নোয়াখালীতে দুর্বৃৃত্তদের হামলায় মৃত প্রকৌশলীর লাশ শনাক্ত

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৩, ২২:৪৫
কর্মস্থল থেকে নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর বাসায় আসার পথে বৃহস্পতিবার রাতে দুর্বৃত্তদের হাতে আহত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ঘোড়াশাল সার কারখানার প্রকৌশলী সুমন ভৌমিক (৩২)। আহত সুমন বজরা হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে মারা যান। সারাদিন অজ্ঞাত পরিচয় লাশ হয়ে পড়ে থাকেন হাসপাতাল মর্গে। সন্ধ্যায় আত্মীয়-স্বজন তার লাশ শনাক্ত করেন। নিহতের বড় বোন সুমি দাস জানান, সুমন ভৌমিক বৃহস্পতিবার কর্মস্থল থেকে বাসযোগে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হন । রাত পৌনে ১০টায় তিনি সোনাইমুড়ী এলাকায় আসেন। বেগমগঞ্জ-সোনাইমুড়ী সড়কে জামায়াত-শিবির কর্মীরা সড়কে ব্যারিকেড দিলে গোলযোগ সৃষ্টি হয়। তিনি বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হন। এরপর পরিবারের সাথে তার যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে যায়। পরিবারের লোকজন ঘটনার রাতে ও শুক্রবার সারাদিন খোঁজা-খুঁজির পর তার লাশ সন্ধ্যায় বজরা হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে। সুমন ভৌমিককে গোলযোগের মধ্যে দুর্বৃত্তরা পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে স্বজনদের অভিযোগ। এদিকে বজরা হাসপাতালের ইনচার্জ ডা. সামসউদ্দিন জানান, রাতে কয়েক ব্যক্তি মাথায় মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত, রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় এক অপরিচিত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত ডাক্তার তার অবস্থা দেখে তাকে নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণের চেষ্টা করেন। কিন্তু রাতে পথে গোলযোগের কারণে তাকে ঐ হাসপাতালে পাঠাতে ব্যর্থ হন। পরদিন সকালে তিনি মারা যান। চৌমুহনী মহাশ্মশানে তাকে দাহ করা হয়েছে। নিহত সুমন ভৌমিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জের লালপুর গ্রামের বিনোদ ভৌমিকের পুত্র। তার স্ত্রী অনিতা ভৌমিক সোনালী ব্যাংক মাইজদী কোর্ট শাখার জুনিয়র অফিসার। তাদের এক বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। তারা মাইজদীর মাস্টারপাড়ার মাওলা ম্যানশনে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসাতে থাকতেন।