ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে নেপাল যাচ্ছি —ডাচ কোচ

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১৮
জাতীয় ফুটবল দলের ডাচ কোচ লুডভিক ডিক্রুইফ এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলে খেলতে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু যাওয়ার প্রাক্কালে জানিয়েছেন ‘তারা কিছু জয় করতে’ যাচ্ছেন সেখানে। বাংলাদেশ এ টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচ খেলবে ২ মার্চ। কিন্তু ম্যাচ পূর্ব ভালো অনুশীলনের জন্য পাঁচ দিন আগেই আজ সোমবার দুপুরে নেপাল যাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। ঢাকায় এসে কেবল চারটি অনুশীলন সেশন পেয়েছেন এই ডাচ কোচ। যে কোন বিচারেই এটা কোন একটা দলের প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট নয়। তারপরও স্বল্প সময়ের মধ্যে লড়াকু মনোভাব গড়ে তুলতে যতটা রসদের প্রয়োজন তা খেলোয়াড়দের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে অনুশীলন করিয়েছেন তিনি। গত শনিবার রাতেই বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে খেলোয়াড়দের জানিয়ে দেয়া হয় কোন্ ২৩ জন যাবেন নেপালে। এদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান এমিলি এবং মিডফিল্ডার জাহিদ হোসেনকে বাদ দিতে হয়েছে ইনজুরির কারণে। ৩০ জনের প্রাথমিক দলে থাকা জুয়েল রানা, ইয়ামিন আহমেদ, জহিরুল ইসলাম জহির, রেজাউল হক রেজা, গোলকিপার মোস্তাক এবং সুলতান আহমেদ শাকিল চূড়ান্ত দলে ঠাঁই পাননি। নতুন হিসেবে ঢুকেছেন জামাল হোসেন এবং তকলিস আহমেদ। মাঠে ভালো পারফরম্যান্স করেও দেশীয় কোচদের কাছে উপেক্ষিত থাকতেন মারুফ আহমেদ। বিদেশি কোচের নজরে পড়ে এবার চূড়ান্ত দলে ঠাঁই পেয়েছেন তিনি। চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলের ‘ডি’ গ্রুপে ২ মার্চ ফিলিস্তিন, ৪ মার্চ নেপাল এবং ৬ মার্চ নর্দান মারিয়ানার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দল। এই গ্রুপে ফিলিস্তিনকে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসাবে ধরছেন ডাচ কোচ। ফিলিস্তিনের সাথে ভারতের ম্যাচটা দেখেই নাকি ডাচ কোচ তাদের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মনে করছেন। এরপর নেপালকে রাখছেন তিনি। নেপাল নিজেদের মাঠে খেলবে। এক্ষেত্রে তাদের সুবিধাটা বেশি। তাই বলে নিজেদের আন্ডারডগ মনে করছেন না ডিক্রুইফ। তার মতে, নর্দান মারিয়ানাই হতে পারে আন্ডারডগ। বাংলাদেশ কী লক্ষ্য নিয়ে যাচ্ছে জানতে চাইলে কোচ বলেন, ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই নেপালে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ভ্রমণ করতে যাচ্ছি না। কিছু জয় করতে যাচ্ছি। চার সেশনের অনুশীলন করেই ডাচ ফুটবলের ধাঁচ ধরিয়ে দেয়া সম্ভব না। আমাদের দেশে ছোট বয়স থেকে কৌশল রপ্ত করানো হয়। এখানে কোয়ালিটি যাচাই করে ট্যাকটিক্যাল সেশন করানো হয়েছে। আমরা প্লান করেছি কিভাবে খেলবো।’ খেলোয়াড়দের সম্পর্কে কোচ বলেন, ‘ছেলেদের ভালো মনোভাব দেখেছি।’ সাফল্যের ব্যাপারে ডাচ কোচ ক্রুইফ বলেন, ‘এটা টিম ওয়ার্কের ব্যাপার। এখানে আমরা সবাই মিলে একটা দল। হোক সেটা খেলোয়াড় কিংবা বাফুফের কর্মকর্তা। টিম ওয়ার্ক ভালো হলে রেজাল্টও ভালো হয়। দলে তরুণ খেলোয়াড় আছে, অভিজ্ঞ ফুটবলারও আছে।’ এ প্রসঙ্গে কোচ আরো বলেন, ‘তরুণদের উপর ফোকাস থাকবে ভবিষ্যতের জন্য।’ খেলোয়াড়রা হলেন: মো. সুজন (অধিনায়ক), মামুনুল ইসলাম মামুন (সহ-অধিনায়ক), ওয়ালী ফয়সাল, নাসির উদ্দিন চৌধুরী, মামুন মিয়া, আলমগীর রানা, রায়হান হাসান, আতিকুর রহমান মিশু, লিংকন, কেষ্ট কুমার, প্রাণতোষ কুমার, সোহেল রানা, শাকিল আহমেদ, আব্দুল বাতেন কোমল, মেজবাবুল হক মানিক, তকলিস আহমেদ, মারুফ আহমেদ, জামাল হোসেন, শাখাওয়াত হোসেন রনি, মিঠুন চৌধুরী। তিন গোলকিপার মামুন খান, জিয়াউর রহমান জিয়া, শহিদুল আলম সোহেল। কর্মকর্তারা হলেন: ইকবাল হোসেন ইকবাল (ম্যানেজার), লুডভিক ডি ক্রুইফ (হেড কোচ), রেনে কোস্তার ও গোলাম জিলানী (সহকারী কোচ), আতিকুর রহমান আতিক (গোলকিপার কোচ), দলিউর রহমান (ফিজিও), আশিকুর রহমান (মিডিয়া অফিসার), মো. মহসিন (টিম এ্যাটেনডেন্ট)।