সেঞ্চুরিয়ানে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ টেস্টের তৃতীয় দিনেই ইনিংস ও ১৮ রানে জয়ী হয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ করেছে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। এবারের গ্রীষ্ম মৌসুমটাকে তাই ‘বিশেষ’ হিসাবেই আখ্যায়িত করেছেন স্বাগতিক অধিনায়ক গ্র্যায়েম স্মিথ।
এটা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার টানা ষষ্ঠ টেস্ট ম্যাচ জয় এবং ১৫টি ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড। এই দুটো পরিসংখ্যান যেমন দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট ইতিহাসের জন্য রেকর্ড তেমনি প্রথম প্রোটিয়া অধিনায়ক হিসাবে ৫০তম টেস্ট জয় করেছেন স্মিথ। নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ায় ধারাবাহিক এ্যাওয়ে সিরিজ জয়ের পরে ঘরের মাঠে পাঁচটি ম্যাচ জয় এ সবই স্মিথকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে আক্ষরিক অর্থেই এবারের গ্রীষ্ম মৌসুমটা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য বিশেষ হয়েই থাকলো। আর তাই এই দলের গর্বিত সেনাপতির মতে, আমরা বেশ লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে এই পর্যায়ে এসেছি। আমরা এখানেই ফিরে আসতে চেয়েছিলাম এবং নিজেদের সমর্থকদের সামনে সত্যিকার অর্থেই ইতিবাচক ক্রিকেট খেলার আশা আমাদের ছিল।
এই জয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রাখলো দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু এতে করে দল কোনভাবেই আত্মতুষ্টিতে ভুগছে বলে মনে করেন না স্মিথ। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা আমার এবং পুরো দলের জন্য দারুণ কিছু মাইলস্টোন এনে দিয়েছে। আজকের এই কৃতিত্বে আমি পুরো দলের কাছে কৃতজ্ঞ। বিশেষ একটি দলের অংশ হতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত। আশা করছি এই দলটি আরো অনেক কিছুই অর্জন করতে পারবে।
টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ বোলার হিসাবে ডেল স্টেইনও নিজেকে প্রমাণ করেছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ টেস্টে ৮০ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। স্টেইনের বোলিংয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান ২৩৫ রানে অল আউট হয়। এছাড়া আজহার আলীর রান আউটটিও স্টেইনের কারণেই হয়েছে। এই আউটের পরেই মূলত পাকিস্তানের মিডল অর্ডারে ধস নামে। এছাড়া টেস্ট অভিষেকেই তরুণ ফাস্ট বোলার কেইল এ্যাবোট প্রথম ইনিংসে ৩৯ রানে ৭ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যান সেরা নির্বাচিত হয়েছেন।
এদিকে টেস্ট সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ হওয়া বিধ্বস্ত পাকিস্তানী অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক বলেছেন, পাকিস্তান মোটেই তাদের সাধ্যমত খেলতে পারেনি। সব বিভাগেই তারা ছিল ব্যর্থ। মিসবাহ বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের কন্ডিশন বেশ ভালভাবেই রপ্ত করে তিন বিভাগেই নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে।
চলতি বছরের শেষে এই দুই দল সংযুক্ত আরব আমিরাতে আবারো একে অপরের মুখোমুখি হবে। যেখানে কন্ডিশন সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। কিন্তু মিসবাহ বলেছেন এখন তাদের সম্পূর্ণ মনোযোগ দুই ম্যাচের টোয়েন্টি ২০ এবং পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের উপর। শুক্রবার ডারবানে প্রথম টি ২০ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ানডে সিরিজে দলে কিছু নতুন খেলোয়াড়ের আগমন ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে বলেই মিসবাহ মনে করেন। তার মতে যখন কোন সিরিজে কোন দল পরাজিত হয় তখন খেলোয়াড়দের মনে সেই সিরিজের বিভিন্ন বিষয়গুলো থেকে যায়। ফলে তারা কিছুটা হলেও নেতিবাচক হয়ে উঠে। কিন্তু সেখানেই যদি নতুন খেলোয়াড়রা যোগ দেয় তবে তারা সতেজ মন নিয়ে উজ্জীবিত অবস্থায় দলকে চাঙ্গা করে তুলতে পারে।
স্মিথ বলেছেন একপেশে ম্যাচে তার দল যে ধরনের পরিণত এবং পেশাদারী মনোভাব দেখিয়েছে তা সত্যিই গর্ব করার মত। - বাসস/এএফপি
