সাঈদীর ফাঁসির রায় পর্যালোচনা

দুই হত্যাকাণ্ডের দায়ে দণ্ড একটাই ছয় অপরাধে কোনো দণ্ড নেই!

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৩, ২২:৩৭
পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের দায়ে জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে একটাই দণ্ড দেয়া হয়েছে। প্রমাণিত অপর ছয়টি অপরাধের দায়ে তাকে কোনো দণ্ডই দেয়নি যুদ্ধাপরাধ টাইব্যুনাল। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই দণ্ড না দেয়া রায়ের একটি ত্রুটি। তবে এটি পূর্ণাঙ্গ রায়কে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। এছাড়াও ট্রাইব্যুনাল যে দুটি হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে দুটি অপরাধেই সাঈদীর বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তার অভিযোগ ছিলো। অন্যদিকে, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হলেও ট্রাইব্যুনাল তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলো। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত বৃহস্পতিবার দেয়া রায়ে ইব্রাহিম কুট্টি ও বিসাবালী হত্যার ক্ষেত্রে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তার দায়ে সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। ইব্রাহিম কুট্টি ও বিসাবালী ভিন্ন স্থানে ভিন্ন তারিখে নিহত হয়েছেন। এ দুটি হত্যাকাণ্ডসহ ২০ অভিযোগে সাঈদীর বিরুদ্ধে একটি মামলা হলেও প্রত্যেকটি ঘটনা আলাদা। এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরাও ভিন্ন। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইব্রাহিম কুট্টি ও বিসাবালীকে হত্যার অভিযোগ যেহেতু ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টিতে প্রমাণিত হয়েছে, সেহেতু দুটি হত্যাকাণ্ডেই পৃথক পৃথক মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া উচিত ছিলো। আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২০(২) ধারা অনুযায়ী হত্যকাণ্ডের দায়ে ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে। সুতরাং দুটি হত্যাকাণ্ডের জন্য ট্রাইব্যুনাল পৃথকভাবে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিতে পারতেন। এছাড়া দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আরো রাষ্ট্রপক্ষের ৬টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ায় এসব অপরাধে কোনো আলাদা শাস্তি দেয়া হয়নি। ৬ নম্বর অভিযোগ সম্পর্কে রায়ে বলা হয়, ৭ মে সাঈদীর নেতৃত্বে শান্তিকমিটির একটি দল পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে পারেরহাট বাজারের আওয়ামী লীগ, হিন্দু সমপ্রদায় এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের বাড়িঘর ও দোকান চিনিয়ে দেয়। এসব দোকান ও বাড়িতে লুটপাট করা হয়। এ সময় তারা মাখন লাল সাহার দোকান থেকে ২২ সের স্বর্ণ ও রুপা লুট করে। এ অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ, ১, ৩, ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ হিসাবে হাজির করেছে। এসব সাক্ষীদের প্রমাণের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তে বলা হয়, এ অভিযোগে তাদের সাক্ষ্য অটুট। সম্পূর্ণ অবগত হয়ে তিনি এসব মানবতাবিরোধী অপরাধ করার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন এবং সুযোগ করে দিয়েছেন। তবে সাক্ষীরা দুষ্কৃতকারী হিসাবে সাঈদীর নাম ইচ্ছাকৃতভাবে উচ্চারণ করেননি। ৭ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, ৮ মে বেলা দেড়টার দিকে সাঈদী পাকিস্তানি সেনাদের নেতৃত্ব দিয়ে বাদুরিয়া গ্রামের নুরুল ইসলাম খানের ছেলে শহীদুল ইসলাম সেলিমের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে নুরুল ইসলাম খানকে আওয়ামী লীগার ও শহীদুল ইসলামকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে চিহ্নিত করেন এবং পাকিস্তানি সেনাদের হাতে সোপর্দ করেন। পরে তাদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। রায়ে বলা হয়, সাক্ষীদের সাক্ষ্য-প্রমাণে দেখা যায়, সম্পূর্ণ অবগত হয়ে তিনি এসব মানবতাবিরোধী অপরাধ করার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন এবং সুযোগ করে দিয়েছেন। ১১ নম্বর অভিযোগ সম্পর্কে রায়ে বলা হয়, ২ জুন সাঈদী টেংরাখালী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুবুল আলম হাওলাদারের বাড়িতে পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে যান। সেখানে তার বড় ভাই আব্দুল মজিদ হাওলাদারকে ধরে নির্যাতন করা হয়। এরপর সাঈদী নগদ টাকা লুট ও মূল্যবান জিনিস নিয়ে যান। পরে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ দু’জন সাক্ষী হাজির করে। আসামিপক্ষ এই দুই সাক্ষীকে বিস্তৃতভাবে জেরা করলেও সাঈদীর উপস্থিতির বিষয়টি খণ্ডাতে পারেনি। সকল সাক্ষ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৪ নম্বর অভিযোগ সম্পর্কে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের শেষদিকে সাঈদীর নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের একটি রাজাকার বাহিনী হোগলাবুনিয়ার হিন্দুপাড়ায় যায়। এখানে একজনকে (নাম প্রকাশ করা হলো না) ধর্ষণ করা হয়। পরে এই হিন্দুপাড়ার ঘরে আগুন দেয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের ২৩ নম্বর সাক্ষী মধুসুদন ঘরামি বলেন, যেদিন তাদের বাড়িতে হামলা করা হয় এবং তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয় সেদিন রাজাকারদের মধ্যে সাঈদীও ছিলেন। সাক্ষ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে সম্পূর্ণ অবগত হয়ে তিনি এসব মানবতাবিরোধী অপরাধ করার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন এবং সুযোগ করে দিয়েছেন। ১৬ নম্বর অভিযোগ সম্পর্কে রায়ে বলা হয়, সাঈদীর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের রাজাকার দল পারেরহাট বন্দরের গৌরাঙ্গ সাহার বাড়ি থেকে তার তিন বোনকে ধরে পাকিস্তানি সেনাক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে তিনদিন ধরে ধর্ষণ করে পরে ছেড়ে দেয়া হয়। এ অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ একজন সাক্ষী হাজির করে। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী এ.কে.এম.এ আওয়াল এমপি তার সাক্ষ্যে বলেন, এ ঘটনায় স্থানীয় রাজাকারদের সাথে সাঈদীও জড়িত ছিলেন। সাক্ষ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ট্রাইব্যুনাল অপরাধকে গণহত্যার অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করছে। ১৯ নম্বর অভিযোগ সম্পর্কে বলা হয়, সাঈদী প্রভাব খাটিয়ে পারেরহাটসহ অন্য গ্রামের ১০০-১৫০ জন হিন্দুকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করে। তাদের মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে বাধ্য করা হতো। এ অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষের ৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করে। রাষ্ট্রপক্ষের ২৩ নম্বর সাক্ষী মধুসুদন ঘরামি বলেন, তাকে ও তার পরিবারকে মসজিদে যেতে ও মুসলমান হতে বাধ্য করেছে। এসব অভিযোগ প্রমাণ হলেও সাঈদীকে কোনো দণ্ড দেয়া হয়নি। রায়ে বলা হয়, সাঈদীকে ইব্রাহিম কুট্টি ও বিসাবালী হত্যার ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়ায় ট্রাইব্যুনাল প্রমাণিত অন্য অপরাধের দায়ে কোনো দণ্ড দেয়া হলো না। সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারক বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ এর ২০ (২) ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডসহ যেকোন দণ্ড দেয়ার ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালের আছে। সুতরাং প্রমাণিত অন্য ছয়টি অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী প্রত্যেকটিতে ট্রাইব্যুনালকে আলাদা আলাদা দণ্ড দেয়া উচিত ছিলো। এ দণ্ড দেয়ার পর ট্রাইব্যুনাল বলতে পারতেন যেহেতু আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে সেহেতু তাকে অন্য কোনো দণ্ড ভোগের প্রয়োজন পড়বে না। প্রসঙ্গত, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত ৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যা, গণহত্যা ও ধর্ষণের বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়। এর মধ্যে মিরপুরের আলোকদি গ্রামে ৩৪৪ জনের বেশি মানুষ হত্যা ও মিরপুরের হযরত আলী ও তার স্বজনদের হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন (৩০ বছর) কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া পল্লব হত্যা, কবি মেহেরুন নেসা ও তার মা, দুই ভাই এবং সাংবাদিক খন্দকার আবু তালেব হত্যাকারীদের সঙ্গী হিসাবে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। কিন্তু রায়ে বলা হয়, যেহেতু তাকে যাবজ্জীবন ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে সে কারণে বাকি ১৫ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে না। কিন্তু কাদের মোল্লার মামলায় ট্রাইব্যুনাল প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের দায় এবং শাস্তি আলাদা আলাদাভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কোনো কারণে আপিল বিভাগে মৃত্যুদণ্ড দেয়া অপরাধ থেকে সাঈদীর খালাস বা অন্যকোনো দণ্ড হয় তাহলে প্রমাণিত অন্য ছয়টি অভিযোগে তাকে কোনো দণ্ড ভোগ করতে হবে না। সাঈদীর বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা ও ধর্ষণের অসংখ্য অভিযোগ উত্থাপিত হলেও ট্রাইব্যুনাল কোনো ঘটনায় সরাসরি ঘটানোর কোনো প্রমাণ পাননি। প্রত্যেকটি ঘটনার ক্ষেত্রেই সাঈদীর বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও রাজাকারদের সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, ৮ মে বেলা তিনটার দিকে সাঈদী ও তার দলের সদস্যরা চিথোলিয়া গ্রামের মানিক পসারির বাড়ি লুট করেন। এখানে পাঁচটি ঘরে কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। মানিক পসারির ভাই ইব্রাহিমকে সাঈদীর প্ররোচনায় পাকিস্তানি সেনারা হত্যা করে এবং এবং তার লাশ পাশের একটি ব্রিজ থেকে ফেলা দেয়া হয়। এছাড়া মফিজ কুট্টিকে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে অত্যাচার করা হয়। হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ধর্মীয় কারণে মালামাল লুট এবং বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। এছাড়া অপহরণ, হত্যা ও নির্যাতনও মানবতাবিরোধী অপরাধ। এ অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রপক্ষের এসব সাক্ষীদের সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের সঙ্গে সাঈদীও মানিক পসারির বাড়িতে যায়। সাক্ষীরা দেখেছেন, পাকিস্তানি সেনাদের দেখে ইব্রাহিম কুট্টি ও মফিজ উদ্দিন পসারি পালানোর সময় তাদের ধরে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে হস্তান্তর করা হয়। পাকিস্তানি সেনারা ইব্রাহিম কুট্টিকে গুলি করে হত্যা করে। সাত নম্বর সাক্ষী মফিজ পসারি এ ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী। তিনিই বলেন, রাজাকার বাহিনীর সদস্য দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী তাদের ধরে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। এ সাক্ষীর বক্তব্য অবিশ্বাস করার মতো কোনো কারণ নেই। এ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে বলা হয়, হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। ট্রাইব্যুনাল আইনের ২০ (২) ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ড দেয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ এবং সাক্ষীরা বলেছেন, ইব্রাহীম কুট্টিকে ১৯৭১ সালের ৮ মে মানিক পসারীর বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে পারেরহাট বাজারে মাওলানা সাঈদীর নির্দেশে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অপরদিকে ইব্রাহীম কুট্টির স্ত্রী মমতাজ বেগম এখনো জীবিত। তিনি ১৯৭২ সালে স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে পিরোজপুরে একটি মামলা করেছিলেন। সে মামলায় তিনি উল্লেখ করেন ১৯৭১ সালে ১ অক্টোবর তার বাবার বাড়িতে থাকা অবস্থায় শান্তি কমিটির লোকজন তার স্বামী ইব্রাহীম কুট্টিকে হত্যা করে। এ সময় তার মা সিতারা বেগম এবং ভাই সাহেব আলীকে তারা ধরে নিয়ে যায়। পরে তার মাকে ছেড়ে দেয়া হলেও ভাই সাহেব আলীকে পিরোজপুরে হত্যা করে পাকিস্তান আর্মি। ইব্রাহীম কুট্টির স্ত্রী মমতাজ বেগম মামলায় ১৩ জনকে আসামি করেন। আসামির তালিকায় সাঈদীর নাম ছিল না। মামলার সেই ডকুমেন্ট আসামিপক্ষ হাজির করেন ট্রাইব্যুনালে। এ ছাড়া সাঈদীর পক্ষে বেশ কয়েজন সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন, ইব্রাহীম কুট্টিকে নলবুনিয়া তার শ্বশুর বাড়িতে থাকা অবস্থায় হত্যা করা হয়। রায়ে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। মৃত্যুদণ্ড অপর অভিযোগটি ছিল বিসাবালীকে হত্যার দায়। বিসাবালীর ভাই সুখরঞ্জন বালী রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ছিলেন। কিন্তু তিনি সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে গত বছরের ৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের সামনে থেকে অপহরণের শিকার হন বলে দাবি আসামিপক্ষের। ট্রাইব্যুনাল অপহরণের ঘটনাটি সত্য নয় বলে বিষয়টি আমলে নেয়নি। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল উক্ত সাক্ষীকে হাজির করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কোনো নির্দেশ দেয়নি। ট্রাইব্যুনাল ঐ সাক্ষীকে পরীক্ষা না করেই বিসাবালী হত্যার অভিযোগটি নিষ্পত্তি করেছে। রায়ে সাঈদী যে রাজাকার ছিলেন, তার স্বপক্ষে দৈনিক জনকণ্ঠের ২০১১ সালের ৫ই মার্চের একটি প্রতিবেদন এবং ২০০৭ সালে ৪ নভেম্বর দৈনিক ভোরের কাগজে প্রকাশিত দুইটি প্রতিবেদন এবং মুনতাসীর মামুনের লেখা একটি বইকে আমলে নিয়ে বিষয়টি প্রমাণিত বলে গ্রহণ করেছেন। কিন্তু রাজাকার বাহিনী অর্ডিন্যান্স হয় ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে। আর সাঈদীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার বেশির ভাগই রাজাকার বাহিনী গঠিত হওয়ার আগে। ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রকাশিত কোনো দলিল, গ্রন্থ বা সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে সাঈদী যে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন এমন কোনো প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত হয়নি। বরং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পিরোজপুর জেলা পরিষদ থেকে মুক্তিযুদ্ধের উপর যে বই বের হয় তাতে রাজাকারদের তালিকা থাকলেও ঐ তালিকায় সাঈদীর নাম ছিলো না। ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হিসাবে গ্রন্থটি দাখিল করেছিল আসামিপক্ষ। রায়ে এ বিষয়েও কোনো ব্যাখ্যা নেই।