মাথায় রঙিন ক্যাপ-কাপড়, শরীরে বেগুনী রঙের টি শার্ট, হাতে বৈচিত্র্যময় প্লেকার্ড, মুখে আঁকা উল্কি, ভুভুজেলার শব্দ, চোখে-মুখে উল্লাস আর আনন্দ। সবুজে মোড়া প্রাকৃতিক প্রাচুর্যে ভরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪১তম ব্যাচের ১ম বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির চিত্র এটি। ছাত্র-ছাত্রীরা বাসন্তী নাম খচিত গেঞ্জি, বাহারি নকশার সালোয়ার-কামিজসহ নানা পোশাকে সজ্জিত হয়ে দিনভর ক্যাম্পাসকে বর্ণিল করে তুলেছিল। ছাত্রীরা চুলের বেণিতে গুঁজেছিল গাঁদা, গোলাপ আর রজনীগন্ধার মালা। বাঁধভাঙ্গা উত্সবে সবাই যেন মেতে উঠেছিল। উত্সবে ক্ষণিকের জন্য সবাই যেন হারিয়ে গিয়েছিল। বর্ষপূর্তিতে হলুদ আর বাসন্তীর বর্ণিল আবহে হেসে উঠেছিল দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাস। যেন এ এক অন্য রকম আনন্দ। দিনটি ছিল ১২ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার। ভোর বেলাতে লাল সূর্য পুবাকাশে উঁকি দিতে না দিতেই হাফিজা, সুমা, আতিক, আলোক, প্রজ্ঞা, মিষ্টি, মৌ, রাজু, শিশির, মিতু বিভাগে এসে হাজির। কেননা বিভাগ সজ্জিত করার দায়িত্ব ছিল তাদের উপরেই। ফলে তারা যথাসময়ে এসে উপস্থিত। সকাল ১০টায় কেক কাটার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ জমকালো উদযাপন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কে এম মহিউদ্দিনসহ বিভাগের অন্য শিক্ষকবৃন্দ। এরপর শুরু হল র্যালি। র্যালিতে ব্যান্ড পার্টির পরিবর্তে ছিল প্রত্যেকের হাতে একটি করে ভুভুজেলা। ভুভুজেলার তুমুল বাজনা কান ধোলাই করছে অবিরাম। বর্ণাঢ্য র্যালি পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে সকল শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দিল তাদের প্রথম বর্ষপূর্তির কথা। র্যালি শেষে সবাই একত্র হয় সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের সামনে। একে অপরকে জড়িয়ে ভাগাভাগি করে নেয় আনন্দের ঘ্রাণ। নতুনত্বের ছোঁয়া নিয়ে সবার চোখে-মুখে ছিল আনন্দের প্রতিচ্ছবি। প্রত্যেকের মধ্যে অতুলনীয় ভালবাসার দৃষ্টান্ত। একটি বছরের ব্যবধানে প্রাণের স্পন্দনে গড়ে তুলেছে অপলক ভালবাসার ভাণ্ডার। অনুষ্ঠানের আনন্দের কথা বলতে গিয়ে মোখলেছুর রহমান আকাশ জানায়, এ উত্সবে অংশগ্রহণ করতে পেরে সত্যি ভালো লাগছে। চেষ্টা করছি স্মরণীয় কিছু মুহূর্ত ধারণ করতে আর গত একটি বছরের কথাগুলো মনে করে হূদয়ের বাঁকে একটা করে টান পড়ছে। বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিভাগকে সাজানো হয়েছিল বর্ণিল সাজে। বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয় নানা উক্তি দিয়ে লেখা লাল-সবুজ রঙের পোস্টার। আয়োজন করা হয় দুপুরের খাবারের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় একত্রে বসে সবাই খাবার পর্ব সেড়ে নেয়। খাবার পর্ব শেষ করে তারা ছুটে যায় ঢাকার হাতির ঝিলে। যাওয়ার পথে গাড়িতে হৈ-হুল্লোড় আর ক্যামেরায় ছবি তুলতে তুলতে কখন যে রাস্তা ফুরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছেছে তারা টেরই পায়নি।
