নির্মাণশৈলীতে চমক থাকায় তার প্রতিটি বিজ্ঞাপনচিত্র সমান জনপ্রিয় হয়ে ওঠে দর্শকদের কাছে। বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনচিত্র দিয়েই তিনি জয় করেছেন দর্শকের হূদয়। বিজ্ঞাপন নির্মাণের আসার নেপথ্যের গল্প জানতে চাইলে আপন আহসান মৃদু হাসলেন। কয়েক সেকেন্ডের বিরতি নিয়ে খুলে বসলেন তার কথার ঝাঁপি। তার ভাষ্যে, ‘অভিনয়ের প্রতি দুর্বার আকর্ষণ ছিল বলে মঞ্চের সাথে নিজেকে জড়িয়েছি অনেক আগেই। সেখানেই অভিনয় শেখা ও নিজেকে অভিনয়ের সাথে উজার করে দেওয়া। মঞ্চে বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেছি এবং এখনও করছি। পরে টিভি নাটকেও অভিনয় করেছি। তবে টিভি নাটকের চেয়ে মঞ্চে অভিনয় করতে আমার বেশি ভালো লাগে। ১৯৯৩ সালে অ্যাড ফার্মে কাজ শুরু করি। কাজ করতে করতে নিজের ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাই। নিজেকে ঋদ্ধ করে ১৯৯৭ সাল থেকে বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণে হাত দিই। সেই থেকে এখনও বিজ্ঞাপন নির্মাণের সাথেই আছি।’ তার নির্মিত উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনচিত্রগুলো হলো—আরসি কোলা, আড়ং, ফ্রেশ সুগার, নারী পাচার প্রতিরোধে সোস্যাল ওয়ার্ক, মেছওয়াক টুথপেস্ট, ডাবর আমলা, ওয়ার্ল্ড কাপকে ঘিরে গ্রামীণ ফোন পাওয়ার প্লে প্রভৃতি। বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে আপন আহসান নির্মিত ফ্রেশ সয়াবিন ও মেছওয়াক টুথপেস্ট-এর বিজ্ঞাপন। আমাদের দেশে অনেক পেশা আছে। সেগুলোর মধ্যে থেকে বিজ্ঞাপন নির্মাণ পেশাটি বেছে নেওয়া পেছনে তার নিজস্ব কিছু মতবাদ রয়েছে। সেগুলোর কথা জানতে চাইলে আপন আহসান বলেন, ‘এটা একটা খুব জনপ্রিয় জব। কাজ করতে গিয়ে সব সময় একটা এক্সাইটমেন্ট কাজ করে। প্রতিদিন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। ফিল্ম মেকিংয়ে অনেক ক্ষেত্র কাজ করে। এখানে অভিজ্ঞতার ব্যাপার আছে। আর এই অভিজ্ঞতা অনেক দূর যেতে সাহায্য করে।’ আলোচনার এ পর্যায়ে এসে তিনি তার বিজ্ঞাপন নির্মাণ নিয়ে কথা বলেন। যখন তিনি কোনো বিজ্ঞাপন চিত্র নিয়ে কাজ করেন, তিনি প্রতিটা কাজই করেন খুব যত্ন নিয়ে। তার কাছে প্রতিটি কাজ নতুন। একেকটা তার কাছে একেক রকমের অ্যাপ্রোচ। তিনি প্রতিটা কাজকেই খুব সুন্দরভাবে লালন করেন। গড়ে তোলেন নতুন নতুন সৃষ্টির আলোয়। আর সেখানেই আসে ক্লায়েন্টের প্রশ্ন। ক্লায়েন্টরা চায় তাদের প্রতিটা কাজ হোক নতুন, ব্যতিক্রমী হোক। আর তাই কাজ শুরুর আগে করে নিতে হয় কাজের ড্রাফট। এরপর সেটা অনুয়ায়ী এগিয়ে যেতে হয় কাজের মাধ্যমে। একবার কাজ শুরু হয়ে গেলে তা পরিবর্তন করার সুযোগ খুব কম থাকে। আর তাই অনেক সুন্দর করে প্ল্যান করে তারপর কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটের কথা বলতে গেলে একটু থামতে হয়। তবে তিনি মনে করেন, নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় এই পেশাটি। সেই সাথে তিনি আরও মনে করেন এই পেশার সাথে জড়িয়ে থাকা তরুণদের ভবিষ্যতও বেশ আলোকিত, একঅর্থে ব্রাইট। পাশাপাশি নতুন যারা এই পেশায় আসতে আগ্রহী তাদের জন্য তিনি বলেছেন, ‘কেউ আসতে চাইলে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য এই ক্ষেত্রটি বেশ ভালো।’ আর যারা নতুন করে এই পেশায় এসেছেন তাদের কাজের মূল্যায়নের কিছু প্রশ্নও রয়েছে। তিনি মনে করেন নতুন যারা কাজে আসছে তারা মেধাবী। অবশ্যই তাদের মেধার মূল্যায়ন করা হয়। তবে এই পেশায় সবচেয়ে বড় যে জিনিসটা প্রয়োজন তা হলো—অভিজ্ঞতা। এই লাইনে কাজ করতে গিয়ে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তৈরি হয় স্টাইল। আর যারা এই লাইনে মেধা নিয়ে আসছে তারা ভালো করছে। তবে তুমুল প্রতিযোগিতার লড়াইয়ে হারিয়ে যাচ্ছে অনেকেই। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, এখানে লড়াইটা হয় অনেক বেশি। আজ এই অবস্থানে এসে তিনি মুখোমুখি হয়েছেন অনেক পরিস্থিতির। কোনোটা ভালো তো আবার কোনোটা বন্ধুর। তাই এই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি নতুনদের জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন, ‘নিজের পারসোনালিটি খোঁজা দরকার। নিজের দেখার ভঙ্গি তৈরি করতে হবে।’ এই গুণী নির্মাতা সম্প্রতি শুটিং শেষ করলেন এওয়ান ইউপিভিসি ফিটিংস, ডাবর আমলা, ডাবর হানি, মেছওয়াক টুথপেস্ট বিজ্ঞাপনচিত্রগুলো। বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে তিনি আফজাল হোসেনকে আইডল মানেন। আপন আহসানের ভাষ্যে, ‘আফজাল ভাইয়ের দেখানো পথেই আমি হাঁটছি।’ ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথা জানলে চাইলে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখি। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ দিকে চলচ্চিত্র নির্মাণে হাত দেবো।’
