৫ দিনব্যাপী এসএমই বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৩২
যে কোনো দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি অন্যতম শর্ত বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শিল্পখাতে উত্পাদনশীলতা বাড়িয়ে দ্রুত সবুজ শিল্পায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সরকার ইতিমধ্যে উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধিকে জাতীয় আন্দোলন হিসেবে ঘোষণা করে এ বিষয়ে উদ্যোক্তাদের উত্সাহ যোগাতে জাতীয় প্রোডাকটিভিটি ও কোয়ালিটি পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিল্পমন্ত্রী রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের সেবা সেক্টরে সার্বিক গুণগত ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন শীর্ষক আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। জাপানভিত্তিক উত্পাদনশীলতা উন্নয়ন সংগঠন এশিয়ান প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এপিও) এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) যৌথভাবে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ও এপিও’র বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে এশিয়ান প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এপিও) প্রোগ্রাম অফিসার ক্রিচাই আনাকামানি, এনপিও’র পরিচালক ড. মোঃ নজরুল ইসলাম, যুগ্ম-পরিচালক আবদুল বাকী চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। শিল্পমন্ত্রী বলেন, এশিয়ার জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারতসহ অনেক দেশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশেও টেকসই এসএমই খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সরকার এসএমই খাতের নীতি ও বিপণন সম্পর্কিত সমস্যার সমাধানে ইতোমধ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে এশিয়ার অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য ফলপ্রসূ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দিলীপ বড়ুয়া বলেন, সৃজনশীল উদ্ভাবনের ফলে বিশ্বব্যাপী শিল্পায়নের উদ্যোগ ক্রমান্বয়ে প্রতিযোগিতামুখর হয়ে পড়েছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থাপনার কৌশল আবিষ্কার এ প্রতিযোগিতাকে আরো কঠিন করে দিয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশসহ এশিয়ার স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি, পণ্য বৈচিত্র্যকরণ, উত্পাদন ব্যয় কমানো ও পণ্যের নতুন বাজার খুঁজে বের করা জরুরি। তিনি এক্ষেত্রে সরকারি-সরকারি ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার করে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের তাগিদ দেন। উল্লেখ্য, ৫ দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ, ফিজি, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের ২৪ জন প্রশিণার্থী অংশ নিচ্ছেন। এ প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সেবাখাতে সার্বিক গুণগত ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।