ক্ষুদ্র কৃষকদের সরাসরি কৃষি উপকরণ প্রদানের সুপারিশ

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:২২
প্রস্তাবিত ‘জাতীয় কৃষি নীতি’তে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সরাসরি বীজ, সার, সেচ সুবিধাসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদানের বিধান করা ও সরকারি প্রকল্পসমূহ এবং অন্যান্য সেবাসমূহের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘কৃষি উন্নয়ন ঃ সরকারি সেবার দায়বদ্ধতা ও নীতি সহায়তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ সুপারিশ করেন। গভর্নেন্স কোয়ালিশন ও দ্যা এশিয়া ফাউন্ডেশন এ সভার আয়োজন করে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ শওকত মোমেন শাহজাহান এমপি বলেন, বর্তমান সরকার অচিরেই কৃষি নীতি চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। এছাড়া কৃষিভূমি সংরক্ষণের জন্যও নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়নে মাঠ পর্যায়ে লোকবল বৃদ্ধির উদ্যোগ আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এখনো সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হলে আমাদের বিপণন ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে জোরদার করতে হবে যাতে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান না হয়। তিনি কৃষি আদালত গঠনের প্রয়োজনীয়তার উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ডা. মো. সিরাজুল আকবর এমপি; ফজলে হোসেন বাদশা এমপি; মো. মেরাজ উদ্দীন মোল্লা এমপি; কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (মনিটরিং) মো. রফিকুল হাসান প্রমুখ। প্রফেসর ডা. মো. সিরাজুল আকবর, এমপি বলেন, দেশে কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে ভূমি ব্যবহার নীতি প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া সমন্বিত পরিকল্পনার আলোকে সেচ নীতি, ইটের ভাটা নিয়ন্ত্রণ, হাইব্রিড বীজের ব্যবহার, কৃষি ক্ষেত্রে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির অনুপ্রবেশ প্রভৃতি বিষয়েও নজর দিতে হবে। ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, কৃষক তার উত্পাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। কৃষক যাতে বিভিন্ন কৃষি উপকরণ সহায়তা সরাসরি পেতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। মো. মেরাজ উদ্দীন মোল্লা এমপি বলেন, আমাদের অনেক ভালো নীতি ও আইন থাকলেও সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ নেই। আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে ভেজাল সার, কীটনাশক বিক্রেতা পার পেয়ে যান। এ আইনগুলোকে এবং তার প্রয়োগের ব্যাপারে আমাদের আরো কঠোর হতে হবে। আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে গভর্নেন্স কোয়ালিশনের সমন্বয়কারী মহসিন আলী দেশের কৃষি উন্নয়নের জন্য মোট ১২টি সুপারিশ তুলে ধরেন। এরমধ্যে রয়েছে, সরকারি উদ্যোগে উন্নত বীজ সরবরাহ এবং সেচ সুবিধা বৃদ্ধি করা, সরকারি কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন এবং কারিগরি ও পরামর্শ সেবা প্রদান নিশ্চিত করা, ফসল উত্পাদনে সহজ শর্তে ও কম সুদে কৃষি ব্যাংকসহ সকল ব্যাংক থেকে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের ঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা ইত্যাদি। সভায় কৃষি উন্নয়ন ও প্রদীপ কর্মসূচি সম্পর্কে আলোকপাত করেন দি এশিয়া ফাউন্ডেশন, ঢাকার প্রদীপ প্রকল্পের চিফ অব পার্টি রাসেল পেপে ও পরিচালক (সিভিল সোসাইটি) শীলা তাসনিম হক।