রবিন, মিজান, সোহেল ও ইমরান। ওরা সবাই স্কুল ও কলেজের ছাত্র। নতুন প্রজন্মের টগবগে এ তরুণরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। তবে ফেইস বুক, টুইটার, ম্যাসেজ, অনলাইন লাইব্রেরী এবং পত্র-পত্রিকা পড়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কিছুটা জেনেছে। তবে গত ৫ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ চত্বরে শুরু হওয়া গণজাগরণ মঞ্চ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, মূল্যবোধ ও চেতনার সাথে তারা প্রত্যক্ষ ভাবে মিলিত হওয়ার সুযোগ পায়। এ চেতনা তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া ত্রিশ লাখ মানুষের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা এবং স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার আলবদরের বিরুদ্ধে ঘৃণা জাগাতে প্রেরণা জোগায়। গোপালপুর উপজেলার কাহেতা গ্রামের বাসিন্দা অদম্য এ তরুণরা শাহবাগ মঞ্চ থেকে সংগ্রহ করা চেতনার আলোকবর্তিকা নিজ গ্রামে ছড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গ্রামের সকল তরুণকে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি বন্ধের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ করে। শুরু হয় ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবাদ। গতকাল শনিবার দুপুরে কাহেতা হাইস্কুল মাঠে কয়েকশ’ তরুণ সমবেত হয়ে একযোগে মাথা ন্যাড়া করে। পরে ন্যাড়া তরুণরা রাজাকারের ফাঁসি এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাবেশ করে। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার। তরুণদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তিনি নিজেও সমাবেশ স্থলে মাথা ন্যাড়া করেন। তরুণদের নেতা এবং সাদত্ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রবিন জানান, যত দিন জেলহাজতে আটক সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি বন্ধ না হবে ততদিন গ্রামের তরুণ ও যুবকরা মাথা ন্যাড়া অব্যাহত রেখে ঘৃণা প্রকাশ করে যাবে।
