শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুর্বিষহ টেস্ট রেকর্ডের যন্ত্রণা এবার ঘোচানোর সম্ভাবনা দেখছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। যুক্তি দেয়া হচ্ছে, এবার শ্রীলঙ্কা দলে তাদের বিশ্বমানের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই নেই। সেই যুক্তিতেই কাল ঢাকা বিমানবন্দর ত্যাগ করার আগে নতুন কিছু করার আশা শোনালেন জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। আর এই আশা নিয়েই গতকাল দুপুরে ঢাকা থেকে কলম্বো রওনা হয়ে গেল জাতীয় ক্রিকেট দল।
মাহমুদউল্লাহ এবার প্রতিপক্ষের দুর্বলতা বিবেচনায়ই নিজেদের সিরিজ জয়েরও আশা দেখছেন, ‘লঙ্কান দলের কয়েকজন তারকা ব্যাটসম্যান এবার দলে নেই। দলটিতে অনেক নতুন ক্রিকেটার। তাই আশা করতে পারি সিরিজ জেতার।’
অবশ্য শুধু যে শ্রীলঙ্কাই তাদের সেরা ক্রিকেটারদের পাবে না তা নয়। বাংলাদেশেরও সেরা কয়েকজন ক্রিকেটারকে এই সিরিজ থেকে কেড়ে নিয়েছে ইনজুরি। চার ইনফর্ম ক্রিকেটার সাকিব, নাইম, এনামুল ও নাফীস ইনজুরিতে ছিটকে গেছেন। এছাড়াও ইনজুরিতে আছেন দলের সেরা ওপেনার তামিম ইকবালও। তাই মাহমুদউল্লাহর স্বপ্ন কতটা পূরণ হবে তা দেখার বিষয় মাঠে লড়াই শুরু হলেই।
এসব চ্যালেঞ্জ গতকাল দুপুর ১২টায় হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কলম্বো পৌঁছান বিকেল ৪টায়। এ সফরে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল শ্রীলঙ্কায় একটি অনুশীলন ম্যাচ, ২টি টেস্ট ম্যাচ, ৩টি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। ৩ মার্চ অনুশীলন ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা মিশন। এরপর ৮ মার্চ শুরু হবে টেস্ট সিরিজ।
এই দীর্ঘ সফর দিয়েই শুরু হচ্ছে শেন জার্গুনসেনের বাংলাদেশের স্থায়ী কোচ হিসেবে অধ্যায়। ভারপ্রাপ্ত হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভালো ফলাফল পাওয়া জার্গুসেন মনে করছেন দলের সবাই একটা দল হয়ে খেলতে পারলে সাফল্য আসবেই। সেইসঙ্গে তিনি দলের অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের সমান অবদান আশা করছেন।
শাহরিয়ার নাফিস চোটে পড়ায় দলে এসেছেন আরেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় মোহাম্মদ আশরাফুল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দারুণ রেকর্ডের মালিক আশরাফুলের ওপর প্রত্যাশার একটা চাপ থাকবে। প্রত্যাশা থাকবে আনামুল হক বিজয়, মমিনুল হক ও মার্শাল আইয়ুবের মতো তরুণদের ওপরও। সহ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ বলছেন, এই তরুণদের ওপর তিনি দারুণ বিশ্বাস রাখছেন।
বিশ্বাস রাখাটা যে ভুল কিছু না সেটা প্রমাণ করে দিতে চান আনামুল হক বিজয়। তাদের ওপর যে একটা চাপ থাকবে সেটা জানেন বিজয়। জেনেই বলছেন, ‘আমি জানি, এই সফরে ভালো করতে গেলে আমাদের তরুণদের ভালো করতে হবে। আমরা তরুণরা সেটা করতে চাই। আমি বাড়তি কোনো চাপ নিচ্ছি না। আশা করি নিজের খেলাটা খেলতে পারবো।’
আর মার্শাল আইয়ুবের জন্য এটা অন্যরকম একটা অভিজ্ঞতা। দারুণ পারফরম করেও শুরুতে দলে জায়গা হয়নি। পরে চমক পাওয়ার মতো করে দলে এসেছেন নাঈমের ইনজুরিতে। এখন বড় ইনিংস খেলে জায়গাটা পাকা করতে চান, ‘দলে অপ্রত্যাশিতভাবে সুযোগ এসেছে। একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন বড় ইনিংস খেলে দলের জন্য ভালো কিছু করে জায়গাটা ধরে রাখতে চাই। যদি মাঠে নামার সুযোগ হয় তাহলে নিজের সেরাটা দিয়েই খেলতে হবে। নতুবা দলে টিকে থাকার স্বপ্ন পূরণ হবে না। আশা করি ভালো কিছু দিতে পারবো।’
এই তরুণদের প্রতীজ্ঞা ঠিক থাকলেই তো বাংলাদেশ সফল হয়ে ফেরার কথা।
