গত তিনদিন ধরে রাজধানীসহ সারা দেশ থেকে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার। জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার থেকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবির কর্মীরা অবরোধ করে রাখায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কক্সবাজারে আটকে পড়েছে কয়েক হাজার পর্যটক। অবরোধের কারণে জরুরি খাদ্যপণ্য, ওষুধ বোঝাই ভ্যান, এমনকি খবরের কাগজও কক্সবাজারে আসতে পারছে না।
তবে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে গতকাল শনিবার ভোররাত থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি, স্পিডবোট ও বিমানযোগে ৫ শতাধিক পর্যটককে ইতিমধ্যে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। আটকেপড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনতে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম নৌ-পথে একটি জাহাজ এবং ঢাকা-কক্সবাজার রুটে তিনটি অতিরিক্ত ফ্লাইট যোগ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকেই কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা দেখা দেয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে ঈদগাঁওতে এক জামায়াত কর্মী এবং পেকুয়ায় এক মাদ্রাসা ছাত্র নিহত হয়। এরপর থেকেই মূলত কক্সবাজার সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর কোন হরতাল না থাকলেও সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় রাস্তা অবরোধ এবং সহিংসতার কারণে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কোন গাড়ি চলাচল করেনি। পরদিন শুক্রবার চকরিয়াতেও অবরোধ করা হয়। পরে অবশ্য রাতে তা প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার অবরোধ প্রশাসন এখনো ভাঙতে না পারায় কক্সবাজার জেলা কার্যত সারা দেশ থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সকালে বেড়াতে আসা কয়েক হাজার পর্যটক কক্সবাজারে আটকা পড়েছেন। আটকেপড়া পর্যটকরা তাদের উদ্ধারের দাবিতে শুক্রবার রাত ১১টার সময় শহরের কলাতলী মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
অবরোধের কারণে কক্সবাজারে নতুন কোন পর্যটকও আসতে পারছে না বলে জানান কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার। ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টোয়াক বাংলাদেশ) সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কক্সবাজার এখন পর্যটকশূন্য। শুক্রবার থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন জলপথে চারটি জাহাজের পরিবর্তে মাত্র একটি জাহাজ চলাচল করছে। শনিবার সকালে মাত্র ৫০ জন যাত্রী নিয়ে কেয়ারি সিন্দবাদ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করে বলে জানান তিনি।
কক্সবাজার সি-বিচ হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে হরতাল-অবরোধের আওতামুক্ত রাখার দাবি জানান।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন জানান, কক্সবাজারে আটকেপড়া পর্যটকদের মধ্যে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে শনিবার ভোররাত থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি, স্পিডবোট ও বিমানযোগে ৫ শতাধিক পর্যটককে ইতিমধ্যে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। বাকি পর্যটকদের রবিবারের মধ্যে পাঠানোর চেষ্টা চলছে।
