নেপালের চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশের খুব একটা স্বপ্ন ছিল না। কিন্তু ডাচ কোচরা দায়িত্ব নেয়ায় একটা প্রত্যাশা এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে। এই কোচরা মূলত দায়িত্ব নেবেন সেপ্টেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ লক্ষ্য রেখে। তারপরও চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবল হবে তাদের প্রথম পরীক্ষা। সে পরীক্ষায় রওনা দেয়ার আগে বড় কোনো আশার কথা শোনালেন না কেউ। বরং সবার মুখে ভালো খেলার প্রতীজ্ঞা শুধু।
নতুন কোচ পেয়ে খেলোয়াড়রা প্রেরণা পাচ্ছেন। তারা বলছেন, কোচ বাড়তি কোনো চাপ দিচ্ছেন না। বলছেন, শুধু নিজের খেলাটা খেলতে হবে, ভালো ফুটবল খেলতে হবে। খেলোয়াড়রা নেপালে পৌঁছার আগেই সেখানকার সুযোগ সুবিধা দেখার জন্য দলের ম্যানেজার ইকবাল হোসেন কাঠমান্ডু চলে গেছেন।
গতকাল জাতীয় দল রওনা হল নেপালের উদ্দেশ্যে। ডাচ কোচরা সরাসরি বিমানবন্দরে চলে যান। আর খেলোয়াড়রা সকালে বাফুফে ভবন থেকে বিমানবন্দরের পথে রওনা দেন। যাওয়ার আগে খেলোয়াড়রা নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানান। তারা বলছেন, পুরো দল খুব উজ্জীবিত। দলের সবাই খুব একতাবদ্ধ আছেন বলেও দাবি করছেন।
দলীয় লক্ষ্যের বাইরে আছেন কিছু ছোট ছোট ব্যক্তিগত লক্ষ্যও। মোহামেডানের বিরুদ্ধে ম্যাচে শেখ রাসেলের স্ট্রাইকার, জাতীয় দলের অন্যতম তারকা এমিলি বুকে ব্যথা পাওয়ায় তিনি ছিটকে গেছেন দল থেকে। স্ট্রাইকারের জায়গাটা হয় তো পাবেন আবাহনীর শাখাওয়াত হোসেন রনি। তার জন্য একটা চ্যালেঞ্জই বটে। কাল সকালে রনিও সেইটাই জানিয়েছেন সাংবাদিকদের। বললেন, ‘এমিলি ভাইয়ের জায়গায় হয় তো আমি সুযোগ পাবো। কোচ আমাকে সে সুযোগ দিলে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করব।’
তরুণ এবং সিনিয়র খেলোয়াড়দের নিয়েই দল গড়া হয়েছে। এদের মধ্যে একেবারেই নতুন মুখ ব্রাদার্সের মিডফিল্ডার জামাল হোসেন এবং বিজেএমসির স্ট্রাইকার তকলিস আহমেদ। দু’জনেই নেপালে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়েছে সাফাল পোখারা গোল্ডকাপ ফুটবলে খেলেছেন। জামাল বললেন, ‘আমি যেহেতু সুযোগ পেয়েছি, সেটা কাজে লাগাতে চাই। কোচের চোখে পড়তে হলে ভালো করতে হবে।’ তকলিসের মত হচ্ছে, ‘দলে স্ট্রাইকারের সংখ্যা কম। আমি চেষ্টা করব সুযোগ করে নিতে।’ তরুণদের সাথে সিনিয়রদের মধ্যে একটা ভালো বুঝাপড়া হয়েছে বলে দাবি করেন জাতীয় দলের এই নতুন মুখ।
এমন একটা চ্যালেঞ্জ আছে মারুফ আহমেদেরও। ২০০৯ সালে শেষ বার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়েছিলেন দেশের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার মারুফ আহমেদ। এরপর তাকে আর জাতীয় দলে দেখা যায়নি। স্থানীয় কোচদের উপেক্ষার শিকার হয়ে অভিমানে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। দীর্ঘদীন পর আবার জাতীয় দলে ঢুকলেন তিনি। তাই অভিমান ঝরল তার কণ্ঠে, ‘এবার নির্বাচনটা সঠিক হয়েছে, ফেয়ার হয়েছে। আমি কোচের আস্থার প্রতিদান দিতে চাই। মাঠে নিজের সেরাটা দেব।’ মিডফিল্ডে মারুফের সঙ্গী হচ্ছেন মামুনুল ইসলাম; দলের সহ অধিনায়ক। খুব বেশি কিছু না বলে জানিয়েছেন, ‘ভালো খেলার মন্ত্র নিয়ে যাচ্ছি আমরা।’ টিম বাসে ওঠার আগে অধিনায়ক সুজনের কথা, ‘আমাদের যতটুকু সামর্থ্য আছে তা প্রয়োগ করব। কোচকে ভালো লেগেছে, নতুন কিছু পেয়েছি।’
