চাইল্ড এবডাকশন কনভেনশন স্বাক্ষরে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের আহবান

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:২২
বাবা-মা কর্তৃক ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু অপহরণ (চাইল্ড এবডাকশন) সংক্রান্ত হেগে কনভেনশন স্বাক্ষরের জন্য বাংলাদেশকে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই আন্তর্জাতিক কনভেনশন স্বাক্ষর ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে আইন অনুসারে শিশুর অভিভাকত্ব নিশ্চিত হবে। ফলে বিয়ে বিচ্ছেদ তালাক বা অন্য কোন দ্বন্দ্বের কারণে তারা পৃথক হলে, তাদের শিশুসন্তানকে নিয়ে বাবা অথবা মা এক দেশ থেকে অন্য দেশে চলে গেলে, সেক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নেয়া সহজ হবে। চারদিন ঢাকা সফরশেষে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের শিশু বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা সুসান জেকব সোমবার রাজধানীর আমেরিকান সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান। এসময় অন্যদের মধ্যে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের কনসাল জেমি ফস, আমেরিকান সেন্টারের পরিচালক ভিরাজ লাবেইলি, প্রেস ও তথ্য কর্মকর্তা ক্যালি ম্যাককার্থি প্রেস সেকশন প্রধান মেরিনা ইয়াসমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বাবা-মায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিশু অপহরণের কারণ প্রসঙ্গে সুসান বলেন, একসময়কার ভালবাসার ব্যক্তিটিকে সাজা দিতেই নিজের সন্তানকে অপহরণ অর্থাত্ বাবা অথবা মা সন্তানকে অপরজনের কাছ থেকে অন্য দেশে সরিয়ে নেন। তিনি জানান, এ সফরকালে বাংলাদেশের আইন, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি অভিভাবকের মাধ্যমে এ ধরনের অপহরণ প্রতিরোধে এ কনভেনশন স্বাক্ষরের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এটি স্বাক্ষর করলে একটি কাঠামোর আওতায় সন্তানকে আইন অনুসারে সঠিক অভিভাবকের কাছে পাঠানোর কাজ সহজ হবে। সুসান জেকব আশা করছেন, বাংলাদেশ সরকার দ্রুত এ ব্যাপারে কাজ শুরু করবে। তিনি ঢাকা সফরকালে কমবয়সী মায়েদের সচেতন করা, পথশিশুদের শিক্ষা ও প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে কাজ করছে এমন কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেন। এরমধ্যে তিনি সিআরপি’র কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, এটি সরকার ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের দৃষ্টান্ত। প্রসঙ্গত: ১৯৮০ সালের ২৫ অক্টোবর নেদারল্যান্ডস এর রাজধানী হেগে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে চাইল্ড এবডাকশন কনভেনশনটি গৃহীত হয়। ১৯৮৩ সাল থেকে স্বাক্ষরকারি দেশগুলোতে এই বহুপাক্ষিক সনদটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে এতে ৮৮টি দেশ স্বাক্ষর করেছে।