মিউজিক

আলোকিত পরিবার কোরস

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:৩০
সবচেয়ে ছোট বোন আন্দ্রেয়া কোর জেন যেন হ্যামেলিনের সেই বাঁশিওয়ালা। বাঁশিতে সুর তুললে বিমোহিত হয়ে যান শ্রোতারা। সাধারণ কোনো বাঁশি না, টিনের বাঁশি, যা কিনা আয়ারল্যান্ডের ঐতিহ্যেরও অংশ। যে বয়সে ওই বাঁশির সঙ্গে তার প্রথম মিতালি, তখন তিনি ঐতিহ্য কী সেটা বোঝেন না। পরিবারের চতুর্থ এবং সর্ব কনিষ্ঠ সন্তান যখন যা হাতে নেয় কিছুক্ষণ পর তা-ই হারিয়ে ফেলে। তার বেলায় এমনটি হয়নি, বরং আরও যত্নে আগলে রেখেছেন সেটা। তাদের পরিবারের অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী সব ভাই-বোনই কিছু না কিছু বাজাত। আন্দ্রেয়ার নেশা ছিল বাঁশিতে। কিন্তু যে বাদ্যযন্ত্রটিকে ভালোবেসে ফেলেছেন, তা বারবার হারালে তো মুশকিল! একই জিনিসের পেছনে অবিরাম পয়সা ঢেলে যেতে বাধ্য করায় বাবা-মায়ের বকুনি তো জুটবেই। আর তাই মেয়েটি ঠিক করেছিল, বাঁশি বাজাবেই, তবে বাবা-মায়ের কষ্ট বাড়ানো চলবে না। সেই ভাবনা থেকে অন্য কোনো বাঁশির কথা ভাবেননি। আন্দ্রেয়ার বয়স এখন ৪০ হতে চলেছে। সেই টিনের বাঁশি আছে, আর সেই সুবাদে হাজার হাজার মুগ্ধ শ্রোতাও আছে তার সঙ্গে। দ্য কোরস, জগত্ মাতিয়ে দেওয়া আইরিশ এই ব্যান্ডে আন্দ্রেয়া শুধু বাঁশিই বাজান না, চার জনের ব্যান্ডের প্রধান গায়িকা এবং গীতিকারও তিনি। অনেক জনপ্রিয় গানই তার লেখা। মিউজিক টপ চার্ট দেখলে প্রায়ই দেখা যাবে ‘দ্য কোরস’ নামটা। ব্যান্ডটির জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে বড় কৃতিত্ব আন্দ্রেয়াকেই দিয়ে থাকেন ভক্তকূল। আন্দ্রেয়ার তাতে বেজায় আপত্তি। বড় ভাই জিম কোর সঙ্গে না থাকলে এত কিছু সম্ভব হতো বলে মনে করেন তিনি। ব্যান্ডে জিমের প্রত্যক্ষ ভূমিকা কি-বোর্ড এবং গিটারে। জিমের বোন শ্যারন বাজান বেহালা, পরের জন ক্যারোলিন আসর মাতিয়ে রাখেন ড্রাম আর ড্রামেরই আইরিশ সংস্করণ বোধরান বাজিয়ে। তিন বোন দেখতেও খুব সুন্দর। কেউ জানতে না চাইলেও আন্দ্রেয়া, ক্যারোলিন আর শ্যারন সব সাক্ষাত্কারে সুযোগমতো ঠিকই বলে দেন বড় ভাইয়ের অবদানের কথা। বড় সন্তান হিসেবে পরিবার আর শিল্পী হিসেবে সংগীতের প্রতি দায়িত্ব সেই শুরু থেকেই নীরবে পালন করে যাচ্ছেন জিম। ছেলে ভালোভাবে হাঁটতে শেখার আগেই শিল্পী বাবা-মা তাকে বসিয়ে দিয়েছিলেন পিয়ানোর সামনে। একসময় গান, কি-বোর্ড আর গিটারেও ওস্তাদ হয়ে যান জিম। একা বা অন্য কোনো ব্যান্ডে যোগ দিয়েও নাম কামানো সম্ভব ছিল তার জন্য। একটা ব্যান্ডেও যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তখন থেকেই তার ভাবনায় আসে তার আদরের তিন বোনের কথা। তাই যখন মনে হলো বোনগুলো প্রতিভা এবং গানের প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে প্রস্তুত, তখনই জিম নেমে পড়েন পরিবারের পদবীর নামে ব্যান্ডের নাম ‘কোর’ রেখে নতুন করে পথ চলতে। কিন্তু পথচলার শুরুটা খুব সহজ ছিল না। খুব ভালো গাইতে, বাজাতে পারেন, সে কারণে নেচে-গেয়ে-বাজিয়ে আসর মাত করতে খুব একটা সময় লাগেনি তাদের। কিন্তু দেশের বাইরেও নিজেদের তুলে ধরবেন কী করে! পেশাদার প্রডিউসার না থাকলে এ যুগে এগোনোই যায় না। এক শুভাকাঙ্ক্ষীর পরামর্শে বোনদের নিয়ে জিম গিয়েছিলেন সেই মুহূর্তে মাইকেল জ্যাকসনের ‘হিস্টরি’ অ্যালবাম নিয়ে ব্যস্ত ডেভিড ফস্টারের কাছে। সরাসরি ‘না’ বলেননি তিনি, প্রথমে একটু সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু সেটা পরে খুব বেশি সুবিধা এনে দেননি তাদের। ‘দ্য কোরস’ অবশ্য সেই অধ্যায় পেছনে ফেলে অনেক এগিয়ে এসেছেন। গানবাজনা যে কত আনন্দের, কত উপভোগ্য একটা শিল্প—তা হেসেখেলে বোঝাতেই ব্যস্ত তারা। তাদের গান শুনলেই বোঝা যায় আর সবার থেকে তারা কেন আলাদা।