বালির বস্তার সারি। তার ওপর বসে আছে ১২ বছরের জীর্ণশীর্ণ একটি ছোট্ট শিশু। খালি গায়। একান্তে বসে ক্ষুধার্ত ছেলেটি জলখাবার খাচ্ছে। পরমুহূর্তে দেখা গেল পৃথিবীর সব মলিনতা মুখে নিয়ে শুয়ে আছে সে। বুলেটের আঘাতে ঝাঁজরা হয়ে রয়েছে তার পুরো বুকখানা। ছেলেটি আর কেউ নয় বরং শ্রীলংকার বিদ্রোহী নেতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণের আদরের সন্তান ছোট্ট এই শিশুটি। ২০০৯ সালে তামিলদের দমনের উদ্দেশ্যে দেশটির সেনাবাহিনী ও তামিল টাইগারদের মধ্যে সংগঠিত যুদ্ধের শেষ দিনগুলোর দিকে নিহত হয় সে। এ ঘটনার তদন্ত সুষ্ঠুভাবে না করায় চাপে রয়েছে শ্রীলংকা সরকার।—খবর ডন অনলাইনের।
এমন একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হবার পর সমালোচনার ঝড় বইছে দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর অনেকটা নড়েচড়ে বসেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। গত সপ্তাহে কমিশনের প্রধান নাভি পিল্লে দেশটির সরকারকে অভিযোগ করে বলেন , সরকার এই জঘন্য, নৃশংস ঘটনার তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সরকার বিরোধীরা নিহত হচ্ছে, হচ্ছে অপহূত। এই ছবিগুলো আমাদের চোখে আংগুল দিয়ে বুঝিয়ে দেয় সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়ার পর তাকে অত্যন্ত কঠোরভাবে হত্যা করেছে তারা। কিন্তু এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে দেশটির সরকার। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ যখন আলোচনায় বসতে যাচ্ছে তখন এমন একটি মন্তব্য অনেকটা চাপে ফেলেছে শ্রীলংকা সরকারকে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এ ঘটনায় দেশটির বিষয়ে নতুন করে ভাবার একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধকালীন প্রতিটি ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
