্বাচন সাব-কমিটির চেয়ারম্যান আবুল খায়ের বলেন, ইত্তেফাকে তিনটি ইউনিয়ন রয়েছে। ইউনিয়নগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে ইত্তেফাককে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং টিকিয়ে রাখবে এটাই প্রত্যাশা। বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অফ নিউজ পেপার প্রেস ওয়ার্কার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হাশেম বলেন, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থেকে ইত্তেফাক এগিয়ে যাবে এই কামনা করি। বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মতিউর রহমান তালুকদার বলেন, ইত্তেফাক সম্পাদক ও মালিক শ্রমিকবান্ধব। তাই পত্রিকাটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে হবে। দৈনিক ইত্তেফাক (এন.এন.পি.পি) ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নবনির্বাচিত সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, ১/১১-এর সময় ২/৩ শত কর্মচারী ছাঁটাই করা হয়েছিলো। ওই সময় ইউনিয়ন ছিলো নিষিদ্ধ। সে সময়ের চাকরিচ্যুতদের পাওনা পরিশোধ করেছেন ইত্তেফাক সম্পাদক। আমরা তার পাশে থেকে যেন ইত্তেফাককে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারি। নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরওয়ার আজাদ বলেন, আমাদের দায়িত্ব অনেক। সেই দায়িত্ব পালন করে যাব। তবে আমরা প্রত্যাশা করি আমাদের সমস্যাগুলো কর্তৃপক্ষ সমাধান করবেন। অনুষ্ঠানে ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, তার সহধর্মিণী মাজেদা বেগম এবং প্রতিষ্ঠানের সফলতা কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা হাবিবুর রহমান। এছাড়া নবনির্বাচিত কমিটিকে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দৈনিক ইত্তেফাকের অন্যতম পরিচালক রেজাউল আহসান ফাগুন, ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিস সৈকত, দৈনিক ইত্তেফাক (এন.এন.পি.পি) ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নির্বাচনী সাব-কমিটির সদস্য খোন্দকার গোলাম জিলানী, ইত্তেফাক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক চন্দ্র রায় প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অলিউল হক রুমি। নবনির্বাচিত সদস্যরা হলেন: সভাপতি- মোঃ আলমগীর হোসেন খান; সহ-সভাপতি- মোঃ আবদুল মতিন, মোঃ আবু কাওসার; সাধারণ সম্পাদক- মোঃ গোলাম সরওয়ার আজাদ; সহকারী সম্পাদক- মোঃ আমজাদ হোসেন, মোঃ মনসুর আলী; সাংগঠনিক সম্পাদক- মোঃ আব্দুল আউয়াল; প্রচার সম্পাদক- মোঃ মোশাররফ হোসেন সিকদার; সাংস্কৃতিক সম্পাদক- মোঃ রফিকুল ইসলাম; কোষাধ্যক্ষ- মোঃ আব্দুস সালাম আকন; কার্যনির্বাহী সদস্য- মোঃ মোস্তফা কামাল হাওলাদার, মোঃ খলিলুর রহমান-১, মোর্শেদুল ইসলাম, মোঃ সাব্বির হোসেন।