শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য জাতীয় দল ঘোষণার ক্ষেত্রে নির্বাচক কমিটির সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল, সাকিব আল হাসানের অভাব পূরণ করা। বলাই বাহুল্য যে, সাকিবের অভাব পূরণ করা খুব একটা সহজ কাজ নয়। তাই এই একটা পজেশনের অভাব পূরণ করতেই দলে ডাকতে হয়েছে দু’জন খেলোয়াড়। মাত্র পাঁচটি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে ব্যাটসম্যান সাকিবের অভাব পূরণ করতে টেস্ট দলে এসে গেছেন মোমিনুল হক। আর বোলার সাকিবের জায়গা নিতে প্রায় তিন বছর পর আবার দলে ফিরেছেন একসময়ের দেশসেরা টেস্ট স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র। তবে এরা কেউই নন; জাতীয় দল ঘোষণার পর মূল আলোচনায় রইলেন মার্শাল আইয়ুব। জাতীয় ক্রিকেট লিগে অসামান্য পারফরম্যান্স করেও টেস্ট স্কোয়াডে জায়গা হয়নি মার্শালের। এনামুলের মত আলোচনায় না থাকলেও একইরকম প্রায় তিন বছর পর ফের টেস্ট স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছেন জহুরুল ইসলাম। ২০১০ সালে ম্যানচেস্টারে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ টেস্ট খেলেছিলেন। দুই ইনিংসে তার রান ছিল যথাক্রমে ৫ ও ০। এরপর থেকে জাতীয় দলে সুযোগ না পেলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করে গেছেন এই ব্যাটসম্যান। এনসিএলে ডবল সেঞ্চুরি করা মার্শাল আইয়ুবকে বাদ বাদ দেয়ার কারণ বলতে গিয়ে প্রধান নির্বাচক বারবার টিম-কম্বিনেশনের কথা বললেন। তারা মিডল অর্ডারে একটা পজেশনে আসলে মার্শাল ও মোমিনুলকে বিবেচনা করছিলেন। শেষ পর্যন্ত মার্শালকে হটিয়ে মোমিনুল দলে ঢুকে যাওয়ার কারণ হিসেবে প্রধান নির্বাচক আকরাম খান বলছিলেন, ‘মিডল অর্ডারে আমরা একজন সলিড ব্যাটসম্যান খুঁজছিলাম। সেদিক থেকে এই জায়গায় মার্শাল আইয়ুব ও মোমিনুল ছিল। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেছি। সময় নিয়েছি। সিদ্ধান্ত নিতে প্রায় আধা ঘন্টা সময় লেগেছে। মোমিনুল একাডেমিতে ভালো খেলেছে, জাতীয় লিগেও সে পারফর্ম করেছে। শেষ পর্যন্ত ওকেই আমরা এগিয়ে রেখেছিল। কারণ শ্রীলংকা দলে একজন বাঁ-হাতি স্পিনার রয়েছে হেরাথ। আমরা তার কথা চিন্তা করে একজন বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান নিয়েছি’।
এনসিএলে ডাবল সেঞ্চুরিসহ এবারের জাতীয় লিগে সর্বোচ্চ রান (৬০৪) মার্শালের। তবুও তার জাতীয় দলে না খেলাটা হতাশাজনক। প্রধান নির্বাচকও সেটা ভালো করে জানেন। আর জানেন বলে দল ঘোষণার পর ফোনে মার্শালের সাথে কথা বলেছেন আকরাম খান। পুরো বিষয়টি তাকে বুঝিয়েছেন। আকরাম বলেন, ‘দলে জায়গা না হওয়াটা তার জন্য দুর্ভাগ্য। আমি তার সাথে ফোনে কথা বলেছি বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছি। বলেছি, তোমার ফ্লোর এখনও ওপেন আছে। তুমি খেলে যাও’। শ্রীলংকা সফরে চার পেসার রাখা হয়েছে। রুবেল হোসেন, শাহাদাত হোসেন রাজিব, রবিউল ইসলাম শিপলু ও আবুল হোসেন। যে চার পেসার নিয়ে শ্রীলংকা যাবে বাংলাদেশ; তাদের উপর সেভাবে ভরসাও করতে পারছেন না নির্বাচক কমিটি। মাশরাফি বিন মুর্তজার ইনজুরি দুশ্চিন্তা আরো বাড়িয়েছে। তবুও ধারহীন তলোয়ার দিয়ে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে লড়তে চায় বাংলাদেশ। এই কারণে চারজন পেসার রাখলেও মূলত দু’জন পেসার খেলবেন টেস্টে। বাকি দু’জন রাখা হয়েছে ব্যাকআপ হিসেবে-এমনটাই জানালেন প্রধান নির্বাচক। এর পেছনে তার যুক্তি হচ্ছে, ‘আসলে পেস বোলিং নিয়ে আমরা এখনো চিন্তিত। বিপিএলে মাত্র চার ওভার বল করতে হয়। তাই চার ওভার দেখে পেসারদের যাচাই করা যায় না। আর বিসিএলের মূল পর্বের খেলায় আমাদের প্রধান পেসাররা ছিল ইনজুরিতে। তাই সেভাবে দেখা হয়নি। মূলত, কোচ ও আমরা চিন্তা-ভাবনা করে আমরা চারজন পেসার নিয়েছি’।
চারজন পেসারের মধ্যে শফিউলের ইনজুরি বেশ ভাবাচ্ছে নির্বাচকদের। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির জন্য তিনি বিবেচ্য হলেও টেস্ট খেলবেন না এটি এক প্রকার নিশ্চিত প্রধান নির্বাচক, ‘শফিউলকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির জন্য চিন্তা-ভাবনা করা হযেছে। রবিউল বিসিএলে ভালো খেলেছে। একাডেমিতেও সে ভালো করেছে’।
শ্রীলংকা সফরে বাংলাদেশ টেস্ট স্কোয়াড
মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, শাহরিয়ার নাফীস, এনামুল হক বিজয়, নাঈম ইসলাম, নাসির হোসেন, সোহাগ গাজী, রুবেল হোসেন, আবুল হোসেন, এনামুল হক জুনিয়র, জহুরুল ইসলাম, মোমিনুল হক, শাহাদাত হোসেন ও রবিউল ইসলাম।
