কোহিনুর ফেরত দেবে না ব্রিটেন

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:২০
কোহিনুর বা আলোর পর্বত নামে খ্যাত এই হীরার ইতিহাস অতি দীর্ঘ এবং বর্ণাঢ্য। এর ইতিহাসের সূচনা ১৩শ’ সালের দিকে। প্রাচীনকালের সুন্দরী কুমারীর মতো এটিও বিভিন্ন রাজা, বাদশাহ ও শাসকের হাত ঘুরে এখন স্থান পেয়েছে টাওয়ার অব লন্ডনে। কোহিনুর ১২৯৪ সালে মালোয়ার রাজার হাত থেকে আলা উদ্দীন কাজী, তারপর মুহম্মদ বিন তুগলক, তারপর দিল্লি সুলতানাত এভাবে মোঘল সম্রাট বাবর এবং সকল মোঘল সম্রাটের হাত হয়ে শেষ দিকে মোঘল সম্রাট শাহজাহানের হাতে এসে পড়ে। সম্রাট শাহজাহান নির্মিত ময়ুর সিংহাসনের শোভা বর্ধন করে কোহিনুর। মোঘল সাম্রাজ্য যখন বিক্ষিপ্ত ও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে তখন নাদির শাহকে আমন্ত্রণ জানানো হয় মুসলিম শাসনের গৌরবোজ্জ্বল দিন ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করার জন্য। কিন্তু তাকে প্রতিশ্রুত অর্থ না দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নেয়া হলে কৌশলে তিনি মোঘলদের কাছ থেকে কোহিনুর নিয়ে যান ইরানে। কোহিনুর নামটিও নাদির শাহের দেয়া। নাদির শাহ নিহত হওয়ার পর কোহিনুর আসে সম্রাট হুমায়ুনের পুত্রের কাছে। আফগানিস্তান থেকে মহারাজা রণজিত্ সিং সেটি গ্রহণ করেন। তার কাছ থেকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি এটি কেড়ে নেয় এবং ব্রিটিশ রানি ভিক্টোরিয়াকে ১৮৫০ সালে উপহার দেয়। ১০৫ ক্যারেট ওজনবিশিষ্ট কোহিনুর প্রথমে রানি ভিক্টোরিয়া ব্যবহার করতেন তার হাতে। এরপর সেটি স্থান পায় ব্রিটিশ মুকুটে। উপমহাদেশের এক সময়ের অহংকার এখন ব্রিটেনে। কোহিনুরের মালিকানা নিয়ে আশির দশকেও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। ইরান, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, এমনকি বাংলাদেশ পর্যন্ত এর স্বত্ব দাবি করেছিল। তবে ব্রিটিশ সরকার সব দাবিই প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোহিনুর ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছে ভারতের অনেকেই। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধীর নাতিসহ ভারতের অনেক ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন সময় এই হীরাটি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। গত সপ্তাহে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের ভারত সফরে কোহিনুর ফিরিয়ে দেয়ার দাবি আবারো উঠে। তবে কোহিনুর হীরাটি ফেরত দেয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন তিনি। তার মতে, কোহিনুর হীরা ফেরত চাওয়ার বিষয়টি গ্রিসের এলগিন মার্বেলস ভাস্কর্য ফেরত চাওয়ার মতো। গ্রিস অনেক দিন ধরেই এই ভাস্কর্যটি ফেরত চাইছিল। তবে এ ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের জাদুঘর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, তারা এসব ভাস্কর্য ও স্থাপত্যের রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথভাবে করছেন, যাতে করে সারা বিশ্বের মানুষ এগুলো দেখতে পারে। ১৯৯৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের সময় রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ভারত সফরে আসেন। সে সময়ও কোহিনুর ফেরত চেয়েছিলো ভারতীয়রা।