জলবায়ুর ক্ষতিকর পরিবর্তনে ভূমিকা রাখায় দায়ীদের তালিকায় নাম আছে তাদের। উপসাগরীয় অঞ্চলের এ দেশগুলোতেই লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। জ্বালানি তেলের বিকল্প ব্যবহারে দেশগুলো এত তত্পর যে দেখে অবাক হতে হয়। — খবর ডয়চে ভেলের।
আবুধাবির তেল উত্পাদন কেন্দ্র থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরের মরুভূমিতে গেলে একটা বিষয় সত্যিই চমকে দেবে আপনাকে। এক জায়গায় দেখবেন শত শত আয়না আকাশের দিকে ঘোরানো, সূর্যের আলো পড়ছে, আলো আয়নায় পড়ে চারপাশটাকে আরো আলোকিত করে দিচ্ছে। এভাবেই সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি হচ্ছে পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি। আবুধাবির লক্ষ্য, ২০২০ সালের মধ্যে দেশের মোট চাহিদার শতকরা সাত ভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে পূরণ করা। ব্যাপারটি অবাক হওয়ার মতোই। কেননা, আবুধাবির তো তেলের কোনো ঘাটতি নেই। দেশের অর্থনীতিতেও এমন কোনো পরিবর্তন আসেনি যা নিয়ে খুব ভাবনায় পড়ে তাড়াতাড়ি সৌর শক্তিনির্ভরতা বাড়াতে হবে। ভাবনাটা আসলে অন্য জায়গায়। মরু অঞ্চলের সব দেশেই জ্বালানি তেলের ব্যবহার খুব বেশি। শহরে যাতায়াতের জন্য কোনো বাস নেই, মারাত্মক গরমের কারণে অফিস-আদালত, কল-কারখানা এবং সব বাড়িতেই রাখতে হয় এয়ার কন্ডিশনার। ফ্রিজ নেই এমন বাড়ি বা ভবন একটাও পাবেন না। মোটকথা তেল যেমন বেশি, তেমনি এর ব্যবহারও বেশি দেশগুলোতে। এ কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের যে কুপ্রভাব পৃথিবীতে পড়ছে তার জন্য এই দেশগুলোকেও দায়ী করা হয়। আজ সমস্যা হচ্ছে অন্যদের, কিন্তু একদিন তো আবুধাবি, কাতার, সৌদি আরবেরও হবে। তাই আগে থেকেই সতর্ক সবাই। সবগুলো দেশেই গড়ে তোলা হচ্ছে কনসেন্ট্রেটেড সোলার পাওয়ার, অর্থাত্ সিএসপি প্ল্যান্ট। সৌদি আরব ঠিক করেছে আগামী ২০৩২ সালের মধ্যে দেশের মোট চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে মেটাবে। দুবাইয়ের লক্ষ্য শতকরা পাঁচ ভাগ আর বিশ্বের সবচেয়ে বড় তরল পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশ কাতারের শতকরা সাত ভাগ— দু’টি দেশই লক্ষ্য অর্জন করতে চায় ২০২০ সালের মধ্যে।এক কথায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। সৌরশক্তির এমন ব্যবহার কতটা লাভজনক তা জানাতে গিয়ে আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য শক্তি সংস্থা আইআরইএনএ-র উপ-মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক ভাউটার বললেন, ‘‘বিদ্যুত্ চাহিদা মেটানোর জন্য সৌদি আরবের মতো দেশ ব্যারেল প্রতি একশ’ ডলার খরচ করে। এই প্রক্রিয়ায় খরচ তার চেয়ে অনেক কম হবে।”
