বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পচা মাছকে তাজা দেখানোর জন্য নানা ধরনের ক্ষতিকারক রং ব্যবহার করা হচ্ছে। মাছে এ ধরনের রং ব্যবহারের ফলে পচা মাছকে বেশি সময় ধরে সতেজ দেখায়। অন্যদিকে এসব মাছ খাওয়ার ফলে দিনে দিনে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট মত্স্যবিজ্ঞানী ও মত্স্য প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. নওশাদ আলম জানান, ঢাকার বাজারে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা মাছ প্রায়ই পচে যায়। কখনও কখনও বরফহীন অবস্থায় বেশি বেশি পানি ব্যবহারে অথবা বরফ বা ওপরের মাছের চাপে পড়ে নিচের মাছের রং নষ্ট হয়ে ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
আবার মাছের শরীরের পানি বের হয়ে গিয়ে দেহ খসখসে হয়ে যায়। এ সকল পচা বা অর্ধ-পচা মাছকে তরতাজা দেখানোর জন্য অসত্ মাছ ব্যবসায়ীরা মাছে বিভিন্ন রং ব্যবহার করে থাকে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মাছ আড়ত্ থেকে ডাকের মাধ্যমে কেনার পর খুচরা ব্যবসায়ীরা খুব ভোরে মাছে রং মাখে। কখনও কখনও ডাকের কিছু পূর্বে আড়তেও রং মাখতে দেখা যায়। সাধারণত মাছের মুখ, কানকা, চোখ, বুকের পাখনা ও পেটের দিকে রং মাখা হয়। রুই, কাতলা, সিলভারকার্প, তেলাপিয়া, বেলে, পাবদা, গুলসা, বাতাসী, শোল প্রভৃতি মাছে ভোরবেলা অধিকহারে রং মাখতে দেখা যায়। ঢাকার বাজারে বিক্রিত মাছের শতকরা প্রায় ৪৭ থেকে ৫৫ ভাগ রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, সিলভারকার্পে রংয়ের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে জানান ড. নওশাদ আলম। বেলে ও পাবদা মাছে রং মাখলে বেশ পচা মাছও দিব্যি তাজা দেখায়। মাছ বিক্রির সময় বার বার পানি দিয়ে ভেজানোর অতিরিক্ত রং এর অনেকটাই ধুয়ে চলে যায়। তবে দেহ ভেজা বলে এসকল রংয়ের বেশিরভাগই চামড়া ভেদ করে দেহের ভিতর ঢুকে যায় যা মানুষের দেহে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মাছের দেহে মারাত্মক ক্ষতিকর রং রোডামিন-বি, ক্রাইসোডাইন এবং অরামিন মাছে ব্যাপকভাবে ব্যবহূত হচ্ছে । এই সকল কৃত্তিম রং সস্তা ও সহজলভ্য যা দেশের কাপড় ও কাগজ রঞ্জনশিল্পে অহরহ ব্যবহূত হয়। অন্যান্য ক্ষতিকর রং যা মাছে ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে আছে ম্যালাকাইট গ্রীন, ইয়েলো-জি এবং অলুরা রেড। ক্রাইসোডাইন এবং অলুরা রেডের মধ্যে মানবদেহের পাকস্থলীতে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান রয়েছে। অরামিন কিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা ধ্বংস করে, রোডামিন-বি কিডনি ও লিভার ধ্বংসের পাশাপাশি দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে। ম্যালাকাইট গ্রীন প্রজনন ক্ষমতা ও রুচি নষ্ট করে এবং ইয়েলো-জি এজমা রোগ সৃষ্টি করে। তবে এগুলো থেকে পরিত্রাণের জন্য মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার এবং সেইসাথে সকলের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর প্রতি গুরুত্বআরোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। মাছে রংসহ অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করার প্রবণতা রোধ করা গেলে মানুষ একদিকে যেমন নিরাপদ ও বিষমুক্ত মাছ তেমনি জনস্বাস্থ্যের প্রতি হুমকি বহুলাংশে কমবে।
