গোলা-বারুদের গন্ধ নিয়েও ফুটবলে ফিলিস্তিন

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৩, ২১:৩০
যে কোনো মুহূর্তে প্রাণ যাবে। সব সময় বোমা হামলার একটা ভয় কাজ করে তাদের মধ্যে। খেলোয়াড়দের কাছ থেকে জানা যায় ইসরাইলিদের বোমা হামলায় অনেক ফুটবলার নিহত হয়েছেন। আহত হয়ে অনেকেরই জীবনের প্রদীপ নিভু নিভু করছে। স্টেডিয়ামে বোমা হামলা হয়। দলের মুসলিম খেলোয়াড়রা বললেন, ‘আমাদের অনেকের বাড়িঘর বোমা হামলায় উড়ে গেছে। বাবা-মা, ভাই-বোন হারিয়েছি।’ একটা ভিন দেশে এসেও তারা নিজেদের দেশের কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। একজন আরেকজনকে ইশারা দিয়ে সরিয়ে নিয়ে গেছেন। ছবি তুলতে গেলে খেলোয়াড়রা আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তথাপি যুদ্ধ আর গোলা-বারুদের গন্ধ নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মুখে ফুটবলের কথা। দলের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ বললেন, এভাবেই আমাদের জীবন চলছে। রামাল্লার কারণে আমরা একাধিক ভালো ফুটবলার আনতে পারিনি। ছয়- সাতজনকে গাজায় রেখে এসেছি।’ দলের কোচ জামাল মাহমুদ জানিয়েছেন, আমার দল অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। পাঁচজন ফুটবলার রয়েছেন যাদের বয়স ২০।’ যে কোনো মুহূর্তে ইসরাইলি হামলা হবে জেনেও সেখানে থেমে নেই ফুটবল। তিন বছর আগে শুরু হয়েছে পেশাদার ফুটবল লিগ। আগামী বছর থেকে সেখানে বিদেশি ফুটবলারদের জন্য দরজা খুলে দেয়া হচ্ছে। যারা পেশাদার ফুটলার তাদের মধ্যে অনেকে নিজ দেশ ছেড়ে বিদেশে গিয়ে খেলছেন। আর্জেন্টিনা, মিসর, চিলি, জর্ডান, সুইডেন, বেলজিয়াম, পোল্যান্ডে খেলছেন ফিলিস্তিনের জনা বিশেক ফুটবলার। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন পেশাদার লিগের বারো ক্লাবকে প্রতি মৌসুমে এক লাখ ডলার দিচ্ছে ক্লাব পরিচালনার জন্য। ফেডারেশন থেকে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে একজন ফুটবলারকে প্রতি মাসে কমপক্ষে এক হাজার ডলার পারিশ্রমিক দিতে হবে। তাদের লিগের সেরা খেলোয়াড়টি পান মাসে আড়াই হাজার ডলার বেতন। নেপালের চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলের জন্য ফিলিস্তিনের পেশাদার লিগ দুই সপ্তাহ বন্ধ রয়েছে। যুদ্ধের কারণে নেপালে আসতে পারেনি বেশ কিছু ফুটবলার। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ৬ ফুটবলার আসতে পারেনি। দলের অধিনায়ক রামজি সালেহ আসতে পারেননি। তিনি জর্ডান চলে গেছেন। ফিলিস্তিন ফুটবল দল অনেক শক্তিশালী। বাংলাদেশ, ফিলিস্তিন এবং নর্দান মারিয়ানা কাঠমাণ্ডুর গ্র্যান্ড হোটেলে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা ছাড়া অন্য খেলোয়াড়রা সুঠাম দেহের। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ফুটবলাররা শারীরিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী। উচ্চতা অনেক বেশি। খেলোয়াড়দের পেশিগুলো যেন বহু পরিশ্রমে গড়ে তোলা। ফিলিস্তিন ফুটবলারদের শারীরিক গড়ন দেখে মনে হয়, বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা শারীরিক ক্ষমতার কাছে পিছিয়ে যাবে। ফিলিস্তিন কুয়েতের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে আর ভারতকে ৪-২ গোলে হারিয়ে তারা এখন নেপালে।