রায়ান গিগস, নিকি বাট, গ্যারি নেভিল, ফিল নেভিল, পল স্কোলস এবং ডেভিড বেকহ্যাম। ইংলিশ ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের সংক্ষিপ্ত তালিকায়ও থাকবে তাদের নাম। একমাত্র ফিল নেভিল বাদে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে তাদের সবারই অভিষেক প্রায় একই সময়। অভিষেকের পরে বহু সময় পেড়িয়ে গেলেও মাঠে আজকেও তারা প্রায় সবাই একই রকম উজ্জ্বল। তাদের পরে এসে যেখানে দেখা গেছে অনেকেই হারিয়ে গেছেন স্মৃতির অতলে। সেখানে এই দীর্ঘ সময় ধরে তারা কিভাবে ধরে রাখলেন নিজেদের। খেলাটার প্রতি এই অনি:শেষ ভালবাসাটারও বা রহস্য কি? এসব কিছুর উত্তর দেয়া যায় মাত্র দুটি শব্দে। অ্যালেক্স ফার্গুসন। আর উত্তরটা যিনি দিয়েছেন তিনি নিজেই ফার্গুসনের খুব প্রিয় শিষ্যদের একজন, ফুটবলের আধুনিক যুগের অন্যতম বড় সুপারস্টার ডেভিড বেকহ্যাম।
বেকহ্যাম বলেছেন, ফার্গুসনের ফুটবল দর্শনটাই তার নিজের হাতে গড়া খেলোয়াড়দের এই দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়তে সাহায্য করে। ইউনাইটেড এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের এই সাবেক মিডফিল্ডার নিজেও ৩৭ বছর বয়সে খেলে যাচ্ছেন একের পর এক ম্যাচ। আমেরিকান মুল্লুক ঘুরে তিনি এখন পাড়ি জমিয়েছেন ফ্রান্সে। যদিও প্যারিস সেন্ট জার্মেইর সঙ্গে তার চুক্তিটি মাত্র মাস কয়েকের। শুধু বেকহ্যাম নন তার এক সময়কার ইউনাইটেড সতীর্থদের বেশিরভাগই এখনো মাঠ মাতাচ্ছেন বিভিন্ন দলের হয়ে। ম্যানচেস্টারের হয়ে দশ বছর মাঠ মাতানো ফিল নেভিল এখনো দাপটের সঙ্গে খেলে যাচ্ছেন এভারটনের হয়ে। রায়ান গিগস তো আগামী ম্যাচেই নাম লেখাচ্ছেন ইতিহাসে। ম্যানইউর হয়ে তার পরের ম্যাচটি হবে সিনিয়র পর্যায়ে তার ১০০০তম ম্যাচ। নিকি বাট তার দীর্ঘ ২০ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অবসান ঘটিয়ে ২০১১ সালে অবসর নিয়েছেন। বুট তুলে রাখার পরেও ফার্গির ডাকে সাড়া দিয়ে ২০১২ সালে অবসর ভেঙ্গে আবারও মাঠে ফিরেছেন পল স্কোলস। এ মৌসুমেও বেশ কয়েকটি ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার পায়ের ঝলকে ভর করেই উতরে গেছে ম্যান ইউ। অর্থ্যাত্ সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে সবাই কাটিয়েছেন অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ এক ক্যারিয়ার।
এই রহস্যের উত্তর জানতে ফরাসি ক্রিড়া দৈনিক এল ইকুইপ বেকহ্যামের মুখোমুখি হয়। সহ খেলোয়াড়দের উদাহরণ টেনে বেকহ্যাম বলেন, ‘রায়ান গিগস, নিকি বাট, গ্যারি নেভিল, ফিল নেভিল, পল স্কোলস এবং আমি ম্যান ইউর হয়ে নব্বই দশকের মাঝামাঝি আমরা যারা ক্যারিয়ার শুরু করেছি তাদের বেশিরভাগই এখনো মাঠে আছি। আমার মনে হয় এর কারণ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। কিশোর বয়সে তিনি আমাদের পথ দেখিয়েছেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কিভাবে খেলাটাকে শ্রদ্ধা করতে হয়, কিভাবে নিজের শরীরটাকে শ্রদ্ধা করতে হয় এবং তিনি সবসময়ই বলেছেন তুমি যা কর সেটাকে ভালবাস।’
রায়ান গিগসের প্রসংশায় পঞ্চমুখ বেকহ্যাম বলেন. ‘এখনো পর্যন্ত রায়ান গিগসই সবার চেয়ে এগিয়ে আছে। ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সে খেলতে শুরু করে আমার মনে হয় সে কখনোই থামতে চায় না। তবে আমার মনে হয় আমিই সবার শেষে (ঐ প্রজন্মের) অবসরে যাব।’
বেকহ্যাম ম্যান ইউর হয়ে ১৯৯৩ সালে পেশাদার ফুটবলে মাঠে নামেন। সেখানে দশ বছর কাটানোর পরে ২০০৩ সালে তিনি যোগ দেন স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে।
