গত দশকে লাটিন আমেরিকায় মধ্যবিত্তের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। বর্তমানে এ অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশই মধ্যবিত্ত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যবিত্তের উত্থানের নেপথ্যে প্রধান কারণ হলো এ অঞ্চলের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতা। তবে মধ্যবিত্তের এ উত্থান ধরে রাখতে হলে নীতিগত সংস্কার প্রয়োজন। এটি হতে পারে কর্মসংস্থান, কর এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
মধ্যবিত্তের উত্থানের কারণ ব্যাখ্যা করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপিয়ান অঞ্চলে মন্দা এবং চীনের প্রবৃদ্ধির গতি কমে আসা সত্ত্বেও লাটিন আমেরিকাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ায় মানুষের আয় বেড়েছে। এছাড়া মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধিও মানুষের আয় বাড়িয়ে দারিদ্যের সীমা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছে। তথ্যে দেখা গেছে, গত দশকে প্রায় ৭৩ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্য দূর করতে সক্ষম হয়েছে। এক্ষেত্রে কর্মসংস্থান ও শিক্ষাখাতের অবদান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে গত দশকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর স্কুলে কাটানো সময় গড়ে ৫ বছর থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ বছরে। আর সাম্প্রতিক সময় প্রায় ৭০ মিলিয়ন নারী শ্রম বাজারে প্রবেশ করেছে। এছাড়া এই সময় তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ বিষয়গুলো তাদের আয় বাড়াতে সাহায্য করেছে।
লাটিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিলে মধ্যবিত্তের বিস্ময়কর উত্থান হয়েছে। গত দশকে এ দেশটিতে মধ্যবিত্ত বাড়ার প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৪০ শতাংশ। কলাম্বিয়াতেও মধ্যবিত্তের উত্থান হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। এছাড়া চিলি, পেরু, কোস্টারিকাও মধ্যবিত্তের উত্থান হয়েছে উল্লেখজনক হারে। তবে সামনেও এ উত্থান ধরে রাখতে হলে শ্রমিক, কর ব্যবস্থা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি খাতে সংস্কারমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
