ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানলে আমরা বসে থাকতে পারি না

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৩, ২২:৫৭
গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যে সরকার মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারে না অথচ গুলি করে মানুষ হত্যা করে তাদের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত হানলে আমরা বসে থাকতে পারি না। নেত্রী নির্দেশ দিয়েছেন সবাইকে রাস্তায় নেমে আসতে। মির্জা ফখরুল বলেন, গত কয়েকদিন ধরে পুলিশ-র্যাব ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাধারণ নিরীহ মানুষকে গুলি করে হত্যা করছে। এর বিরুদ্ধে আজকের এ মিছিল। আমরা আজ কালো ব্যাজ ও কালো পতাকা নিয়ে মিছিল করছি। আজকে শুধু ঢাকায়ই নয়, সারা দেশের মানুষ সরকারের এ নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। তারা সরকারের এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র ঘৃণা জানিয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, এ দেশের সাধারণ মানুষ যা চায় সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি চাপা দিতে সরকার নতুন ভেলকিবাজি শুরু করেছিল। তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চেয়েছিল। কিন্তু সব কিছুতে ব্যর্থ হয়ে এখন তারা গুলি করে মানুষ হত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করার আহ্বান জানান। বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে সিনিয়র নেতারা ট্রাকের ওপর পাতা মঞ্চে আসেন। বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিকাল চারটার পর নয়াপল্টন থেকে বিশাল মিছিলটি মগবাজারের দিকে এগিয়ে যায়। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে মিছিলের মধ্যভাগ শান্তিনগর পৌঁছলে সেখানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। সমাবেশে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক, দলের সহ-সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা শাহবাগের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পাড়ায়-মহল্লায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। সাদেক হোসেন খোকা বলেন, শাহবাগে কতিপয় বখে যাওয়া তরুণরা ব্লগে মহানবীর বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা তাই মন্তব্য লিখছে। বিশ্বজিত্ হত্যাকারী ছাত্রলীগকে ডানে-বামে রেখে শাহবাগের তরুণরা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা সরকারের হালুয়া-রুটি খেয়ে পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায় আন্দোলন করছেন। দেশের জনগণ এসব বোঝে। শাহবাগের তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরাও পাড়ায়-মহল্লায় আপনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। প্রয়োজনে এমন আন্দোলন গড়ে তুলবো আপনাদের পালিয়ে যাওয়ার পথ থাকবে না। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের নামে সারা বিশ্বে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে এই সরকার। শেয়ার বাজার, হলমার্কসহ কোনো দুর্নীতির বিরুদ্ধেই শাহবাগের তরুণরা কথা বলছে না। তিনি মঙ্গলবারের হরতালে সবাইকে রাজপথে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই হরতাল অতীতে যে কোনো হরতালের চেয়ে কঠিনভাবে পালন করতে হবে। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা, মির্জা আব্বাস, ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল মান্নান, ডা. জাহিদ, অধ্যাপক মান্নান, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, গোলাম আকবর খন্দকার, বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, হাবিব উন খান সোহেল, এম এ মালেক প্রমুখ।