বিচার প্রক্রিয়ায় শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতে বাংলা ইশারা ভাষার দো-ভাষীর তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে সোসাইটি অব দি ডেফ অ্যান্ড সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ইউজার্স (এসডিএসএল) এর নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, সেভ হোম ও সরকারের মানবাধিকার সহায়তা কার্যক্রমসহ অন্যান্য কার্যক্রমে ইশারা ভাষার দো-ভাষীর সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার আইন গ্রহণ ও বলবত্ করার প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করতে হবে। রাষ্ট্র, সমাজ, আদালত ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও বিচারপ্রার্থী প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি খুব একটা সংবেদনশীল নয়। যার কারণে তারা বিচার প্রাপ্তিতে নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হন। বুধবার সকালে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সম্মেলন কক্ষে ‘প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধে এবং প্রতিকারে পুলিশের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের নারী সহায়তা ও তদন্ত বিভাগ, ডিএমপি ও সোসাইটি অব দি ডেফ অ্যান্ড সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ইউজার্স (এসডিএসএল)।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্তি কমিশনার ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল জলিল মণ্ডল। এসডিএসএল-এর সভাপতি এম ওসমান খালেদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন পুলিশ কমিশনার শামীমা বেগম, ভিকটিম সাপোর্ট বিশেষজ্ঞ, মুমিনুন নেছা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক এ্যাডভোকেট নাজরানা ইয়াসমীন হীরা। মতবিনিময় সভার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসডিএসএল-এর কোষাধ্যক্ষ রফিক জামান, স্বাগত বক্তব্য রাখেন শান্তনু দে।
প্রধান অতিথি মো. আব্দুল জলিল মণ্ডল বলেন, প্রতিবন্ধিতা মানব বৈচিত্র্যের একটা অংশ। একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে পুলিশও প্রকৃত সম্মান দিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করবে এটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, মানুষের আশ্রয়স্থল হচ্ছে পুলিশ। প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা ডেস্কের প্রয়োজন নেই। প্রতিবন্ধীতা বিষয়ে পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজন নেই। এ ধরনের প্রশিক্ষণ পুলিশের চলমান থাকে। পুলিশ কমিশনার শামীমা বেগম বলেন, পুলিশ অনেক কিছু করতে পারে আবার অনেক কিছু করতে পারে না। তবে পুলিশের পাশাপাশি সবাই যদি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে এগিয়ে আসে তাহলে পুলিশের জন্য কাজ করাটা সহজ হয়। রফিক জামান মূল প্রবন্ধে বলেন, নির্যাতিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির উপর বিভিন্নমুখী সামাজিক ও পারিবারিক চাপ সৃষ্টি হয়। অনেক সময় আইনি সচেতনতার অভাবের কারণে বিচারের পথ থেকে পিছিয়ে এসে অনেক নির্যাতিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা তার পরিবারের সদস্যরা আসামীদের সঙ্গে আপোষ করতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, অন্যদের মত সমতার ভিত্তিতে কার্যকরভাবে সুবিচার প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য পদ্ধতিগত ব্রেইল, ইশারা ভাষা, টেকটাইল, বিকল্প যোগাযোগ পদ্ধতি, বয়স অনুযায়ী পুলিশ বা বিচার বিভাগের সদস্যরা যথাযথ অবগত না থাকায় তারা হতাশ হয়ে পড়ে।
