এলিটা। এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। তার ব্যতিক্রমী গায়কী তাকে আজকের অবস্থানে তুলে এনেছে। একজন কণ্ঠশিল্পীর পাশাপাশি তিনি একজন সাংবাদিকও। সম্প্রতি একটি চলচ্চিত্রের গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। নিজের সাম্প্রতিক ব্যস্ততা ও অডিও ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন অর্ক হাসান
অনেক দিন ধরেই আপনার সলো অ্যালবাম বের হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। এখনও বের না হওয়ার কারণ কী?
কারণ, আমি ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত এবং আমাকে একটা চাকরিও করতে হচ্ছে। এই কারণেই অ্যালবামের কাজে সময় দেওয়ার সুযোগ হয়নি। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, আমাদের অডিও মার্কেটের অবস্থা ভালো না। মার্কেটটা আমার কাছে একটু কনফিউজিং, তাই ভাবছি একটু বুঝে শুনেই বের করতে চাচ্ছি। এ ছাড়া অ্যালবামের সব কাজই নিজেকে করতে হচ্ছে, বন্ধুরাও সাহায্য করছে। আর একটু নিরীক্ষাধর্মীও কাজও করতে চাচ্ছি, তাই একটু দেরি হয়ে যাচ্ছে।
আপনার বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?
বর্তমান ব্যস্ততা হচ্ছে অফিস। আবার ছোট ছোট ছোট কাজ করতে গিয়েই সময় চলে যায়। তারপর ইদানীং লেখালেখির কাজ একটু বেশি করছি। এরই মাঝে আমি আমার সলো অ্যালবামের কাজও চলছে। এটি নিয়েও এখন একটু ব্যস্ত। একটা একটা করে গানগুলো সুর করা, গীতিকারের সাথে বসে বসে কাজ করার চেষ্টা করছি। এগুলো করতেই সময় চলে যায়।
‘পরবাসিনী’ ছবিতে আপনি তো প্লে-ব্যাক করলেন, এ প্রসঙ্গে কিছু বলুন।
গানটা আমার খুব ভালো লেগেছে। বেসিক্যালি ফিল্মের কনসেপ্টটাই আমার খুব পছন্দ হয়েছে। সায়েন্সফিকশন মুভি মনে হয় এটিই আমাদের দেশে প্রথম। পাশাপাশি মেহজাবিনকেও ভালো লাগে, ওর কথাবার্তা, চলাফেরা দেখতে ভালোই লাগে। ওর কাজ যে খুব একটা দেখেছি তা না, দুয়েকটা দেখেই ভালো লেগেছে। তারপরও যখন জানলাম ও আমার গানটি লিপিসিং করবে তখন আগ্রহটা বেড়ে গেল।
চলচ্চিত্রের গানে পপ আর্টিস্টদের আগ্রহটা কেমন? আর প্লে-ব্যাকে আপনারাই বা কাজ করতে কতটুকু আগ্রহী?
আমি পপ আর্টিস্টদের মধ্যে পড়ি কি না সেটা জানি না। আমার যেটা ভালো লাগে সেই গানটাই করি। আমি কি পপ না রকস্টার তা ঠিক জানি না। আমার গলার টাইপটা হচ্ছে একটু মোটা ধাঁচের, আমাদের দেশের ফিল্মে এ ধরনের গলার প্রচলনটাও কম। অধিকাংশ ফিল্মেই সুইট গলা দিয়ে গাওয়ানোর প্রবণতা থাকে। এমনকি ফিল্মটা যদি আমার হয় সেক্ষেত্রে আমিও সুইট গলা দিয়ে গাওয়ানোর চেষ্টা করব। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে, যেমন সুনিধি চৌহানের গলাটা কিন্তু সুইট না। একটু মোটা ধাঁচের। ওয়েস্টার্ন ধাঁচের গানেই তাকে মানায় ভালো। তারপরও সব ধরনের গানই সে করছে। এই ডিফরেন্ট ধাঁচের গলা নিয়ে কাজ করার প্রচলনটা আমাদের দেশেও হবে। হয়তো বা একটু সময় লাগবে।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি স্টেজ শো সময় দেওয়াটা কঠিন হয়ে যায় কি না?
খুবই কঠিন হয়ে যায়। অফিস ডে তে খুব একটা সম্ভব হয় না, তাই অফ ডেতে স্টেজ শো করা হয়। আর যদি একান্তই প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে অফিস থেকে ছুটি নিই।
রাগা ব্যান্ড মাঝে ভেঙে গিয়েছে, এরকম শোনা গিয়েছিল, আসল কারণটা কী?
রাগা ব্যান্ড ভাঙার কারণ এই ব্যান্ডের সবাই ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। কেউ দেশের বাইরে চলে গেছে। আবার কেউ কেউ পড়াশুনা শেষ করে চাকরিবাকরি করছে। এই ব্যান্ড পুরোপুরি ভেঙে গেছে, এটা নিয়ে এখন আর কোনো চিন্তাও করছি না। আর আমি মনে মনে ফিমেল গিটারিস্ট, ফিমেল ড্রামার ইত্যাদি খুঁজছি। হয়তো বা আবার নতুন কোনো ব্যান্ড গড়ে তুলব।
