জামায়াতে ইসলামীর সহিংসতার শিকার প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি ভুরুঙ্গামারীতে চলছে এখন শোকের মাতম। গত বৃহস্পতিবার জামায়াতের হামলার সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ এলাকায় মোটেলে অগ্নিসংযোগ করা হলে জীবন বাঁচাতে তিনি ৩ তলা থেকে লাফ দেন। এতে তার মৃত্যু ঘটে। সেখানে পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল নির্মাণের কাজ চলছিল। তৌহিদুল ইসলাম (৪৯) ছিলেন পর্যটন বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। ঘটনার সময় নির্মাণ কাজ পরিদর্শনের জন্য তিনি মোটেলেই অবস্থান করছিলেন।
এদিকে অনেকের অভিযোগ, জামায়াতের ক্যাডারদের তাণ্ডবে প্রকৌশলী প্রাণ বাঁচাতে মোটেলের ৩য় তলায় উঠলে সন্ত্রাসীরা তাকে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে হত্যা করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় এলাকাবাসী এক নজর দেখার জন্য ছুটে আসে তার বাড়িতে। মা তাহমিনা বেগম ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। বাবা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুজিব নগর কর্মচারী শাহজাহান আলী ২০০০ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অবসর নেন। ৪ ভাই ৩ বোনের মধ্যে তৌহিদুল ছিলেন সবার বড়। তৌহিদুলের ২ ছেলে, ফাহিম এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে আর মুশফিক ৭ম শ্রেণিতে এবং মেয়ে তাবাস্সুম ১ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকাতেই বসবাস করতেন।
শাহজাহান আলী জানান, যাদের নির্মম ও নোংরা রাজনীতির শিকার আমার ছেলে তাদের আমরা বিচার চাই। আর যেন কোন মায়ের কোল খালি না হয় এজন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। এদিকে গতকাল রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের লাশ ভুরুঙ্গামারীতে পৌঁছেনি।
