সারাদেশে গণহারে মানুষ হত্যা ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামকে অবমাননাকারিদের বিরুদ্ধে গতকাল জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বাদ জুমা ইসলামী দলগুলোর বিক্ষোভ করতে দেয়নি পুলিশ। গতকাল শুক্রবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতি জুমাবারে বায়তুল মোকাররমের উত্তরগেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মসজিদের চারপাশে কঠোর অবস্থান নেয়। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ফটকে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। দক্ষিণ ফটক দিয়ে তল্লাশি শেষে মুসল্লিদের প্রবেশের সুযোগ দেয়া হয়। নামাজের আগে সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করা হয়। পুলিশের ভয়ে অনেক মুসল্লি যান অন্য মসজিদে। ফলে গতকাল জুমার নামাজে বায়তুল মোকাররমে ছিলো কম উপস্থিতি। নামাজের সময় মসজিদের মূল অংশে দুই কাতার ছিলো খালি।
নামাজ শেষে মসজিদের দক্ষিণ গেটে যুবলীগ মহানগর দক্ষিণ সভাপতি ইসমাঈল হোসেন সম্রাটের নেতৃত্বে ও ওলামা লীগের একাংশের সভাপতি ইলিয়াস বিন হেলালীর নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এই জাতীয় মসজিদের খতিব প্রফেসর সালাউদ্দিন আহমদ গতকালও জুমার নামাজে আসেননি। তার পরিবর্তে নামাজ পড়ান পেশ ইমাম। গণজাগরণ চত্বরের ঘোষণা অনুযায়ী জুমায় দোয়া অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়া হলেও নামাজের মোনাজাতে এই ধরনের কোন দোয়া করা হয়নি।
জুমার নামাজ শুরুর একটু আগে পুলিশের মতিঝিল জোনের এডিসি মেহেদি হাসান সাংবাদিকদের বলেন, নাশকতা এড়াতে বায়তুল মোকাররমের ভেতরে বাইরে সর্বত্রই সাদাপোশাকধারী পুলিশের কঠোর অবস্থান রয়েছে। পল্টন এলাকার অন্যান্য মসজিদেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে সারাদেশে গণহত্যা, নাস্তিকদের শাস্তি প্রদান ও ইসলামী দলগুলোর সমাবেশ করতে না দেয়ায় প্রেক্ষাপটে এখন থেকে প্রতিদিন বিক্ষোভ করবে ইসলামীদলগুলো। এছাড়া নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসি এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দাবিতে আগামী শুক্রবার সারাদেশে মসজিদ থেকে বিক্ষোভ করা হবে বলে ঘোষণা দেন ৯ ইসলামী মহাজোটের নেতারা। গতকাল জুমার নামাজের পর কামরাঙ্গীরচর নুরীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা চত্বরে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন জোটের শরিক খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা আহমদ উল্লাহ আশরাফ। তিনি বলেন, শাহবাগে আন্দোলনকারিরা নাস্তিক। ফেরাউন, নমরুদ, সাদ্দাদরাও মহান আল্লাহর গজব থেকে বাঁচতে পারেনি। রাম ও বামরা শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে পারবে না। শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত আলেম-ওলামাদের সংগ্রাম চলবে। বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট বন্ধ করে দেয়ায় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে পুলিশ পাহারায় ব্লগার-নাস্তিকদের সরকার আন্দোলন করতে দিয়েছে। অথচ আলেম ওলামাদের সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি। খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি ফজলুল হক বলেন, মহিলারা হাত রঙ্গীন করে মেহেদী দিয়ে, আর শেখ হাসিনা হাত রঙ্গীন করছে মুসলমানের রক্ত দিয়ে।
দৈনিক প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ যেসব মিডিয়া মুসলমানদের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন করবে তাদের বর্জনেরও হুমকি দেয়া হয় এ সমাবেশ থেকে।
জামায়াত-শিবিরকে বাদ দিয়ে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ‘ইসলামী দলসমূহ’-এর ব্যানারে এই বিক্ষোভ সমাবেশ করে এই ৯টি দল। ৯ দলের শরিকরা হলো- ইসলামী ঐক্যজোট, চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিস (ইসহাক), জমিয়াতুল উলামায়ে ইসলাম, নেজামে ইসলামী পার্টি, খেলাফতে ইসলামী ও ফরায়েজী আন্দোলন।
বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ:এদিকে প্রতি শুক্রবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম। তারা অনতিবিলম্বে প্রতি শুক্রবার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট বন্ধ রাখার ঘোষণা প্রত্যাহার করার দাবি জানান।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন, শীর্ষ আলেমে দ্বীন ও ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের আহ্বায়ক মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, ১২ দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও খেলাফত আন্দোলনের প্রধান আমীরে শরীয়ত মাওলানা শাহ আহমদুল্লাহ আশরাফ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি শাইখ মাওলানা আবদুল মোমিন, ১২ দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও খেলাফত মজলিশের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মাদ ইসহাক, ইসলামী ঐকজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী প্রমুখ।
