হলিউড

অ্যান্ড দ্য অস্কার গোজ টু...

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:৩১
অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের তালিকা সেরা ছবি :আর্গো সেরা অভিনেত্রী :জেনিফার লরেন্স (সিলভার লাইনিংস প্লেবুক) সেরা অভিনেতা :ড্যানিয়েল ডে-লুইস (লিঙ্কন) সেরা অ্যাকশনধর্মী ছবি :স্কাইফল আজীবন সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড :ডিক ভ্যান ডাইক সেরা পার্শ্ব-অভিনেতা :টমি লি জোনস (লিঙ্কন) সেরা পার্শ্ব-অভিনেত্রী :অ্যান হ্যাথঅ্যাওয়ে (লা মিজারেবল) সেরা অ্যাকশনধর্মী টিভি সিরিজ :গেম অফ থ্রোনস সেরা অভিনেতা টিভি সিরিজ কমেডি :আ্যাালিক ব্লাডওইন (থার্টি রক) সেরা অভিনেত্রী টিভি সিরিজ কমেডি :টিনা ফ্যে (থার্টি রক) সেরা টিভি সিরিজ :ডাউন টন আ্যাাবি। চলচ্চিত্র দুনিয়ার সবচেয়ে জমকালো ও মর্যাদার আসরটি বসে হলিউড অ্যান্ড হাইল্যান্ড সেন্টারের ডলবি থিয়েটারে। এখানেই ৮৫তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস তথা অস্কার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। ঝকমকে গাউন বা চোখ ধাঁধানো পোশাক পরা তারকাদের মেলা বসেছিল এখানে। আর টান টান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো অস্কারের পুরো আয়োজনটি। এবারের অস্কারের আলোচিত সিনেমাগুলো এই তালিকায় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের জীবনী অবলম্বনে স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত ‘লিংকন’। পিছিয়ে ছিলেন না অ্যাঙ লি। ১১টি মনোনয়ন নিয়ে ভালোই জবাব দিয়েছে অ্যাঙ লি’র ‘লাইফ অব পাই’। অবশ্য সবাইকে ছাড়িয়ে বছরের বেশিরভাগ পুরস্কার জিতেছে ৭টি শাখায় মনোনীত বেন অ্যাফ্লেকের ‘আর্গো’ মুভিটি। অস্কারেও এটি সেরা ছবি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল। তবে সেরা পরিচালক হিসেবে অ্যাফ্লেকের নাম মনোনয়ন তালিকাতেই ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত সেরা পরিচালকের পুরস্কারটি চলে গেল ‘লাইফ অব পাই’ খ্যাত পরিচালক অ্যাঙ লির হাতে। আবেগে আপ্লুত হয়ে তার টিমের সবাইকে ধন্যবাদ জানানোর মধ্যে দিয়ে পুরস্কারটি নিয়ে গেলেন তিনি। অস্কার তুলে দিলেন যারা উপস্থাপক হিসেবে ছিলেন, সেথ ম্যাকফার্লেন। সেখানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার তালিকাও করা হয়েছিল। সেই তালিকায় স্থান পেয়েছেন, জেন ফন্ডা, মাইকেল ডগলাস, সালমা হায়েক, লিয়াম নিসন, জন ট্রাভোল্টা, বেন অ্যাফ্লেক, জেনিফার গার্নার, জেনিফার অ্যানিস্টন, জেমি ফক্স, জেসিকা চ্যাস্টেইন, জেনিফার লরেন্সসহ আরও অনেকে। এ ছাড়াও মঞ্চে এক ঝলক দেখা পাওয়া গেছে শার্লিজ থেরন, শেনিং টেটাম, জোসেফ গর্ডন-লেভিট ও ড্যানিয়েল রেডক্লিফের। সেরা অভিনেতা অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে এসে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল মনোনয়ন পাওয়া তারকাদের মধ্যে থেকে নির্বাচিত সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নাম। সেরা অভিনেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন ড্যানিয়েল ডি লুইস। বিখ্যাত এবং সবার প্রিয় মেরিল এসে পুরস্কারটি তুলে দিয়েছিলেন তার হাতে। অবশ্য ‘লিংকন’ সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য সেরা পুরস্কার পাওয়া এটা তার প্রথম না। এর আগে ৭০তম গোল্ডেন গ্লোব-এ ‘লিংকন’ ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে সেরা অভিনেতার পুরস্কারটি জিতেছিলেন তিনি। বিখ্যাত এই সিনেমাটি, আমেরিকার রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনকে নিয়ে নির্মিত, আর এর পরিচালক হচ্ছেন বিখ্যাত পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ। ঐতিহাসিক ডরিস কেয়ার্নস গুডউইনের লেখা ‘টিম অব রাইভেলস’ অবলম্বনে তৈরি হয়েছে এ ছবিটি। এবারে জেনে নেওয়া যাক সেরা অভিনেতা সম্পর্কে কিছু কথা। ড্যানিয়েল মাইকেল ব্লেইক ডে-লুইস একজন ইংরেজ অভিনেতা। তিনি ১৯৯৭ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র চারটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি একজন মেথড অ্যাক্টর হিসেবে পরিচিত। ক্রিসটি ব্রাউন হিসেবে ‘মাই লেফট ফুট’ (১৯৮৯) এবং ড্যানিপডল প্লেইনভিউ হিসেবে ‘দেয়ার উইল বি ব্লাড’ (২০০৭) চলচ্চিত্রে তার চরিত্রচিত্রণ তাকে অ্যাকাডেমি, বাফটা পুরস্কার, এবং স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার এনে দেয়। এ ছাড়া ‘দেয়ার উইল বি ব্লাড’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি একটি গ্লোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার এবং ‘গ্যাঙ্গস অব নিউ ইয়র্ক’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি বাফটা পুরস্কার ও স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার লাভ করেন। বিখ্যাত এই গুণী শিল্পীর জন্ম ডে-লুইসের যুক্তরাজ্যে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ‘সানডে ব্লাডি সানডে’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। সেরা অভিনেত্রী পাশাপাশি ধারণা করা হয়েছিল, ৯ বছরের ওয়ালিশ আর ৮৫ বছর বয়সী রিভা সবচেয়ে কম অথবা সবচেয়ে বেশি বয়সে অস্কার জেতার রেকর্ড গড়তে পারেন। বেশ জোরালো লড়াই হয়েছে জেসিকা চ্যাস্টেইন (জিরো ডার্ক থার্টি), জেনিফার লরেন্স (সিলভার লাইনিংস প্লেবুক), নওমি ওয়াটসনের (দ্য ইম্পসিবল) মধ্যেও। কে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারটি হাতে নিয়ে তৃপ্তির হাসি হাসবেন সেটাই সবার আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। কিন্তু সবার মাঝে থেকে নিজের পথটি করে নিলেন জেনিফার লরেন্স। সেরা অভিনেত্রী হিসেবে তার নামটি ঘোষনার পর তিনি নিজেও কিছুক্ষণ বাকরুদ্ধ হয়েছিলেন। প্রথমবারের মতো অ্যাকাডেমি পুরস্কার জিতলেন তিনি। জেনিফার সার্দার লরেন্স ২০০৮ সালে ‘দ্য বনিং পেইন’ সিনেমাটির মধ্যে দিয়ে সবার নজরে আসেন। তারুণ্যের উচ্ছলতা আর অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শক মাতানো এই অভিনেত্রী পরবর্তীতে ‘হ্যাঙ্গার গেমস’-এ অভিনয়ের জন্য বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছিলেন। তার পুরস্কারের ঝুলিতে প্রথমবারের মতো অস্কার আরও একটি পালক যোগ করল।