আপনার বর্তমান ব্যস্ততা?
কলকাতার ‘সংগ্রাম’ ছবিটির ডাবিং শেষ করলাম, ছবিটির কিছু পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ বাকি আছে, সেগুলোর কাজ হচ্ছে। আর শাকিব খানের বিপরীতে যেই ছবিটি করার কথা ছিল, সেটি বাতিল করেছি।
শাকিবের সঙ্গের এই ছবিটি বাতিল করার কারণ কী?
এই ছবিটার গল্প ভালো। কিন্তু চলচ্চিত্রটির কর্তৃপক্ষদের অপেশাদার মনোভাবের কারণেই কাজটি ছেড়ে দিয়েছি।
আপনি একটি ইন্টারভিউতে বলেছিলেন ‘সংগ্রাম’ ছবিটি কান চলচ্চিত্র উত্সবে যাচ্ছে, কিন্তু যখন বলেছিলেন তখন ছবিটির শুটিংও ঠিকমতো শুরু হয়নি। কান উত্সবে যাওয়ার কথাটি কেন বললেন?
আমাদের এখানে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেকে অনেক ছবি হয়েছে। কিন্তু কোনোটিই আমাদের এ প্রজন্মের জন্য পুরোপুরি যথার্থ হয়নি। আর সেই যথার্থতাই পূরণ করতে যাচ্ছে ‘সংগ্রাম’ ছবিটি। এরইমধ্যে ছবিটির ডাবিং শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু গত বছর কান উত্সবে এই ছবির মিউজিক শোনানো হয়, পাশাপাশি আরও কিছু শেয়ার করা হয়। এগুলোর উপরেই সেখানে প্রস্তাব রাখা হলে এটিকে কান চলচ্চিত্র উত্সবে প্রদর্শনের বিষয়টি ফাইনাল হয়। ছবিটি ভারত, বাংলাদেশসহ ৩০টি দেশে মুক্তি পাবে।
ছবিটিতে নায়ক হিসেবে প্রথম ইন্দ্রনীল ছিলেন, পরবর্তীতে পরমব্রত হওয়ার কারণ কী?
ইন্দ্রনীলের পরিবর্তে পরমব্রতকে নেওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। ইন্দ্রনীলের শিডিউল মেলোনো যাচ্ছিল না তারপর শিডিউল মিললেও তাকে বদলানো হয়। আসলে একটি চলচ্চিত্র নিয়ে সেখানে অনেক ভাবনা-চিন্তা করা হয়। পুঙ্খানুপুঙ্ক্ষভাবে প্রতিটি বিষয় গবেষণা করা হয়। তারা ব্যবসাটাকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়। সর্বশেষ ইন্দ্রনীলের ‘দশমী’ ছবিটি মুক্তি পায়, আর এই ছবিটি কাঙ্ক্ষিত ব্যবসাটুকু করতে পারেনি। বলা যায় ফ্লপ হয়েছে। অন্যদিকে পরমব্রত ‘কাহানি’ ছবিতে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসিত হয়, ছবিটি আলোচিত ও ব্যবসা সফল হয়। তাই প্রডিউসার ইন্দ্রনীলকে নিয়ে সেই রিস্কটা নিতে চাননি।
একটা সময় র্যাম্প মডেলরা বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নিয়ে অনেক নেতিবাচক মন্তব্য করেছে। একজন র্যাম্প মডেল হিসেবে আপনিও সেই কাতারেই পড়েন। হঠাত্ করেই আপনাদের কাছে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র রুচিসম্মত হওয়ার কারণ কী?
আমি আসলে জানি না এই ধরনের মন্তব্য কারা করেছে। আমার কথা বলতে পারি যে, আমি বরাবরই আমার প্রত্যেকটি সাক্ষাত্কারে বলেছি, আমি চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাই। নাটকেও আমি খুব বেছে বেছে কাজ করেছি। মেগা সিরিয়ালসহ অন্যান্য কাজে আমি যাইনি। কখনওই চাইনি আমি আমার চেহারাটাকে অপ্রয়োজনীয় কোনো কাজে ব্যবহার করতে। চলচ্চিত্রে কাজ করাটা আমার অনেক বড় একটা স্বপ্ন। আর অন্য কেউ যদি বলে থাকে তাহলে তাদেরকেও আমি পুরোপুরি দোষ দেবো না। যেমন আমাদের সিনেমার একটি প্রোডাকশনে যে প্রস্তুতি থাকে তার চেয়ে ভালো প্রস্তুতি থাকে নাটকে, কয়েকটি নাটকে কাজ করেছি আমি দেখেছি। এখন এই ভালো মেয়েগুলো এইখানে নিজেকে সংশ্লিষ্ট করবে কী স্বার্থে। এখন যদি একজন ডিরেক্টর এসে ইমিকে বলে যে আপনি এই ড্রেসটা পড়ে নাচবেন, তাহলেই কী সে তা করতে বাধ্য! আমি তাদের দোষ দিতে চাই না। এ রকমই একটি কারণে শাকিবের সঙ্গের এই ফিল্মটা আমি ছেড়ে দিয়েছি। এখনও আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একজন শিক্ষিত মেয়ে এসে কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। আমি যদি এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করি বা করতে ইচ্ছে থাকে তাহলে অবশ্যই একটি ভালো গল্প ও একজন ভালো পরিচালকের জন্য অপেক্ষা করব। নতুবা স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতে হবে। আর স্রোতে গা ভাসানোর নজির অনেক আছে।
র্যাম্প মডেলিংয়ের ভবিষ্যত্ কী বলে মনে হয়?
আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, এই ইন্ডাস্ট্রিটা বড় হচ্ছে। তবে আগে যারা এই ক্ষেত্রে কোরিওগ্রাফার ছিলেন যেমন বিবি রাসেল বা ওই লেভেলের যারা ছিলেন তারা অনেকেই কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু এই শিল্পটাকে ধরে রাখার জন্য বা ডেভেলপ করার জন্য তারা কেউই কিছু করেননি শুধুমাত্র বিবি রাসেল ছাড়া। সবাই যার যার স্বার্থের জন্য সময়ের ব্যবহার করছেন। আমার নিজের প্রতিষ্ঠান গত বছর লঞ্চ করেছি। এখান থেকে দেশের ভিতরে বাইরে বিভিন্ন ইভেন্ট করার উদ্যোগ নিচ্ছি। এরকম আরও কিছু প্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত।
সেই অর্থে বিবি রাসেলের পর বিশ্বে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করে এমন সুপার মডেল বাংলাদেশে পাওয়া যায়নি। আপনার মতামত কী?
বিবি রাসেলকে সম্মান রেখেই বলছি, তিনি বিশ্বে অনেক নাম কুড়িয়েছেন। দেশের জন্য অনেক সম্মানও বয়ে এনেছেন। কিন্তু আমাদের এই জেনারেশন যে সেই সম্মানটা বয়ে আনবে তার কোনো কাজ কিন্তু তিনি করে যাননি। তিনি আমাদেরকে অনেকবার বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন দেশে নিয়ে গিয়েছেন শোয়ের জন্য। কিন্তু প্রতিনিয়ত অন্যান্য দেশে এসব ইভেন্টে যেন আমরা যেতে পারি সেই জায়গাটি তিনি করে দিয়ে যাননি। তিনি আমাদের দেশের জন্য অনেক সুনাম কুড়িয়েছেন কিন্তু এ প্রজন্মের জন্য দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। তিনি শুধু তার কাপড়টাকেই রিপ্রেজেন্ট করেছেন, শিল্পীদের রিপ্রেজেন্ট করেননি। আমরা যদি ভবিষ্যতে সুযোগ পাই তাহলে অবশ্যই নেক্সট জেনারেশনের জন্য অবদান রাখার চেষ্টা করব।
