মেসি-ইনিয়েস্তা-পিকের খেলা চাক্ষুস উপভোগ করলেও সাক্ষাত্ হলো না। কারণ আমরা গ্যালারিতে আর মেসিরা মাঠে। শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টায় সেভিয়ার সঙ্গে খেলা ছিল বার্সার। বার্সেলোনায় এসে ন্যু-ক্যাম্পে বসে সরাসরি মেসিদের খেলা দেখার সুযোগ হাতছাড়া করার কোন মানে হয় না। তাই খেলা শুরুর ঘণ্টা দেড়েক আগে ৫০ ইউরো দিয়ে দক্ষিণ গ্যালারির টিকিট কেটে আমরা মাঠে হাজির হই। অন্য কোন গ্যালারির টিকিট ছিল না। একদিন আগে আসলে সাড়ে ৩শ ইউরো দিয়ে খুব কাছ থেকে মেসিদের খেলা দেখার সুযোগ পাওয়া যেতো। তারপরও মেসির গোল আর ২-১ ব্যবধানে বার্সার জয় সার্থক করেছে আমাদের খেলা দেখাকে।
বাংলাদেশের সাতজন সাংবাদিকের সঙ্গে গ্রামীণফোণ কর্মকর্তা মো. হাসান মিলে খেলা দেখতে গিয়েই নিয়ন সাইনে দেখতে পেলাম বার্সার পরের ম্যাচ ‘মাদ্রিদের’ সঙ্গে। বার্সেলোনার এ স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৯৯ হাজার ৯৭৬ জনের। নজরে পড়লো একাডেমির আরো কিছু ভবন, জাদুঘর, বার্সেলোনার বিভিন্ন পণ্যের বিক্রয় কেন্দ্র। তীব্র শীতের মধ্যেও আমরা শিহরিত। ঢাকা থেকে আনা গরম পোশাকগুলো গায়ে জড়িয়ে কোনভাবেই শীত থেকে নিজেকে রক্ষা করা যাচ্ছিল না। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা একজন পুলিশ সদস্য জানালেন তাপমাত্র মাইনাসে নেমে গেছে।
শীত ভুলে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে প্রায় মিনিট বিশেক পর ১৯ নম্বর গেইট দিয়ে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ মিললো। ১০ থেকে ১২ তলা ভবনের মত সিঁড়ি বেয়ে স্টেডিয়ামের ওপরে উঠে নিজের আসন খুঁজে বসলাম। হিমেল হাওয়া যেন তাকাতেই দিচ্ছিল না। এত দূরে এসে ন্যু-ক্যাম্পে প্রবেশের পর কিছু ছবিও উঠালাম। খেলা শুরুর আধ ঘণ্টা আগেই মেসিরা নেমে পড়লো মাঠে গা গরম করতে। কিন্তু প্রথমেই স্বাগতিকরা গোল হজম করায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল স্টেডিয়ামটি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ভিয়ার গোলে প্রাণ ফিরে পেল ন্যু-ক্যাম্প।
এই ক্লাবকে নিয়ে স্পেনের কাতালান জনগোষ্ঠীর অহংকারের শেষ নেই। এই ক্লাবের গৌরব তাদের কাছে বিশ্বকাপ জয়ের চেয়েও অনেকক্ষেত্রে বড়। সে কারণে বার্সা একটি শিরোপা জিতলে রাস্তায় যে আনন্দের জোয়ার বয়, বিশ্বকাপ জেতার পরও নাকি তেমনটা হয়নি। বার্সেলোনায় কর্মরত বাঙালি রিয়াজ জানালেন এই তথ্য। গত দশ বছর ধরে বার্সেলোনায় আছেন তিনি। রিয়াজ জানান, বিশ্বকাপ জয়ের পর বার্সেলোনার রাজপথে মাত্র কয়েক হাজার জনগণের মিছিল হয়েছে। আর এর অগ্রভাগেও ছিলেন তাদের মতো প্রবাসীরা। স্থানীয় কাতালানরা এতে অংশ নেয়নি। বিশ্বকাপ জয়ের চেয়েও কাতালানরা তখন দেখেছেন তাদের ছেলে জাভি বা ইনিয়েস্তারা ওই আসরে কেমন করেছে?
