জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান গতকাল এক বিবৃতিতে সরকারের গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘ, গণতন্ত্রকামী মানুষ ও সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে সরকার আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে সরকার নির্দেশিত ছকে রায় ঘোষণার মাধ্যমে দেশে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। দেশের মানুষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত রায় প্রত্যাখ্যান করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে প্রতিবাদ জানায়। সরকার সাধারণ জনতার এ আন্দোলনকে গুলি চালিয়ে নস্যাত্ করার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা চরম মানবতাবিরোধী এবং মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লংঘন। পৃথিবীর কোন দেশে একদিনে এভাবে গুলি করে এতোগুলো মানুষ হত্যা করার কথা কল্পনাও করা যায় না।
তিনি বলেন, বিভিন্ন চ্যানেল, দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজের মাধ্যমে বিশ্ববাসী দেখেছেন রাষ্ট্রের পুলিশ কিভাবে মানুষকে গুলি করে হত্যা করে টেনে-হেঁচড়ে লাশ নিয়ে যাচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে সরকারের নির্দেশে ও মদদে। তাদের হামলায় ৭০ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছে ৫ সহস্রাধিক নিরীহ মানুষ। তার মধ্যে গুলিবিদ্ধ ৫০০ জনের অবস্থা গুরুতর। তিনি পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে বলেন, আপনারা রাষ্ট্রের সেবক, কোন দলের বাহিনী নন। জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান করা আপনাদের দায়িত্ব। কোন মহলকে খুশি করার জন্য আন্দোলনরত ছাত্রদের ধরে নিয়ে চোখ তুলে হত্যা করবেন, গায়ে বন্দুক রেখে গুলি করবেন, পিটিয়ে পঙ্গু করে দিবেন তা দেশের জনগণ আর সহ্য করবে না। সরকার তার অসত্ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির, প্যাগোডা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ হিন্দুদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করে তা জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের উপর চাপাতে চায়। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্নস্থানে তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে এবং আরও ঘটনা ঘটানোর ষড়যন্ত্র করছে। দেশের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখগণ শাহবাগী নাস্তিকদের শাস্তির দাবি করা সত্ত্বেও সরকার কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং তাদেরকে সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে পুলিশ পাহারায় সকল অপকর্ম চালানোর সুযোগ দেয়া হয়েছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নামাজ আদায় করতে গিয়ে মুসলমানরা হয়রানির শিকার হচ্ছে।
