চেয়ারম্যান ও ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ
ডিপিআরসি হাসপাতাল
২৯ প্রবাল হাউজিং, রিং রোড
মোহাম্মদপুর, ঢাকা
তথ্য প্রযুক্তির যুগে পাল্লা দিয়ে যে কোন সভ্য জাতিই চায় নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে। দক্ষিণ এশিয়ার আমাদের এই বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। সম্পদ সীমিত থাকা সত্বেও আমরা জ্ঞান, বিজ্ঞান, চর্চা, প্রযুক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিত্সা সকল ক্ষেত্রেই অন্যদের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছি। গত কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশ বিজ্ঞানের সবচাইতে যে বিস্ময় আবিস্কার কম্পিউটার তা বাচ্চা থেকে বৃদ্ধ, শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। কম্পিউটার এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এভাবে জড়িয়ে গেছে যে এটা ছাড়া আমাদের এখন আর চলে না। চিকিত্সা, ব্যবসা, সংস্কৃৃতি, তথ্য
প্রযুক্তি, কৃষি অফিস, কলকারখানা, লেখা-পড়া, ইন্টারনেট সকল ক্ষেত্রেই কম্পিউটার দৈনন্দিন বন্ধু। আমাদের সকল কাজে বিজ্ঞানের এ বন্ধু অনেক সহজেই সমাধান করে দেয়। যে কোন একটি উপকারী বস্তুুর কিছু অপকারী দিকও থাকে। আর কম্পিউটিং-এর গত কয়েক বছর ধরে স্বাস্থ্যগত যে সমস্যা দেখা দিয়েছে তা হল ঘাড় ব্যথা। চিকিত্সকরা একে অবস্থাগত ঘাড় ব্যথা বলে থাকেন। কম্পিউটার এর পাশাপাশি টেবিল, বসার চেয়ার, মনিটর-এর অবস্থান, একটানা এর ব্যবহার ইত্যাদি নানা কারণে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। সব চাইতে বেশি সমস্যা দেয় অফিসে যারা কম্পিউটারকে পেশা হিসেবে ব্যবহার করেন। একটানা ভুল অবস্থাগত কম্পিউটিং-এর ফলে ঘাড়ের মাংসপেশী ও লিগামেন্ট-এ প্রচন্ড চাপ পড়ে পাশাপাশি কি বোর্ডে হাতের অবস্থান ঠিকমত না বসলেও বসার চেয়ারের বেক সাপোর্ট, চোখ ও মনিটরের অসামঞ্জ্যস অবস্থান এর ফলে এই সমস্যা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতরও হতে পারে। ঘাড় ও হাতের কর্মক্ষমতা আস্তে আস্তে কমে আসে। যেহেতু কম্পিউটিং একটি আধুনিক পেশা ও আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে জড়িত তাই কম্পিউটিং জনিত ঘাড় ব্যথা হলে ভয়ের কিছু নেই। যাদের এ জাতীয় সমস্যা ইদানিং দেখা দিয়েছে তারা একজন ফিজিক্যাল থেরাপি বিষেজ্ঞের চিকিত্সা ও পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন। আর যাদের এখনও সমস্যা দেখা দেয়নি তারা নিম্নের টিপস পালন করে চলুন।
১. আপনার চোখ কম্পিউটার-এর মনিটার এর মধ্যবিন্দু একই রেখায় আছে কিনা, না থাকলে টেবিলে মনিটর উচুঁ-নিচু করে অবস্থান ঠিক করে নিতে পারেন।
২. কি-বোর্ড ব্যবহারের সময় হাতের কনুই ৯০ ডিগ্রি আছে কিনা এবং
কি-বোর্ডের সামনের অংশ একটু উচু কিনা যা হাতের কব্জিকে ১৫ ডিগ্রি এক্সটেনশন করতে সাহায্য করে।
৩. চেয়ারের ব্যাক সাপোর্ট আছে
কিনা বা থাকলেও সমান খাড়া
ভাবে আছে কিনা।
৪. কম্পিউটিং করার সময় চেয়ারে পিছনে ঠেস দিয়ে বসুন ও যথাসম্ভব টেবিলের কাছে চেয়ারটাকে টেনে কাজ করেন।
৫. চেয়ার রিভলভিং হলে ভাল হয়। এতে কাজের ফাকে আপনি একটু এদিক-ওদিক করে নিজেকে রিল্যাক্স বা ষ্ট্রেসিং করার সুযোগ পাবেন।
৬. একটানা ১ ঘন্টার উপর কম্পিউটিং থেকে বিরত থাকুন। কাজের ফাকে অফিসে একটু হেটে বেড়িয়ে আসুন।
৭. ঘাড় ও কাধের কিছু নির্দিষ্ট ব্যায়াম আছে যা আপনি কাজের ফাকে ফাকে করতে পারেন। তবে অবশ্যই একজন ফিজিও থেরাপি বিশেষজ্ঞের নির্দেশ মতে হতে হবে।
