আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা আবারো দাবি করেছেন ইতালির কর বিভাগের কাছে তার একটি কানাকড়িও বকেয়া নেই। নেপলসে গত মঙ্গলবার এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
ইতালির কর বিভাগের ভাষ্যমতে ম্যারাডোনার কাছে তাদের পাওনা প্রায় চার কোটি ইউরো। যদিও মূল অর্থের পরিমাণটা ছিল অনেক কম। ১৯৮৪ সালে সিরি এ ক্লাব নাপোলিতে যোগ দেয়ার পরে নিয়মিত কর পরিশোধ না করার ফলেই বিগত ত্রিশ বছরে সেটি ফুলেফেঁপে এই রূপ ধারণ করেছে।
তবে বরাবরের মতোই তাদের এই দাবি অস্বীকার করেছেন আর্জেন্টিনার ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক। স্মৃতিবিজড়িত শহর নেপলসে আবারো আসার পরে সংবাদ মাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হওয়া এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমি ইতালির বিচার বিভাগের উপর আস্থা রাখতে চাই। কারণ, আমি তাদের (কর বিভাগ) কাছে একটি লিরাও ঋণী নই।’ সমপ্রতি ইতালির একটি আদালত ম্যারাডোনার পাওনা বিষয়ে কর বিভাগের দাবিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে রায় দেন এবং নতুন করে তদন্ত করে হিসাব দাখিলের নির্দেশ দেন। এরপর আবার ইতালিতে বেড়াতে আসেন ম্যারাডোনা। ইতালিকে নিজের খুব প্রিয় একটি দেশ দাবি করে ম্যারাডোনা বলেন, তিনি আবারো স্বাধীনভাবে ইতালিতে ঘুরে বেড়াতে চান। ঋণের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে তিনি এদেশে পালিয়ে বেড়াতে চান না।
ম্যারাডোনার এমনটা ভাবার যৌক্তিক কারণও আছে। কারণ গত কয়েক বছরে যে গুটিকয়েকবার ইতালিতে এসেছেন প্রতিবারই তাকে মুখোমুখি হতে হয়েছে নানা ঝামেলার। ২০০৬ সেখানে আসলে তার কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে দুটি ঘড়ি আর ২০০৯ সালে কেড়ে নেয়া হয়েছে তার কানের হিরার দুলটি। আবারো নেপলসে ফিরতে পেরে আবেগাপ্লুত ম্যারাডোনা বলেন, ‘আমি আপনাদের সবাইকে বলতে চাই আমার শরীরে আবারো নেপলসের বাতাস অনুভব করতে পেরে দারুন ভাল লাগছে আমার। এই দিনটির জন্য আমি বহুদিন ধরেই অপেক্ষা করছিলাম । তবে এমন কিছু ব্যাপার ছিল যা আমাকে এখানে আসতে দেয়নি। সেগুলো কি তা আমি জানি না।’ নেপলসের প্রতি ম্যারাডোনার এই আবেগের কারণটা মোটেই অননুমেয় নয়। নিজের ক্লাব ক্যারিয়ারের সুবর্ণ সময়টা নেপলসেই কাটিয়েছেন তিনি। ১৯৮৭ এবং ’৮৯ সালে নাপোলিকে জেতান সিরি এ শিরোপা। এখনো তিনি ক্লাবের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। আর নাপোলি সমর্থকরাও যে তাকে এখনো ভোলেননি তার প্রমাণও পাওয়া গেছে সংবাদ সম্মেলনে। অসংখ্য ভক্তের ‘ডিয়েগো, ডিয়েগো’ চিত্কারে মুখোরিত অনুষ্ঠানটা নি:সন্দেহে ম্যারাডোনাকেও ফিরিয়ে নিয়ে গেছে সেই অতীতে।
