ময়মনসিংহের চরাঞ্চলে গম ও ভুট্টা চাষে অভাবনীয় সাফল্য

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৩, ১৮:০০
বিদেশি দাতা সংস্থা সিরিয়ালি সিস্টেম ইনিসিয়েটিভ ফর সাউথ (সিসা) প্রকল্প ময়মনসিংহে অনাবাদী জমিকে নতুন করে চাষের আওতায় এনে গম, ভুট্টা ও সবজি চাষের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। উদ্যোগটি যেমন সফল হয়েছে, তেমনিভাবে কৃষকরাও বেশ লাভবান হচ্ছেন। আগামী মৌসুমে আরো বেশি জমি চাষের পরিকল্পনা কৃষকদের। সিসা প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক গম ও ভুট্টা উন্নয়ন কেন্দ্র সিমিট ময়মনসিংহ জেলায় প্রায় ২শত একর অনাবাদী জমিকে চাষের আওতায় এনে গম, ভুট্টা ও সবজি চাষ করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন। ৫ শতাধিক কৃষক এতে সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলার চর জেলখানার ব্রহ্মপুত্র চরে গিয়ে কৃষক-কৃষাণিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ চরে গম, ভুট্টা ও সবজি চাষ করে তারা বেশ লাভবান হয়েছেন। ময়মনসিংহ জেলার অনেক চরাঞ্চলে প্রধানত একটি ফসল যেমন-মাসকলাই, তিল, ধৈঞ্চা ইত্যাদি আবাদ হতো এবং এমনকি অধিকাংশ সময়ই বছরের পর বছরই অনাবাদীও থেকে যেত। এই সমস্ত জমি বেলে ও বেলে দোআঁশ বিধায় পানি ধারণ ক্ষমতা অনেক কম। বোরো ধান চাষ করতে হলে ৩০-৬০টি সেচের প্রয়োজন হয়। ফলে খরচ অনেক বেড়ে যায়। তাই বোরো ধান চাষ মোটেই লাভজনক নয়। এ সমস্ত এলাকায় ইউএসএআইডি’র আর্থিক সহায়তায় সিসা-বিডি প্রকল্পের ময়মনসিংহ হাবের সিমিট (আন্তর্জাতিক গম ও ভুট্টা উন্নয়ন কেন্দ্র) অংশ গম ও ভুট্টা চাষ সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে গত ২০১১-১২ সালে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন প্রকারের প্রদর্শনী স্থাপন করে। চলতি ২০১২-১৩ সালে প্রকল্পের বিভিন্ন এলাকায় গম ও ভুট্টা চাষের ব্যাপক সম্প্রসারণ হয়। ময়মনসিংহ সদর থানার চর জেলখানা এমনই একটি গ্রাম। পরিদর্শনে আসা সিমিট এর মহাপরিচালক ড. টম লাম্পকিন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ গ্রামের গম ও ভুট্টার সম্প্রসারণ দেখে অভিভূত হন। তারা কৃষকদের সাথে সরাসরি আলোচনা করে জানতে পারেন যে, আগামী বছর এই চরে গম ও ভুট্টার আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে। ময়মনসিংহ হাবের ক্রপিং সিস্টেম এগ্রোনমিস্ট ড. দীনবন্ধু পন্ডিত জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর গমের আবাদ এই চর এবং পার্শ্ববর্তী ৫টি গ্রামে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৭০০% এবং ভুট্টার আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৪০০%। অনেক কৃষক ভুট্টার সাথে আন্ত ফসল হিসাবে স্বল্প মেয়াদী শাক জাতীয় ফসল চাষ করেও ব্যাপক লাভ পাচ্ছেন। শাক-সবজি বিক্রি করে তারা যে লাভ পাচ্ছেন, তা দিয়ে ভুট্টা আবাদের সমস্ত খরচ উঠে আসছে। ভুট্টা বিক্রির সমস্ত টাকাই তাদের লাভ হিসাবে থাকবে। আগামী বছর ভুট্টার সাথে শাক জাতীয় ফসলে আন্ত চাষও বৃদ্ধি পাবে।