জাতীয় ফুটবল দলে আর খেলবেন না বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মোঃ সুজন। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নেপাল থেকেই বিদায় নিবেন। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ দলের অনুশীলন শেষে মাঠে ইত্তেফাক প্রতিনিধিকে এ তথ্য জানিয়েছেন সুজন। সুজন তার অবসর নেয়ার কথাটি কোচকে না বললেও তিনি সহকারী কোচ রেনে কেস্তারকে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ আজ স্বাগতিক নেপালের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলের বাছাইয়ে খেলতে নামবে। প্রতিযোগিতার ‘ডি’ গ্রুপে আগামী বুধবার নর্দান মারিয়ানার সাথে শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। দশরথ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় ম্যাচটিতেই অবসর নেবেন তিনি।
নেপালে আসার আগে এমন সিদ্ধান্ত ছিল না সুজনের। তবে কি ডাচ কোচ ক্রুইফ সুজনকে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে মাঠে নামাননি বলে অভিমান? কথাটা উড়িয়ে দিয়ে সুজন বললেন, ‘কোনো অভিমান নয়। আমি অনেক আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার পরিবার থেকেও সিদ্ধান্ত নেয়া আছে। বাবা-মা, স্ত্রী, একমাত্র কন্যা আর পুত্র আমার ঘরে। সবাই চায় পরিবারকে সময় দেই। ওরা বলছে অনেক দিন খেলেছ এখন অধিনায়ক থাকা অবস্থায় একটা সিদ্ধান্ত নেয়া ভালো।’
শুধুই কি পরিবার না অন্য কিছু নয় ? অধিনায়ক সুজনের মত-‘ভেবে দেখুন সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, তখন দলে ডাক পাবো কি পাবো না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তা ছাড়া একদিন না একদিন আমাকে তো জাতীয় দল ছাড়তেই হবে। সম্মান থাকতে আগেই সরে গিয়ে নতুনদের জায়গা করে দেয়া উচিত।’
কাঠমান্ডু থেকে টেলিফোনে সুজন তার পরিবারের সাথে কথা বলে অবসরের সিদ্ধান্তটা আরো পাকা করেছেন বলেই মনে হলো। তবে শেষ ম্যাচের আগে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে কিনা জানতে চাইলে সুজন বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েই বলেছি।’
ডাচ কোচ এনে বাংলাদেশের ফুটবল যখন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায় সে সময় দলের সিনিয়র এবং অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার কেন নিজেকে সরিয়ে নেবেন জানতে চাইলে সুজনের জবাব, ‘আমার খারাপ লাগছে। কিন্তু এমন সুযোগ তো আর পাবো না।’ তাহলে নেপালেই কেন অবসরের সিদ্ধান্ত? সুজন মনে করিয়ে দিলেন ‘সেপ্টেম্বরে সাফের আগে আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ নেই। তাই নর্দান মারিয়ানার ম্যাচেই অবসর নিতে চাই।’
ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে তাকে নেয়া হয়নি। ৩১ বছর বয়সের এই ষ্টপার বলেন, ‘ফিলিস্তিনের ম্যাচের দিন সকালে আমার সাথে কথা বলেছেন ক্রুইফ। আমাকে বাইরে রেখে দল গড়া হচ্ছে। আমি কোচকে বলেছি, দেশের স্বার্থে যেভাবে যা কিছু করা প্রয়োজন তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই। দল ভালো খেলুক সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
গত নভেম্বরে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশ ১-১ গোলে ড্র করে। সে ম্যাচে দারুণ খেলেছেন সুজন। কোচকে কি সে ম্যাচটা দেখানো হয়নি জানতে চাইলে সুজন বললেন, ‘আমি জানি না উনাকে (ডাচ কোচ) কে কী বুঝিয়েছেন। একজন প্লেয়ার রেগুলার একাদশে খেলছেন। তিনি কার কাছ থেকে তথ্য নিয়েছেন আমার জানা নেই। কারণ দল গড়ার আগে কোচ তো লিগের খেলাও দেখেননি।’
১৯৯৯ সালে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলা শুরু করেন নারায়ণগঞ্জের ছেলে সুজন। জাতীয় দলে তার ১৩ বছরের ক্যারিয়ার। ২০০৩ সালে ঢাকায় তৃতীয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মালদ্বীপের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে অন্যরা যখন ব্যর্থ হচ্ছিলেন সে সময় সুজনের গোলেই শিরোপা জয় করে বাংলাদেশ।
