জাতীয় টেকসই উন্নয়ন কৌশলপত্র এনইসিতে অনুমোদন

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:৫৭
জাতীয় টেকসই উন্নয়ন কৌশলপত্র অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে গতকাল সরকারের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও বিদ্যমান অন্যান্য পরিকল্পনার ভিত্তিতে প্রণীত এ কৌশলপত্র অনুমোদন করা হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। অনুমোদিত কৌশলপত্রে বলা হয়েছে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের অর্থনীতির মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্যে অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যতম হলো টেকসই উন্নয়ন অর্জন। এতে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও স্থিতিশীল পরিবেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলসমূহ গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) জানায়, কৌশলপত্রে বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত সেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাকে বৃহত্তম চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া টেকসই উন্নয়নের জন্য চ্যালেঞ্জগুলো হচ্ছে দারিদ্র্য ও অসমতা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, অদক্ষ পানি ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন। কৌশলপত্রে বিবেচনায় রাখা কৌশলের মধ্যে রয়েছে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা যেখানে ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয় এবং এর সুফল সমাজের সকল স্তরে সমভাবে প্রবাহিত হয়। এছাড়া, রেগুলেটরী ফ্রেমওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সুদৃঢ় জ্ঞানের ভিত্তি গড়ে তোলাও টেকসই উন্নয়নের কৌশল হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবগণ, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন। দলিলে পাঁচটি কৌশলগত খাতকে অগ্রাধিকার হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অগ্রাধিকার খাতসমূহ হচ্ছে, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন অগ্রাধিকার খাত (কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন, শিল্পশক্তি, পরিবহন, মানবসম্পদ উন্নয়ন), সামাজিক নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ, পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিবেশ। এছাড়া পাঁচটি কৌশলগত খাতকে সহায়তা প্রদানের জন্য আরো তিনটি খাত দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু, সুশাসন ও জেন্ডার ইস্যুকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।