হরতাল প্রতিরোধের ডাক গণজাগরণ মঞ্চের

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৩, ২২:৩৬
বিএনপি এবং জামায়াতের পৃথকভাবে ডাকা হরতাল ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করার ঘোষণা দিয়েছে রাজধানীর শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ। সারা দেশের মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং রাজপথে নেমে হরতাল আহ্বানকারী ও পিকেটারদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনরত তরুণরা। গতকাল শুক্রবার বিকালে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শাহবাগে প্রজন্ম চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে হাজারো জনতা জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ফাঁসির রায়কে স্বাগত জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। একইসাথে ‘কোনো খুনি-ধর্ষকের’ পক্ষ হয়ে রাজপথে না নামতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। সমাবেশ থেকে আজ শনিবার দেশের সব সরকারি, বেসরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে এবং বাস, ট্রাক, লঞ্চ, টার্মিনাল, নৌকা, মোটর সাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি পালন করার আহ্বান জানানো হয়। একইসাথে আজ সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ-মিছিল সমাবেশ করতে পুনরায় আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনরতরা। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেও একই কর্মসূচি ঘোষণা করে তা পালন করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘১৯৭১ সালের মতো জামায়াত-শিবির বাংলাদেশের উপর আঘাত হেনেছে। দেশের সকল মানুষ দুর্বার আন্দোলন করে এদের প্রতিহত করুন, প্রতিরোধ করুন। বৃহস্পতিবার তাদের আসল চেহারা স্পষ্ট হয়ে গেছে। এরা হামলা চালিয়েছে হিন্দু ভাইদের উপর। আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে হিন্দুদের মন্দির-ঘর-বাড়িতে।” তিনি বলেন, বিপথগামী কিছু তরুণকে বিভ্রান্ত করে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে রাজপথে নামাচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা-জামায়াতীরা। ঐ তরুণদের বলছি, এ রাজাকারদের পিছু ছাড়ুন, রাজাকাররা আপনাদের রক্ষা করতে পারবে না। ইমরান বলেন, বাংলার মানুষ মাথা নত করতে জানে না। আমাদের ভয় দেখিয়ে কোন লাভ নেই। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায়ের দাবিতে আন্দোলন চলবে। বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জামায়াত-রাজাকারদের সমর্থন-সহযোগিতা না দিতে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু একটি দল তা করেনি। তারা মঙ্গলবার হরতাল দিয়েছে। জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের রাজপথে যুদ্ধাপরাধীদের আঁচড় পড়তে দিব না। তাই রাজপথে থেকেই যুদ্ধাপরাধীদের হরতাল প্রতিহত করব। আপনারা সকলে রবি-সোম-মঙ্গলবারে রাজপথে নেমে আসুন। পতাকার অবমাননাকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা একটি পতাকা ছিঁড়েছেন। কাল (আজ) বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের হাতে পতাকা থাকবে। কয়টি ছিঁড়বেন?’ ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, বিএনপি’র হরতালের নিন্দা জানাই। ছাত্র তরুণ সমাজ আপনাদের রেহাই দিবে না। সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। রবি-সোম-মঙ্গলবারের হরতাল প্রতিহত করতে রাজপথে থাকার জন্য সর্বস্তরের নাগরিকের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি হোসাইন আহমেদ তফছির বলেন, আমরা অহিংস আন্দোলন করছি, তার মানে এই না আমরা সহিংস হবো না। আর যদি জামায়াত-শিবির এই দেশের মাটিতে রক্ত ঝরাতে চায়, তাহলে আর প্রত্যাখ্যান নয়, তাদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই ধোলাই দেয়া হবে। বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু বলেন, বৃহস্পতিবার দেশে সামপ্রদায়িক দাঙ্গার উসকানি দেয়া হয়েছে। জনগণকে সজাগ থাকতে হবে। কোন যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসররা রেহাই পাবেন না। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি আবদুর রউফ, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তমাল, ছাত্র আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মঞ্জুরুর রহমান মিঠু, ছাত্র ঐক্য ফোরামের আহ্বায়ক সোহান সোবহান, ছাত্র সংহতির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাসেল, ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুর মঈন, ছাত্র ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, ছাত্র সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক সালমান খান। সমাবেশ পরিচালনা করেন মারুফ রসুল। এর আগে গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বানে গতকাল জুম্মার নামাজের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দহীদদের জন্য দোয়া করা হয় বলে জানা গেছে। গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায়সহ ছয় দফা দাবিতে গণস্বাক্ষর চলে। দাবির পক্ষে প্রজন্ম চত্বর শ্লোগানে মুখরিত করে রাখেন তরুণ-ছাত্র-জনতা।