‘শ্রীলংকাকে হারানোর এখনই বড় সুযোগ’

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৪৯
ছয়মাস পর ফের দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলবে বাংলাদেশ দল। শ্রীলংকার বিরুদ্ধে দুই টেস্ট, তিন ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। যদিও দেশের বাইরে বাংলাদেশের রেকর্ড খুব বেশি ভালো নয়। এ পর্যন্ত দেশের বাইরে বাংলাদেশ ৯১টি ওয়ানডে খেলে মাত্র ২১টি ম্যাচে জয় পেয়েছে। বাকি ৭০টি ম্যাচ হেরেছে। টেস্ট ম্যাচের রেকর্ড আরও খারাপ। ৩৬টি টেস্ট খেলে মাত্র দুটি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রেকর্ডটা একেবারেই ভুলে যাওয়ার মতো; ১২টি; টেস্টের সবগুলোতে পরাজয়। এবার সেই রেকর্ড বদলানোর আশা নিয়েই দেশ ছাড়তে চাচ্ছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বিসিএল, বিপিএল এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পারফরম্যান্স তাকে আত্মবিশ্বাসী করছে। গতকাল সোমবার জাতীয় দল অনুশীলন শেষে সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে শ্রীলঙ্কা সফরের ব্যাপারে কথা বললেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম— দল কেমন হল? শ্রীলংকা সফরে ভালো করার জন্য দলটা ঠিক আছে বলে মনে হচ্ছে? দল সবাই মিলে বসেই করা হয়েছে। গত এক দেড় বছরে যারা ভালো খেলেছে তারাই সুযোগ পেয়েছে। দলে যে খেলোয়াড়রা আছে, সবাই যার যার শতভাগ পারফরম করতে পারলে শ্রীলঙ্কাকে হারানো সম্ভব। এটা অনেক বড় সুযোগ। শ্রীলঙ্কায় আমাদের ভালো রেকর্ড নেই। গত এক বছর আমরা যেরকম ক্রিকেট খেলছি এটা ধরে রাখলে শ্রীলঙ্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে পারব। দেশের বাইরে বাংলাদেশের রেকর্ড তো ভালো নয়। এবার ভালো করার ব্যাপারে কতটা আশাবাদী? ঠিক, অন্য দেশে গিয়ে আমাদের পারফরম্যান্স খুব ভালো না। ধারাবাহিক খেলতে পারি না। তবে এবার আমরা ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে সবাই ভালো খেলেছে। এবার দলে তরুণ-অভিজ্ঞের কম্বিনেশন খুব ভালো। আমি মনে করি, শ্রীলঙ্কায় গিয়ে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারব। সাকিবের অভাব কিভাবে সামাল দেবেন? সাকিব না থাকা বিরাট ক্ষতি। ইনজুরিতে পড়লে আসলে তো কিছু করার থাকে না। আশা করবো তাড়াতাড়ি ও ফিরে আসতে পারবে। ওর জায়গা পূরণ করা কঠিন। তবে আশা করবো যারা ওর বদলে এসেছে তারা অনেক ভালো খেলবে। গত সিরিজেও খেলেছে। আস্থা আছে। তারাও জানে তারা পারবে। শ্রীলংকার পর জিম্বাবুয়ে সফর রয়েছে। এই দুই সিরিজ নিয়ে কতটা আশাবাদী? জিম্বাবুয়ের সঙ্গে খেলা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কায় আমরা এ বছর প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবো। বিদেশে আমাদের ভালো করার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা আছে। গত বছরের দেশের মাটিতে ভালো খেলার ধারাবাহিকতা এবার বিদেশে বজায় রাখার চেষ্টা করবো। এই সফরে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, শ্রীলঙ্কায় শুরুটা ভালো করতে চাই। ভালো করলে আশা করি জিম্বাবুয়েতেও ভালো করবো। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি কি নিতে পারছেন আপনারা? ছোটখাটো ইনজুরি রয়েছে, সিরিজ শুরুর আগে সেটা সেরে ওটার ব্যাপারে কতটা আত্মবিশ্বাসী? প্রস্তুতি ভালোই হয়েছে। ম্যাচ প্র্যাকটিসের ওপর আর কোনো প্র্যাকটিস নেই। বিপিএল খুব প্রতিদ্বন্দ্বিপূর্ণ ছিল। স্থানীয়রা অনেক ভালো খেলেছে। এটা পজিটিভ দিক। আর ওখানে গিয়েও একটা প্রস্তুতি ম্যাচ আছে। আমাদের যথেষ্ট সময় আছে। আশা করবো তার আগে ছোট ছোট ইনজুরিগুলো কাটিয়ে সবাই ফিট হয়ে আসবে। তাছাড়া পেশাদার ক্রিকেটে ইনজুরি হতেই পারে। সেটার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কখনোই ভালো করতে না পারার দুঃখটা এবার ঘোচানো সম্ভব? আমার তো মনে হয়, সম্ভব। এটা ভালো একটা সুযোগ। ওদের জয়াবর্ধনের মতো খেলোয়াড় খেলবে না, ওদের জন্য বড় লস। সাঙ্গাকারাও অনিশ্চিত। ১০ হাজার রান করা দুইজন খেলোয়াড় না খেললে শক্তি কমবে ওদের। শ্রীলঙ্কার বোলিং আক্রমণও খুব আহামরি বলবো না। মুরালি-ভাস যাওয়ার পর ওরা খুব কম টেস্টই জিতেছে। আমাদের জন্য গত সাত-আট বছরের মধ্যে এটাই সবচেয়ে ভালো সুযোগ ওখানে গিয়ে ভালো ক্রিকেট খেলার।