প্রতি বছরের মতো এবারো কমিয়ে ফেলা হচ্ছে উন্নয়ন কর্মসূচীর বরাদ্দ। অর্থবছরের শুরুতে বিরাট আকারের ব্যয় করার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও অর্থবছরের মাঝামাঝি এতে প্রতিবছরই তা কমানো হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরের (২০১২-২০১৩) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) ৪ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা কমানো হচ্ছে। সংশোধিত আকারে আরএডিপি’র আকার হচ্ছে ৫০ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। অর্থবছরের শুরুতে ৫৫ হাজার কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তৃতীয় প্রান্তিকে এসে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ কমানো হলো। অর্থমন্ত্রণালয় থেকে সমপ্রতি এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। সংশোধিত এ বরাদ্দের উপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে বরাদ্দের পুনর্বিন্যাস করতে হবে।
চলতি অর্থবছরের এডিপিতে মোট বরাদ্দের মধ্যে সরকারের তহবিল হতে ৩৩ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা (৬১%) এবং প্রকল্প সাহায্য হিসেবে ২১ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা (৩৯%) ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিলো। সংশোধিত এডিপিতে সরকারের তহবিল ৩১ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা ও প্রকল্প সহায়তার ব্যবহারের পরিমাণ ১৮ হাজার ৫শ’ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হচ্ছে।
বিগত কয়েক বছরের এডিপি ও আরএডিপি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এডিপি’র মূল বরাদ্দের চেয়ে আরএডিপি’র আকার এ অর্থবছরে তুলনামলূক বেশি হ্রাস করা হয়েছে।
২০০৯-২০১০ অর্থবছরে মূল এডিপি ছিলো ৩০ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা। আরএডিপি ছিলো ২৮ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা। অন্যদিকে ২০১০-২০১১ অর্থবছরে মূল এডিপি ছিলো ৩৮ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা এবং আরএডিপি করা হয়েছিলো ৩৫ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। ২০১১-২০১২ অর্থবছরে মূল এডিপি ছিলো ৪৩ হাজার কোটি টাকা এবং আরএডিপি করা হয়েছিলো ৪১ হাজার ৮০ কোটি টাকা। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের (২০১১-২-২০১৩) মূল এডিপি ছিলো ৫৫ হাজার কোটি টাকা এবং আরএডিপি করা হচ্ছে ৫০ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা।
অর্থবছরের শুরুতে এডিপিতে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিলো। সূত্র জানায়, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর প্রকল্প বাস্তবায়নে সিদ্ধান্তহীনতায় এডিপি সংশোধনে বিলম্ব হয়েছে। খাতভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ বরাদ্দ পুনর্বিন্যাস করতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে।
তবে ইতিপূর্বে আরএডিপিতে বৈদেশিক সহায়তার অংশ ৩ হাজার কোটি টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে বৈদেশিক সহায়তার প্রায় ১ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা কমানো হচ্ছে। বাকিটা থোক বরাদ্দ থেকে কমানো হচ্ছে। বরাদ্দ কমানোর মধ্যে কৃষি, তেল -গ্যাস ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, যোগাযোগ খাত, শিক্ষা ও ধর্ম মন্ত্রণালয় ও তথ্য প্রযুক্তি খাত রয়েছে। অন্যদিকে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন খাত, শিল্পমন্ত্রণালয়, বিদ্যুত্ বিভাগ, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও পরিবার পরিকল্পনা খাত, গণযোগাযোগ খাত উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে এডিপি বাস্তবায়ন চিত্রে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ৩৮ শতাংশ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে। শতকরা হিসেবে এ হার বিগত ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়ন হয়েছিলো ৩৪ শতাংশ। পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়কালে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ২১ হাজার ৩৯ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। এ সময়কালে অর্থ ছাড় করা হয়েছে ১৯ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে প্রথম সাত মাসে বিদেশি সহায়তার ব্যবহারও আগের সময়কালের তুলনায় বেড়েছে।
