আশাবাদ নিয়ে শ্রীলঙ্কা যাচ্ছেন মুশফিকরা

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৫
শুধু টেস্ট ক্রিকেটের বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে অপছন্দের কাজ হওয়ার কথা শ্রীলঙ্কা সফর! এমনিতেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এ পর্যন্ত ১২টি টেস্ট খেলে সাতটিতে বাংলাদেশ হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে। আর শ্রীলঙ্কায় গিয়ে আটটি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে সাতটিতেই ইনিংস পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ; আর একটি ম্যাচের পরাজয়ের ব্যবধান ২৮৮ রানের! এমন দেশে আরেকবার সফর করার আগে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের আতঙ্কিতই থাকার কথা। কিন্তু দলের অধিনায়ক বলছেন, এবার অন্তত পরিস্থিতি বদলে দিতে যাচ্ছেন তারা। আর এই বদলের সুর কণ্ঠে নিয়েই বাংলাদেশ দল আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে একটায় শ্রীলংকার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবে। সেখানে দুই টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে মুশফিকরা। পরিসংখ্যানে ফিরে চাইলে এই শ্রীলঙ্কা সফরের আগে ভয় না পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু দেশের মাটিতে শেষ অনুশীলনের পর জাতীয় দল অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বললেন, ভয়ের কিছুই নেই, ‘ওদের নিয়ে টেনশন করা উচিত হবে না। আমরা যে পনেরজন যাচ্ছি, তারা সেরা খেলাটা দেয়ার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। হ্যাঁ, নিজেদের মাটিতে শ্রীলংকা শক্ত প্রতিপক্ষ। তবে তাদের বিপক্ষে ভালো খেলা অসম্ভব কিছু না। ওদের বোলিং আক্রমণ এখন আর অসাধারণ কিছু নেই। মুরালি ও ভাস অবসরের পর ওরা খুব কম টেস্টই জিতেছে। ওরা আমাদের বিপক্ষে সিরিজ জেতার জন্য এক ধরনের চাপে থাকবে। বিপরীতে আমাদের হারানোর কিছু নেই। ফলে আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’ এমনিতে গত বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ যেমন ক্রিকেট খেলছিল; তাতে শ্রীলঙ্কার শক্তি-দুর্বলতার কথা বাদ দিলেও বাংলাদেশ ইতিবাচক চিন্তা করতে পারত। কিন্তু ইনজুরি এই সফর থেকে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে কেড়ে নিয়েছে। ইনজুরির কারণে দলে নেই সাকিব আল হাসান, এনামুল হক জুনিয়র, নাঈম ইসলাম ও নাফিস ইকবাল। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সেরা ক্রিকেটার সাকিবের অভাব সামাল দেয়াটাই একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তবে মুশফিক মনে করছেন, তরুণরা নিজেদের কাজটা করতে পারলে এই সিনিয়রদের অভাব কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে, ‘চোটের কারণে সেরা একাদশের তিনজন খেলোয়াড় নেই। আগের চেয়ে শক্তি হয়তো কমে গেছে। আবার একই সাথে তরুণ ক্রিকেটারদের উপর বিশ্বাস আছে। এটি তাদের প্রাপ্য এবং দারুণ একটি সুযোগ। যারা বাদ পড়েছেন, তাদের ঘাটতি পূরণে আমাদের বাড়তি কিছু করতে হবে’। যদিও এই খেলোয়াড়দের অভাব কাটানোর ব্যাপারে আশাবাদী। তবে অংশত মুশফিক মানছেন যে সিনিয়রদের এসব ইনজুরির বড় কারণ অতিরিক্ত খেলা, ‘সবার ক্ষেত্রে নয়, দুই একজনের ক্ষেত্রে হতে হয়। অনেকের বাড়তি কাজ করতে হয়। প্রতিদিন একটা করে ম্যাচ খেলা থেকে রিকোভারি করে পরের দিন আরেকটি ম্যাচ খেলা, বারবার পুনরাবৃত্তি করা কখনো কখনো কঠিন হয়ে যায়। আমরা হয়তো সময়টা কম পেয়েছি। বিপিএলের পর দশ-পনেরো দিন সময় পেলে হয়তো আরো বেটার হত। যাদের ছোট ছোট চোট আছে তারা ফিরে আসতে পারত’। অভিযোগ উঠেছে, অনেকে ইনজুরি লুকিয়ে বিপিএল খেলেছেন। আন্তর্জাতিক সফর থাকলেও অনেক খেলোয়াড় সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে বরং ইনজুরি নিয়েই বিপিএল খেলেছেন, কারণ সেখানে লোভনীয় পারিশ্রামিকের বিষয়টি ছিল। এই অভিযোগের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন অধিনায়ক মুশফিক, ‘গুরুত্ব দেয়া হয়নি, এটা শুনতে খারাপ শোনায়। এমন না যেন বিপিএলের ম্যাচ না খেললে আমরা পারিশ্রামিক পাবনা। চুক্তি থাকলে টাকা-পয়সা পাব। এটা দিয়ে একজন খেলোয়াড় দলের প্রতি কতটা কমিটেড সেটা বোঝা যায়। যারা চোটে পড়েছেন তারা খুব বাজে সময়ে চোটে পড়েছেন। বিপিএলের পর চোট কাটিয়ে ওঠার সময় পাওয়া যায়নি। এদিক থেকে সম্ভবত যোগাযোগের ঘাটতি ছিল। দেশের জন্য খেলার সবার স্বপ্ন থাকে। যারা সফর মিস করলেন তাদেরই সবচেয়ে বেশি কষ্ট হবে’। তবে এনামের প্রসঙ্গ আসতে আরো একটু আত্মসমর্পন করে কথা বললেন, ‘চোটের কথা এনাম ভাইয়ের আগেই বলা দরকার ছিল। প্রাথমিকভাবে তিনি ভাবেননি চোটটি এত বড় আকারে পরিণত হবে। তার উচিত ছিল চোট ছোট-বড় যাই হোক, অ্যাসেসমেন্ট করানো। তিনি সেটা বুঝতে পারেননি। আর নাঈম ভাইয়ের ব্যাপারে বলবো, যার চোট সেই সবচেয়ে বেশি বুঝতে পারে।’