যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধে সংসদে পানি বিল

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৩, ২১:৪১
দেশে এই প্রথম পানি নিয়ে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়েছে। পানি সম্পদের সমন্বিত উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা, আহরণ, বিতরণ, ব্যবহার, সুরক্ষা ও সংরক্ষণ সম্পর্কিত বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান করতে পানি বিল-২০১৩ উত্থাপন করেন পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন। গতকাল রবিবার বিকালে বিলটি উত্থাপন করার পর মন্ত্রী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে সংসদে রিপোর্ট দেয়ার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন। পরে এটি কণ্ঠভোটে ১৫ কার্য দিবসের জন্য সংসদীয় কমিটিতে প্রেরণ করা হয়। প্রস্তাবিত আইনে স্থাপনা নির্মাণ বা জলাধার ভরাট করে জলস্রোতের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করলে জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিলে প্রধানমন্ত্রীকে চেয়ারপার্সন করে জাতীয় পানি সম্পদ পরিষদ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এই পরিষদের কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রীকে সভাপতি করে একটি নির্বাহী কমিটি রাখারও বিধান রাখা হয়েছে। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, বার্ষিক ভিত্তিতে প্রাপ্যতা যথেষ্ট হলেও স্থান ও কালভেদে প্রাপ্যতার ব্যাপক তারতম্য নানা রকম সংকটপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি করে। দেশে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নদীগুলোর অববাহিকা অঞ্চলে পানি প্রবাহ বন্যার সৃষ্টি করে। অন্যদিকে শুকনো মৌসুমে পানি সংকট দেখা দেয়। এছাড়া শিল্প বর্জ্য, গৃহস্থালী বর্জ্য, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ক্রমাগত নদী-খাল-বিলের পানি দূষিত করছে। তরল বর্জ্য চুইয়ে ভূগর্ভস্থ পানিকেও দূষিত করছে। পানি একটি প্রাকৃতিক সম্পদ হলেও কোনভাবেই এর যথেচ্ছ ব্যবহারের অবকাশ নেই। একটি সীমিত সম্পদ বিবেচনায় সকলের প্রয়োজন মেটাতে পানির আহরণ, উন্নয়ন ও ব্যবহার সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে হওয়া প্রয়োজন। জাতীয় পানি নীতি-১৯৯৯ এর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য আইনগত কাঠামো আবশ্যক বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে, জলাধার সংরক্ষণ, জলস্রোত স্বাভাবিকসহ পানি সম্পদ সংরক্ষণে বিধান রাখা হয়েছে। বিলে, শিল্প, কৃষি, ইষত্ লোনা পানিতে মত্স্য চাষ এবং হ্যাচারি প্রতিষ্ঠার জন্য যেকোন এলাকাকে পানি অঞ্চল ঘোষণার বিধান রাখা হয়েছে।