কৃষি জমিতে শিল্প স্থাপন না করার সুপারিশ

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:০৩
দেশের কৃষি জমিতে বেশি সংখ্যক শিল্প কারখানা স্থাপন করা হলে খাদ্য উত্পাদন ব্যাহত হতে পারে। সে জন্য কৃষি জমিতে শিল্প কারখানা স্থাপন না করার সুপারিশ করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। অপরদিকে কমিটি বলেছে আবহাওয়া অনুকূল থাকলে দেশের চাহিদা অনুযায়ী লবণ উত্পাদন সম্ভব হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে এ,বি,এম গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এসব কথা বলা হয়। সংসদ সচিবালয় জানায়, বৈঠকের শুরুতে লবণের চাহিদা ও উত্পাদন পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে জানানো হয়, বছরে লবণের চাহিদা ১৪ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টনের কিছু বেশি। কিন্তু চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন। আমদানির মাধ্যমে এ ঘাটতি পূরণ করা হয়। গত অর্থ বছরে দেশে লবণ উত্পাদন হয়েছে ১১ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন। একই অর্থ বছরে ঘাটতি পূরণের জন্য সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন লবণ আমদানি করতে হয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের ভবিষ্যত্ লবণের চাহিদা নিরূপণ করা হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চাহিদা অনুযায়ী লবণ উত্পাদন করা সম্ভব হবে। লবণ একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হওয়ায় উত্পাদন ও ভোক্তা পর্যায়ে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়েছে। তাছাড়া তৃণমূল পর্যায়ের লবণ চাষীরা যাতে তাদের উত্পাদিত লবণের ন্যায্য মূল্য পান সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে বলা হয়। অপরদিকে বৈঠকে বলা হয় দেশের কৃষি জমিতে অধিক পরিমাণে শিল্প কারখানা স্থাপন করা হলে খাদ্য উত্পাদন ব্যাহত হতে পারে। আর এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে কৃষি জমিতে শিল্প কারখানা স্থাপন পরিহার করা প্রয়োজন। কমিটি বিসিকের ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে মার্চ মাসের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেছে। তাছাড়া যারা অনিয়মের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে বিসিক ও বিসিআইসি’র সুষ্ঠু ও বিচক্ষণ বাণিজ্যিক নীতি ও নিয়মকানুন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠান দু’টির বর্তমান সমস্যা নিয়েও আলোচনা করা হয়। বিসিকের সামগ্রিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে আরও গুরুত্ব প্রদানের পরামর্শ দেয়া হয়। কমিটির সদস্য খান টিপু সুলতান, মো. খালেদুর রহমান টিটো, এস কে আবু বাকের এবং মইন উদ্দীন খান বাদল বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবসহ সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।