সূরা ইখলাস-এর ফজিলত ও আমল

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:০৮
(পূর্ব প্রকাশের পর) সবকিছুই আল্লাহর সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে এবং তাঁর ইচ্ছাশক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। এ ইচ্ছাশক্তি অলস,অমনোযোগী, দুর্বল, নিস্ক্রীয নয়, তা দুর্দ্দম, সর্বজয়ী, প্রাণবন্তু এবং কল্যাণধর্মী। সূরা ইখলাসের উপকারীতা ও ফজিলত সম্পর্কে মুসলিম, তিরমিজী, আবু দাউদ ও নাসায়ীতে একাধিক হাদিস রয়েছে। হজরত ওকবা ইবনে আমের বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল (স.) বলেন, আমি তোমাদেরকে এমন তিনটি সূরা বলছি, যা তওরাত, ইঞ্জিল, জবুর এবং কোরআন সব কিতাবেই অবতীর্ণ হযেছে। রাতে তোমরা ততক্ষণ নিদ্রা যেয়ো না, যতক্ষণ সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস না পাঠ কর। ওকবা বলেন, সেদিন থেকে আমি কখনও এ আমল পরিত্যাগ করিনি (ইবনে কাসীর)। তা ছাড়া আবু দাউদ, তিরমিজী এবং নাসায়ীর এক দীর্ঘ বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাট করে তা তাকে বালা-মসিবত থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট হয় (ইবনে কাসীর)। হজরত আবু হোরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আল্লাহর রাসূল (স.) বললেন, তোমরা সবাই একত্রিত হয়ে যাও। আমি তোমাদেরকে কোরআনের তিনভাগের একভাগ শুনাব। অতঃপর যাদের পক্ষে সম্ভব ছিল তারা একত্রিত হয়ে গেলে তিনি আগমন করলেন এবং সূরা ইখলাস পাট করে শুনালেন। তিনি আরও বললেন, এ সূরাটি কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান (মুসলিম ও তিরমিজী)। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (স.)-এর কাছে এসে আরজ করল, আমি এ সূরাটি খুব ভালোবাসি। তিনি বললেন, এর ভালোবাসা তোমাকে বেহেশতে দাখিল করবে (ইবনে কাসীর)। সূরা ইখলাস পাঠের বহুবিধ উপকার ও ফায়দা রয়েছে। এর মধ্যে এ সূরা বিসমিল্লাহ বা তাসমিয়াহ সহ এক হাজারবার লিখে সঙ্গে রাখলে যেকোন কঠিন বিপদাপদ হতে উদ্ধার লাভ করবে। কঠিন বিপদের সময়ে বিশুদ্ধ মনে এ সূরা পাঠ করতে থাকলে আল্লাহর গজব হতে নিরাপদ থাকবে। এ ছাড়াও এ সূরা আমল করার আরেকটি তরতীব বা নিয়ম হলো, শরীর, মন ও স্থান পবিত্র করে বুধবার দিবাগত রাত হতে আমল আরম্ভ করবে। এদিন থেকে শুরু করে চৌদ্দ রাত পর্যন্ত প্রত্যহ ছয় হাজার বার করে পাঠ করতে হবে। তারপর পনেরতম রাতে ষোল হাজার বার পাঠ করবে। এর পরদিন রাতে শুধু ইখলাস শরীফ দু‘হাজারবার পাঠ করে ইস্তিগফার পড়তে হবে। রাত যখন ভোর হয়ে আসবে তখন নিম্মের দোয়াটি পড়বে। দোয়াটি হলো-“রাহমাতুন আলাইকুম আইয়্যূহাল খুদ্দামু হাজিহিস সূরাতুশ শারীফাতু আই ইয়া জিবালী ওয়া ইন তানুনী বি হাক্কি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহি মা তুফসিদুনা ইল্লা মাসারতুমুল আজাবতা লা-দাওয়ানী ওয়াল আফামাহা লা-তায়া‘তি মা সিররাউ ওয়া আহদ্বারু ওয়া উতিউ বি হাক্কি কাওলিহি তা‘য়ালা উদউনী আসতাজিব লাকুম। ইন্নাল্লাজিনা তাসয়াকুনা আন ইবাদাতি সা ইয়াদখুলুনা জাহান্নামা ওযা আখারীন”।