নেপালের কাঠমাণ্ডুতে দশরথ স্টেডিয়াম। সেখানেই চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলের খেলা শুরু হবে আজ । কিন্তু মাঠের অবস্থা এমনিই খারাপ যে, ম্যাচের আগেরদিন অনুশীলন করতে পারেননি অংশগ্রহণকারী দলগুলো। কথা ছিল ম্যাচের আগেরদিন ৪৫ মিনিট অনুশীলন করবে চার দল। খেলোয়াড় ও কোচ কর্মকর্তারা যখন রাতে ঘুমাতে চলে গেছেন তখন হঠাত্ করে এএফসির ম্যাচ কমিশনার দুইজন এসে জানিয়ে দেন ম্যাচের আগেরদিন (গতকাল) অনুশীলন করা যাবে না। কারণ মাঠ খুবই খারাপ। চার দল যদি অনুশীলন করে তাহলে এই মাঠে খেলা আয়োজন করা যাবে না। উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশ-ফিলিস্তিন এবং দ্বিতীয় ম্যাচে নেপাল ও নর্দান মারিয়ানা খেললে মাঠ নষ্ট হবে। কিন্তু পরদিন খেলা থাকবে না বলে তখন মাঠ পরিচর্যার কাজটা করবে আয়োজক নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তাতে কি মাঠ উপযুক্ত হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে এএফসির ম্যাচ কমিশনার মুনায়েম বলেন, ‘হবে না। কিন্তু গড়ে তুলতে হবে।’ সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন এমন মাঠে চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবল দেয়া হলো কেন। জবাবে ম্যাচ কমিশনার বলেন, ‘এটা এএফসির ব্যাপার।’ স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে না দেয়া হলেও দলগুলোকে মাঠ দেখতে দেয়া হয়েছে। ফিলিস্তিন, নর্দান মারিয়ানা মাঠ নিয়ে আপত্তি তুলেছে। বাংলাদেশ ফুটবল দল মাঠ দেখেছে, কিন্তু সেখানে তারা অনুশীলন করতে না পারায় অসন্তুষ্ট।
দশরথ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ফুটবল দল ১৯৯৯ সালে সাফ গেমসে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। গত ১৪ বছরে দশরথ স্টেডিয়ামে কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বলে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে জানা গেল। মাঠ, ড্রেসিং রুম ভালো না। মিডিয়া বক্স আরো খারাপ। অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক রোদে পুড়ে আলকাতরার মতো গলে গেছে প্রায়। ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামটি দেখলে মনে হয় কোনো পরিত্যক্ত স্টেডিয়ামের প্রতিচ্ছবি। তারপরও এখানে আজ শুরু হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলা। দশরথের তুলনায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামটি যেন ইউরোপের কোনো স্টেডিয়াম।
