সময়মতো প্রকল্প অনুমোদন না পাওয়ায় জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (জাইকা) একশ’ কোটি ডলারের ঋণ পাওয়া নিয়ে সংকট তৈরি হচ্ছে। ইতিমধ্যে জাইকার ৪ প্রকল্পের মধ্যে একটি আগামী ৫ মার্চের মধ্যে এবং বাকি ৩ প্রকল্প ৩১ মার্চের মধ্যে অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ করার সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এটি সম্ভব না হলে জাইকার ৩৪তম ঋণ প্যাকেজের আওতায় প্রায় ১ বিলিয়ন বা একশ’ কোটি ডলার ঋণ দেয়া সম্ভব হবে না। বুধবার পরিকল্পনা মন্ত্রী একে খন্দকারের সঙ্গে সাক্ষাত্কারে এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন জাইকার বাংলাদেশ প্রধান তাকাও তোদা। শেরে বাংলানগরস্থ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাইকার দুই সদস্যের প্রতিনিধি পরিকল্পনা মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাইকার সঙ্গে এসব প্রকল্পের জন্য ১শ’ কোটি ডলারের ঋণের বিষয়ে আলোচনাও শেষ হয়েছে অনেক আগে। কিন্তু প্রকল্পগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়াধীন থাকলেও অনুমোদন করা হচ্ছে না। প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজে ও দ্রুত শেষ করতে জাইকা প্রয়োজনে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সহযোগিতা করারও প্রতিশ্রুতি দেন বলে জানা যায়।
জাপানের অর্থবছর শেষ হয় মার্চ মাসে। বাংলাদেশে ঋণ প্রদানে তাদের অর্থবছরের সাথে তাল মেলাতে হবে। ফলে এ সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ করা না গেলে ঋণ কার্যকরের সময় আরো এক বছর পিছিয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে তাদের পরবর্তী বাজেটের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এ কারণে প্রকল্পের ব্যয়ও আরো বেড়ে যাবে বলে জাইকার প্রতিনিধি জানিয়ে দেন।
জাইকার অর্থায়নে ৩৪তম ঋণ প্যাকেজের প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতি দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে এ প্রকল্পে জাইকার ঋণ প্রতিশ্রুতি রয়েছে ৩০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অন্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ১২ কোটি ডলার ঋণে নবায়ন যোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন প্রকল্প। চট্টগ্রাম শহরের পানি সরবরাহ বাড়াতে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পে জাইকার ৩৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি আছে।
আবার দেশের উত্তরাঞ্চলে অঙ্গীভূত উন্নয়ন প্রকল্পটি ৫ মার্চের মধ্যে অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নে এ প্রকল্পে জাইকার ঋণ দেয়ার কথা ২১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। জাইকা প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাত্কালে পরিকল্পনা মন্ত্রী এসব প্রকল্প জাইকার চাহিদা মতো সময়ও অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ করার আশ্বাস দেন বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়।
