ফুটবলের হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে একাডেমী গড়ছে শেখ জামাল

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৮
বাংলাদেশের ফুটবলকে জাগিয়ে তুলে হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব লিমিটেড। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো তৃণমূল থেকে ফুটবলার তুলে এনে তাদের গড়তে ক্লাবটি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহযোগিতায় গড়ছে শেখ জামাল ফুটবল একাডেমী। মার্চেই শুরু হবে এর কার্যক্রম। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অনূর্ধ্ব-১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সের মেধাবী ফুটবলারদের বাছাই করে সেখান থেকে প্রায় ১০০ জনকে এই একাডেমীতে রেখে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেবে ক্লাবটি। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের ডরমেটরিতে অনূর্ধ্ব-১৯- এর আবাসিক ক্যাম্প আরম্ভ হবে। শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের চেয়ারম্যান মঞ্জুর কাদের গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে একাডেমীর বিভিন্ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন বাফুফের সভাপতি কাজী মো. সালাহউদ্দিন, ক্লাবটির গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ, প্রাইম ব্যাংকের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, ইউসিবিএলের ভাইস চেয়ারম্যান ও শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের সদস্য শওকত আজিজ রাসেল, ক্লাবের মেম্বার ইনচার্জ অব ফিনান্স নাজিব আহমেদ, বাফুফের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু নাইম সোহাগ প্রমুখ। দেশের ফুটবলকে জাগিয়ে তুলতেই তারা এরকম একটি একাডেমী গড়ে তুলছেন বলে জানান ক্লাবটির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের যেসব দেশে ফুটবল অনেক উন্নত পর্যায়ে তারা সাধারণত তৃনমূল পর্যায় থেকেই ফুটবলের উন্নয়নের দিকে নজর দেয়। বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ প্রথম নিতে যাচ্ছে ধানমণ্ডির ক্লাবটি।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাফুফে সভাপতি সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এটি শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের একটি ভালো উদ্যোগ। তাদের এই একাডেমী পরিচালনায় যত রকম সহায়তা লাগে তা দিতে প্রস্তুত আছে বাফুফে। আশা করছি পরবর্তীতে তাদের এই উদ্যোগকে অন্য ক্লাবগুলোও অনুসরণ করবে। ভবিষ্যতে যে ক্লাবগুলো এ ধরনের উদ্যোগ নিবে তাদেরকে সমান সহায়তা দেবে ফেডারেশন।’ গতকালের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একাডেমীর সাথে পাঁচ বছরের চুক্তি থাকবে খেলোয়াড়দের। দুই থেকে তিন বছর পর যারা যোগ্যতার পরীক্ষায় উতরাবে তাদের অন্য ক্লাবগুলো ইচ্ছা করলে কিনে নিতে পারবে। অপরদিকে শেখ জামাল নিজের ক্লাবে ওই ফুটবলারদের খেলাতে চাইলে মাসে অন্তত ৫০ হাজার টাকা বেতন দিয়ে খেলাতে পারবে। ক্লাবটির সংগঠকরা আরো জানান, দেশের সকল উপজেলা ও জেলা থেকে মোট ৭০ জন অনূর্ধ্ব-১৯ খেলোয়াড় বাছাই করা হবে। এছাড়াও ইতিমধ্যে বাফুফের বাছাইকৃত অনূর্ধ্ব-১৯ ট্যালেন্ট হান্ট কর্মসূচি থেকে ৩০ জন খেলোয়াড়কেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে এই একাডেমীতে। সর্বমোট ১০০ জন খেলোয়াড় নিয়ে আবাসিক ক্যাম্পটি পরিচালিত হবে। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের ডরমেটরিতে অনূর্ধ্ব-১৯-এর আবাসিক ক্যাম্প আরম্ভ হবে। একাডেমীতে ফুটবলারদের প্রশিক্ষণের জন্য রাখা হয়েছে বিদেশি কোচ গাম্বিয়ার ওমর কে সিসে ও স্থানীয় কোচ মহিদুর রহমান মিরাজকে।